হ্যাটট্রিকের পর সতীর্থদের সঙ্গে শেখ রাসেলের নাইজেরিয়ান মিডফিল্ডার ওবি মোনেকে
হ্যাটট্রিকের পর সতীর্থদের সঙ্গে শেখ রাসেলের নাইজেরিয়ান মিডফিল্ডার ওবি মোনেকেছবি: প্রথম আলো

ম্যাচ শেষে ওবি মোনেকের মুখটা যেন পুরো ম্যাচের বিজ্ঞাপন। মুখে হাসি লেগেই ছিল। প্রিমিয়ার লিগে আজ হ্যাটট্রিক করেছেন নাইজেরিয়ান এই মিডফিল্ডার।

তাঁর হ্যাটট্রিকের কল্যাণে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘকে ৪–০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র। অন্য গোলটি মোহাম্মদ আবদুল্লাহর।

ম্যাচ শেষে হ্যাটট্রিকের অভিনন্দন জানালে জাপানি ঢঙে মাথা নিচু করে ধন্যবাদ জানালেন মোনেকে। স্বাভাবিকভাবে হ্যাটট্রিক নিয়ে তাঁর উচ্ছ্বাস, ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ফুটবলে এটি আমার প্রথম হ্যাটট্রিক। দলও পেয়েছে জয়। সতীর্থদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি গোল করতে আমাকে ভালো বল (পাস) দেওয়ার জন্য।’

চলতি লিগে এটি দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। প্রথম হ্যাটট্রিকটি শেখ জামাল ধানমন্ডির গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড ওমর জোবের। এই আরামবাগের বিপক্ষেই ৬–০ গোলের জয়ের ম্যাচে একাই ৪ গোল করেছিলেন জোবে।

লিগে ৬টি ম্যাচ খেলে সব কটিতেই হারল আরামবাগ। সব মিলিয়ে তারা এ পর্যন্ত ৬ ম্যাচে গোল হজম করল ১৮টি। এর বিপরীতে তারা করেছে মাত্র ২ গোল।

বিজ্ঞাপন

অথচ মোনেকেকে নিয়ে একটা ফাটকা খেলেছিলেন শেখ রাসেল কোচ। দলের মূল ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার জিয়ানকার্লো রদ্রিগেজ করোনার কারণে মাঠের বাইরে।

তাই স্ট্রাইকার হিসেবে মোনেকে সুযোগ পেয়ে যান। হ্যাটট্রিকে ম্যাচটি দারুণভাবে স্মরণীয় করে রাখার সঙ্গে কোচের আস্থার প্রতিদানও দেন তিনি।

১০ মিনিটের ব্যবধানে গোলগুলো করেন তিনি। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে গোলের মালা গাঁথা শুরু করে হ্যাটট্রিক করেন ৪৬ মিনিটে।

প্রথম গোলে অ্যাটাকিং থার্ডের ওপর থেকে সতীর্থ বখতিয়ার দুশবেকভকে পাস দিয়ে ফিরতি বলের আশায় পেনাল্টি সীমানার মধ্যে জায়গা নিয়েছিলেন। প্রত্যাশিত সে বলও পেয়ে যান মোনেকে।

default-image

নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান পায়ের জোরালো শটে ব্যবধান ১–০। অবাক করা ব্যাপার, তাঁকে বাধা দেওয়ার মতো আরামবাগের কোনো খেলোয়াড়কে দেখা যায়নি!

এর ৩ মিনিট পর মোনেকের আরও একটি দুর্দান্ত গোল—প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে বুলেটগতির শটে।

তখনই বোঝা যাচ্ছিল, আজও বড় ব্যবধানে হারতে যাচ্ছে আরামবাগ। ম্যাচে কখনোই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি তারা। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম মিনিটেই খালেকুজ্জামান সবুজের ক্রসে হেডে বল জালে পাঠিয়ে হ্যাটট্রিক তুলে নেন মোনেকে।

২০১২–১৩ মৌসুমের ট্রেবলজয়ীরা যেখানে উড়ছে, সেখানে আরামবাগের কিছু খেলোয়াড়ের শরীরী ভাষাতেই খেলার অনীহা। দ্বিতীয়ার্ধে তাঁদের খেলা দেখে মনে হয়েছে, খেলাটা শেষ করতে পারলেই যেন তাঁরা বাঁচেন!

৭৩ মিনিটে ব্যবধান অনায়াসে ৪–০ করেছেন আবদুল্লাহ। খালেকুজ্জামানের কাট ব্যাক বক্সের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দেখেশুনে গোলটি করেন তিনি। লিগে জাতীয় দলের এই মিডফিল্ডারের গোল হলো ৩টি। এ জয়ে ৭ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে শেখ রাসেল।

default-image

অন্যদিকে আজ কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ পুলিশ ক্লাবের বিপক্ষে ১–০ গোলে জয় পেয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। গোল করে ম্যাচের মীমাংসা করেছেন মোহামেডান অধিনায়ক উরু নাগাতা।

এ জয়ে ৭ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ছয়ে মোহামেডান। এক ম্যাচ কম খেলে ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের নয়ে পুলিশ ক্লাব।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন