ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা।
ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা।ছবি: এএফপি

আপাতদৃষ্টে মনে হতে পারে, পেপ গার্দিওলা যে পাতে খাচ্ছেন সেই পাতেরই দুর্নাম করছেন! এ জন্য তাঁর চাকরিও হয়তো চলে যেতে পারে, কে জানে! কিন্তু সুপার লিগের বিরোধীদের কাছে মনে হতে পারে, এমন সময় কারও এভাবে কথা বলা দরকার ছিল। ভীষণ দরকার ছিল!

তা, কী কথা বলেছেন ম্যানচেস্টার সিটি কোচ? সুপার লিগ নাকি কোনো খেলাই নয়! কারণ, প্রস্তাবিত এ টুর্নামেন্টে উন্নতি কিংবা অবনতি বলে কিছু নেই। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগ দিয়ে উদাহরণটা দেওয়া যায়। প্রতি মৌসুমেই এসব লিগ থেকে কিছু দলের অবনমন ঘটে। টেবিলের তলানির তিন দল নেমে যায় এক ধাপ নিচের লিগে। আবার দ্বিতীয় বিভাগ থেকেও শীর্ষস্থানীয় লিগে উঠে আসার সুযোগ রয়েছে।

আবার চ্যাম্পিয়নস লিগে সরাসরি কিংবা কোয়ালিফাই খেলে ওঠারও ব্যবস্থা রয়েছে ইউরোপের ঘরোয়া লিগগুলোতে। এসব ব্যবস্থা আছে বলেই তো লিগগুলো এত জমজমাট, দেখতে ভালো লাগে। খেলায় যদি অনিশ্চয়তাই না থাকল, আর সেই অনিশ্চয়তা যদি উতরে যাওয়ার মজা না মেলে—তাহলে সেটা কি খেলা?

বিজ্ঞাপন

গার্দিওলার কথায় ঠিক এ প্রশ্নেরই আভাস মেলে। যে ১২টি ক্লাব একজোট হয়ে মহা বিতর্কিত সুপার লিগ আয়োজন করতে চায়, তাদের মধ্যে রয়েছে ম্যানচেস্টার সিটিও। এই ক্লাবগুলো চ্যাম্পিয়নস লিগের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী টুর্নামেন্ট সুপার লিগ আয়োজন করতে চায়। জোটবদ্ধ ক্লাবগুলো চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলতেও অনাগ্রহী।

সুপার লিগে তারা মোট ২০ দল নিয়ে খেলবে। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠাতা ১৫টি ক্লাব সব মৌসুমেই খেলবে। কোনো অবনমনের বালাই নেই তাদের। বাকি ৫টি ক্লাবকে কোয়ালিফাই খেলে আসতে হবে। ক্লাবগুলোর নাম একবার দেখুন—রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, লিভারপুল, জুভেন্টাস, এসি মিলান, ইন্টার মিলান, চেলসি, আর্সেনাল, টটেনহাম, আতলেতিকো মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ম্যানচেস্টার সিটি। এই ১২টি ক্লাব ছাড়াও আরও তিনটি ক্লাবের কথা বলেছে ইউরোপিয়ান সুপার লিগ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া জোট। তবে এই তিন ক্লাবের নাম এখনো প্রকাশ হয়নি।

সে যাই হোক, দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে ‘হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে’ ভিত্তিতে একে–অপরের বিপক্ষে খেলবে এই বড় ক্লাবগুলো। এসব ক্লাবে সিংহভাগ তারকা খেলোয়াড় থাকায় সম্প্রচারস্বত্ব ও অন্যান্য খাত থেকে প্রচুর অর্থ আয়ের সুযোগ থাকছে ক্লাবগুলোর। উয়েফার প্রতিযোগিতার চেয়েও অঙ্কটা অনেক বেশি হবে। তাহলে হিসাবটা কী দাঁড়াল? ওই ১৫টি ক্লাব যত বাজে পারফরম্যান্সই করুক, প্রতি মৌসুমেই তারা খেলবে এবং উপার্জিত অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেবে। কী চমৎকার ফেয়ার প্লে!

কথাটা মশকরা করে বলা। এ মুহূর্তে এই ক্লাবগুলোর সমর্থকেরাই এমন টিটকিরি ও মজা করছেন। কিন্তু গার্দিওলা স্বয়ং সিটির কোচ হিসেবে তো তা করতে পারেন না। স্প্যানিশ এই কোচ বরং খেলা নিয়েই বাস্তব প্রশ্নটি তুলেছেন, এটা কি খেলা?

এই ১২ ক্লাবের কোচদের মনের কথাটাই যেন সংবাদমাধ্যমকে বললেন গার্দিওলা, ‘সত্যি কোচরা এ সমন্ধে বেশি কিছু জানেন না। কমিটির সভাপতি ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও পরিষ্কার করে সব বলতে পারবেন। আমাদের কাছে সব তথ্য নেই। আমি নিজে যা মনে করি, সেটুকু বলতে পারি।’ গার্দিওলা এরপর সুপার লিগের ফরম্যাট ধরে সোজাসাপ্টাই বলেন, ‘এটা কোনো খেলা নয়, কারণ চেষ্টা ও সফলতার মধ্যে সম্পর্কটা (সুপার লিগে) এখানে নেই। যেখানে সফলতা আগে থেকেই ঠিক করা এবং কিছু সময়ে হারে কোনো কিছু যায় আসে না—সেটা কোনো খেলা হতে পারে না। কিন্তু এ মুহূর্তে এটা শুধুই একটা বিবৃতি ছাড়া আর কিছুই নয়।’

সুপার লিগের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ—রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি। পেরেজর প্রতি আঙুল তুলে গার্দিওলা বলেছেন, ‘কমিটির সভাপতি গোটা বিশ্বকে বলতে পারবেন, তিনি কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নির্দিষ্ট এই দলগুলোকে বেছে নিয়ে কেন এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে, সেটা আমি জানি না।’

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন