বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

১২ বছর বয়সে ফুটবলে হাতেখড়ি, ১৬ বছর বয়সেই বার্ক সিরাজ ক্লাবের জার্সিতে স্বদেশি প্রিমিয়ার লিগে অভিষেক। খেলেছেন বয়সভিত্তিক জাতীয় দলেও। অথচ তাঁর পরিবারের গল্প শুনলে প্রথমেই মনে হতে পারে, খালিদ ফুটবলার কীভাবে হলেন!

দক্ষিণ ইরানের সিরাজ সিটিতে জন্ম। মা–বাবা দুজনই শিক্ষক ছিলেন। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে দুজন চিকিৎসক ও একজন প্রকৌশলী। বড় দুই বোনের পর খালিদের আগমন। মা–বাবার আদর–ভালোবাসার কমতি ছিল না তাঁর জন্য। সেই সুযোগেই নিজের ইচ্ছা পূরণ করে ফুটবলার হওয়ার ছাড়পত্র পেয়ে যান খালিদ। পড়াশোনায়ও কম যাননি। স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন ক্রীড়া ও শারীরিক শিক্ষায়।

বাংলাদেশে খেলা ইরানি ফুটবলারদের কথা বললে ১৯৮৮ সালে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে খেলে যাওয়া স্ট্রাইকার ভিজেন তাহিরি, নাসের হেজাজী, বোরহানজাদে ও নালজেগারের নাম আসবেই। তাঁদের মধ্যে ইরান প্রিমিয়ার লিগে ট্রাক্টর কালচারাল স্পোর্টস ও সাইপা ক্লাবে খেলার সময় তাহিরিকে সহকারী কোচ হিসেবে পেয়েছেন খালিদ। তাহিরি তাই তাঁর কাছে অভিভাবকের মতোই।

default-image

বাংলাদেশের ক্লাবে খেলার প্রস্তাব পাওয়ার পর আগে তাহিরির পরামর্শই নিয়েছেন তিনি। তাহিরি নাকি বলেছিলেন, ‘বসুন্ধরা সম্পর্কে আমার ধারণা নেই। মোহামেডানে প্রস্তাব থাকলে যেতে পারো।’ পরে ইন্টারনেট ঘেঁটে বসুন্ধরা সম্পর্কে ভালো ধারণা পান খালিদ। প্রস্তাবটাও মনঃপূত হওয়ায় রাজি হয়ে যান ঢাকায় আসতে।

ঢাকার ফুটবলে এরপর কেটে গেছে তাঁর দুই মৌসুম। অবশ্য গত মৌসুমটা পুরোপুরি শেষ হলেও তার আগের মৌসুমের লিগ বাতিল হয়ে যায় করোনায়। খালিদ অবশ্য আগামী মৌসুমের জন্যও চুক্তি সেরে নিয়েছেন বসুন্ধরার সঙ্গে।

বাংলাদেশে দুই বছর কাটানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে বলতে গিয়ে এ দেশের মানুষের কথাই আগে বললেন খালিদ, ‘পৃথিবীর অনেক দেশেই গিয়েছি। সব জায়গায়ই ভালো-মন্দ মানুষ আছে। আমার চোখে বাংলাদেশের মানুষের মন সবচেয়ে পরিষ্কার। এ জন্যই দেশটাকে ভালোবেসে ফেলেছি। ভারতের বেঙ্গালুরু এফসি থেকে ভালো প্রস্তাব পেলেও সেখানে যেতে মন টানেনি।’

default-image

ইরানের মতো বাংলাদেশের খাবারও ঝাল। এ দেশের মানুষের মতো তাই এ দেশের খাবারও প্রিয় হয়ে উঠেছে খালিদের। ভিনদেশে এসে তাই কবজি ডুবিয়েই খেতে পারছেন। ফুরসত মিললেই স্ত্রী মারিয়ানাকে নিয়ে ঢাকার রেস্টুরেন্টগুলোতে ঢুঁ মারেন পছন্দের খাবারের খোঁজে।

মারিয়ানা স্কুলজীবন থেকেই সঙ্গী খালিদের। তবে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন বছর পাঁচেক আগে। এখন ছোটবেলার সঙ্গী মারিয়ানাকে নিয়েই ঢাকায় খালিদের সংসার।

ঢাকার ফুটবলের একটা বিষয় খালিদকে একটু অবাকই করে। সতীর্থদের কথাই যদি বলেন, তপু বর্মণ, ইয়াসিন খান, নুরুল নাঈমরা কোনো একাডেমি থেকে উঠে না এসেও কী করে এত ভালো ফুটবল খেলেন!

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের প্রতি তাঁর আহ্বান, ‘খেলা শেখার সুযোগ না থাকা সত্ত্বেও অনেক ভালো ফুটবলার দেখেছি বাংলাদেশে। তার মানে এখানে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে। ফুটবলে উন্নতি করতে চাইলে অনেক একাডেমি করতে হবে। ভালো কোচ নিয়োগ দিতে হবে।’

তবে আর সবকিছু পছন্দ হলেও খালিদের অপছন্দ বাংলাদেশের মাঠ। সেটি এতটাই যে ইরানি ফুটবলার বলেই ফেললেন, ‘এত খারাপ মাঠ আমি আগে কখনো দেখিনি। খেলোয়াড়েরা যে এত চোটে পড়ে, এটা বাজে মাঠের জন্যই।’

খালিদের শেষ কথাগুলো কি শুনল বাফুফে?

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন