রোনালদো গোল করতে পারেননি।
রোনালদো গোল করতে পারেননি। ছবি: রয়টার্স

ম্যাচটা হারলে চাকরি নিয়ে টানাটানি পড়ে যেত নাপোলির কোচ জেনারো গাত্তুসোর। সেটা যেন হতে না দেওয়ার পণ করে মাঠে নেমেছিলেন রোনালদোরা!

প্রশ্ন উঠতেই পারে, রোনালদোরা খেলেন জুভেন্টাসের হয়ে, তাঁদের জন্য নাপোলির কোচের চাকরি বাঁচবে কেন? কারণ একটাই, নাপোলির বিপক্ষে গত রাতের ম্যাচটা হেরেছেন রোনালদোরা! লরেঞ্জো ইনসিনিয়ার একমাত্র পেনাল্টি গোলই নিয়ন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে শেষমেশ। নাপোলি জিতেছে ১-০ গোলে।

আবার ব্যাপারটা অনেকটা এভাবেও দেখা যায়, সেই খেলোয়াড়ি জীবন থেকেই জুভেন্টাসের কোচ আন্দ্রেয়া পিরলো আর নাপোলির কোচ জেনারো গাত্তুসো একদম প্রাণের বন্ধু। জাতীয় দলে দুজন একই সঙ্গে জিতেছেন বিশ্বকাপ। পিরলোর আত্মজীবনীতেও এই দুজনের খুনসুটি নিয়ে বেশ বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা আছে। নিন্দুকেরা তাই চাইলে বলতেই পারে, প্রিয় বন্ধুর চাকরি রক্ষা করার জন্য হলেও এই ম্যাচটায় নিজের শতভাগ দেননি পিরলো!

বিজ্ঞাপন

তবে যা-ই হোক না কেন, দিন শেষে লাভ হয়েছে নাপোলিরই। কিছুদিন আগে সুপারকোপা ইতালিয়ানার ফাইনালে এই নাপোলিকেই ২-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল জুভেন্টাস। গোল করেছিলেন রোনালদো ও স্প্যানিশ স্ট্রাইকার আলভারো মোরাতা। সে হিসাবে গত রাতের জয়টা অনেকটা 'প্রতিশোধ'–এর মতোই লাগার কথা নাপোলি খেলোয়াড়দের কাছে!

শীর্ষ লিগে গত রাতে নিজের ৪০০তম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন বর্ষীয়ান ইতালিয়ান ডিফেন্ডার জর্জো কিয়েল্লিনি। দুর্দান্ত এই উপলক্ষটা ভুলেই যেতে চাইবেন তিনি। শুধু ম্যাচ হেরেছেন সেটার জন্যই নয়, বরং জুভেন্টাস ম্যাচটা হেরেছেও তাঁর একটা ভুলের কারণেই।

ইনসিনিয়ার একটা ফ্রি-কিক সামলাতে দিয়ে বক্সের মধ্যে ঝাঁপ দেওয়ার সময় নাপোলির কসোভান ডিফেন্ডার আমির রহমানির মুখে হাত দিয়ে আঘাত করে বসেন কিয়েল্লিনি। বক্সে পড়ে যান রহমানি। ভিএআরের সাহায্য নিয়ে পরে নাপোলিকে পেনাল্টি দেন রেফারি। সেখান থেকে গোল করেই দলকে এগিয়ে দেন ইনসিনিয়া।

default-image

এরপর আর হাজারো চেষ্টা করেও গোল করতে পারেননি রোনালদোরা। ফ্রি-কিক থেকে দুবার গোল করার সুযোগ পেলেও হেলায় হারিয়েছেন এই পর্তুগিজ তারকা। নাপোলির ইতালিয়ান গোলরক্ষক অ্যালেক্স মেরেতও বেশ ভালো কয়েকটা সেভ করে ম্যাচে রাখেন নাপোলিকে। শেষমেশ পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ে নাপোলি।

এই জয়ে ২১ ম্যাচে ৪০ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের চতুর্থ স্থানে চলে এল নাপোলি। জুভেন্টাস সমান সংখ্যক ম্যাচে ২ পয়েন্ট বেশি নিয়ে তাদের ঠিক ওপরে। শীর্ষে থাকা এসি মিলানের পয়েন্ট জুভেন্টাসের চেয়ে এখনো ৭ বেশি, যদিও মিলান ম্যাচও একটি বেশি খেলেছে। দুইয়ে থাকা ইন্টার মিলানের পয়েন্ট ২১ ম্যাচে ৪৭।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন