লিভারপুলের সঙ্গে তো এই মৌসুমে প্রায় সব শিরোপার পথেই তুলনা চলেছে গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটির, এফএ কাপে সিটিকে হারিয়েই ফাইনালে উঠেছে লিভারপুল। চ্যাম্পিয়নস লিগে লিভারপুল-সিটি ফাইনাল হয়নি সিটি সেমিফাইনালে শেষ মুহূর্তে রিয়াল মাদ্রিদের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের শিকার হওয়ায়। লিগে শিরোপার ইঁদুরদৌড়ে সিটি আবার এগিয়ে আছে লিভারপুলের চেয়ে।

গত শনিবার নিজেদের মাঠে টটেনহামের সঙ্গে ড্র করে লিভারপুল আরেকটু পিছিয়ে পড়েছে। পরের দিন নিউক্যাসলকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে লিভারপুলের সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধানটা সিটি ৩-এ নিয়ে যাওয়ার পর সংবাদমাধ্যমে লিভারপুলকে নিয়ে প্রশ্নেই অমন মন্তব্য করে বসেছিলেন গার্দিওলা। ‘এই দেশের সবাই লিভারপুলকে সমর্থন করে। গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সবাই’—সিটি কোচের অনুযোগ এ-ই।

পাশাপাশি লিভারপুলকে আবার খোঁচাও মেরেছেন গার্দিওলা, ‘ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় লিভারপুলের অসাধারণ ইতিহাস রয়েছে। কিন্তু প্রিমিয়ার লিগে নেই, কারণ গত ৩০ বছর তারা মাত্র একবার লিগ জিতেছে। ১১ থেকে ১২ বছর ধরে সিটি লিগ শিরোপার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে যাচ্ছে। আমি জানি ব্যাপারটা কিছু ভক্তের জন্য বিরক্তিকর, কিন্তু ওসব পাত্তা দেওয়ার সময় নেই আমাদের। মানুষ যদি চায় লিভারপুল বেশি বেশি ম্যাচ জিতুক, সেটায় আমাদের কিছু বলার নেই।’

জানি না পেপ (গার্দিওলা) ঠিক কী রকম মানসিক অবস্থায় ছিল। চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বাদ পড়া এমনিতেই মেনে নেওয়া খুব কঠিন, তার ওপর লিভারপুল ফাইনালে উঠেছে।
লিভারপুলকে ঘিরে গার্দিওলার মন্তব্যের কারণ ব্যাখ্যায় ইয়ুর্গেন ক্লপ

এ নিয়ে গতকাল প্রশ্ন হলো ক্লপের সংবাদ সম্মেলনে। প্রশ্নটা যখন হচ্ছে, শুনতে শুনতেই সে কী হাসি ক্লপের! ‘হেসে কুটিকুটি’ শব্দটার আক্ষরিক প্রয়োগ যেন! এরপর উত্তরে অবশ্য প্রথমে গার্দিওলার ভুল ভাঙানোর চেষ্টা ক্লপের, ‘আমি লিভারপুলে বাস করি, তাই বলতে পারি, হ্যাঁ, এখানে (লিভারপুলে) অনেক মানুষ চায় আমরা যেন লিগ জিতি। তবে এখানেও (লিভারপুল শহরে) সম্ভবত শুধু ৫০ ভাগ মানুষ চায় সেটা।’ লিভারপুল শহরেই যে আরেক ক্লাব এভারটন আছে, যাদের সমর্থকদের কাছে লিভারপুল শত্রুসম!

এরপর গার্দিওলা কোন অনুভূতি থেকে কথাটা বলে থাকতে পারেন, সেটির একটা ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন লিভারপুল কোচ। শনিবার টটেনহামের বিপক্ষে ম্যাচের পর টটেনহামের রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে খোঁচা মেরেছিলেন ক্লপ নিজেই।

সেটির প্রসঙ্গ টেনে এনে ক্লপের ব্যাখ্যা, ‘কোচ হিসেবে আমার সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা থেকেই বলতে পারি, একটা ম্যাচের পরপর খুব স্বাভাবিকভাবেই সেই ম্যাচ, সার্বিক পরিস্থিতি আমাদের মনে প্রভাব ফেলে। (টটেনহাম) ম্যাচের পর আমি বলেছিলাম, “ওরা এভাবে খেলে বলেই ওরা পঞ্চম।” ওই মুহূর্তে কথাটা বলে খুব ভালো লেগেছিল, কিন্তু ওটা বলা ভুল ছিল। কিন্তু ওটা তো আমার ওই মুহূর্তের অনুভূতি। আন্তোনিওর (টটেনহাম কোচ কন্তে) প্রতি আমার সম্মানের কখনো কমতি হবে না। তিনি যা করছেন, দলকে যেভাবে খেলান, অসাধারণ!’

default-image

গার্দিওলার ক্ষেত্রে নিউক্যাসল নয়, তার চার দিন আগে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায় নেওয়ার ব্যথাই মনে কাজ করেছে বলে অনুমান ক্লপের, ‘জানি না পেপ (গার্দিওলা) ঠিক কী রকম মানসিক অবস্থায় ছিল। চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বাদ পড়া এমনিতেই মেনে নেওয়া খুব কঠিন, তার ওপর লিভারপুল ফাইনালে উঠেছে। এমন মুহূর্তে এটাও মনে হতে পারে যে “ওরা তো ভিয়ারিয়ালের মতো দলের বিপক্ষে খেলেছে, আমাদের খেলতে হয়ে রিয়ালের বিপক্ষে।” সেখান থেকেও এমন কিছু আসতেই পারে।’

লিভারপুলের ত্রিশ বছরে মাত্র একবার লিগ জেতা নিয়ে গার্দিওলার খোঁচাকেও সহজেই মেনে নিয়েছেন ক্লপ, ‘সে তো ঠিকই বলেছে। আমি টটেনহামের ব্যাপারেও ভুল বলিনি (টটেনহাম লিগের পাঁচ নম্বরে আছে)। সে-ও (গার্দিওলা) ঠিক বলেছে যে আমরা মাত্র একবার প্রিমিয়ার লিগ জিতেছি।’

আর ইংল্যান্ডে সবার লিভারপুলকে সমর্থন করা? গার্দিওলার সে মন্তব্যের জবাবও সহজ সুরেই দিয়েছেন ক্লপ, ‘পুরো দেশ আমাদের সমর্থন করে কি না, এ ব্যাপারে আমার কোনো ধারণা নেই। প্রতিপক্ষের মাঠে খেলতে গেলে আমার তো এমন মনে হয় না, বরং উল্টোটাই মনে হয়। তবে হয়তো সে এ ব্যাপারে আমার চেয়ে বেশি ধারণা রাখে।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন