default-image

সিটিতে যাওয়ার পরই স্ত্রী রিতা জোহালের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে যায় তাঁর। সংসার ভাঙার পেছনে সিটিকেই দুষেছেন এই মডেল, ‘ওই দলে (সিটিতে) গিয়ে আমার স্বামীর মধ্যে অনেক পরিবর্তন আসে। খ্যাতি-যশ-প্রতিপত্তি ওর মাথা ঘুরিয়ে দেয়। যে রিয়াদকে আমি চিনতাম, সিটিতে যাওয়ার পর সে আর ওই রিয়াদ ছিল না। সে উদ্দাম জীবনযাপন করা শুরু করেছিল।'

সিটির হয়ে খেলতে গিয়ে বদলে যাওয়া মাহরেজ রিতার ভালোবাসার দাম দেননি, ‘নাহ, ওকে আমি ঘৃণা করি না। এটা অনেক বড় একটা কথা বলা হয়ে যাবে। তবে ওর পরিবর্তন দেখলে আমার কষ্ট হয়, চমকে যাই বারবার। ভাবি, যে ও কীভাবে এমন হতে পারল। ও হুট করে আমাকে ছেড়ে চলে যায়। ম্যানচেস্টার সিটিতে খেলা যে কত বড় চাপ, ও এটাকেই কারণ হিসেবে দেখিয়েছিল। এখন ও সারাক্ষণ এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়ায়, ছুটি কাটায়। কারওর তোয়াক্কা করে না।’

default-image

২০১৪ সালে মাহরেজের সঙ্গে পরিচয় হয় রিতার। প্রথম দর্শনেই প্রেম যাকে বলে! শুরুর দিকে রিতা বলতে পাগল হয়ে যেতেন মাহরেজ, ‘২০১৪ সালে আমার ধারণাও ছিল না ওর ব্যাপারে। ও তখন এত বড় ফুটবলারও ছিল না। কিন্তু সে অনেক ভালো মানুষ ছিল। সব সময় আমার সৌন্দর্যের প্রশংসা করত। আমার ব্যাপারে জানতে চাইত। আমার মনে হতো আমি বিশেষ কেউ। ও বলত ও আমাকে ভালোবাসে, আমার সঙ্গে সংসার করতে চায়।’

প্রেমকে পরিণয়ে রূপ দিতে বেশি দেরি করেনই দুজন। দুজনই চেয়েছিলেন শান্তিময় সংসার জীবন। যে কারণে ঘরোয়াভাবেই একে অন্যকে জীবনসঙ্গী করে নেন, ‘কিছুদিনের মধ্যেই আমাদের বিয়ে হয়ে যায়, আমরা ছোটখাটো একটা বিয়ের অনুষ্ঠান করি আমাদের বাড়িতে।’

মাহরেজকে এতই ভালোবাসতেন, যে নিজের ধর্মবিশ্বাসেও পরিবর্তন আনেন রিতা, ‘আমি ওকে ভালোবাসতাম। ওর জন্য আমি আমার মধ্যে পরিবর্তন আনি। নিজের ধর্মও বদলে ফেলি। ও যেহেতু পান করত না, আমিও অ্যালকোহল পান করা ছেড়ে দিই। ও মূল্যবোধকে শ্রদ্ধা করতাম আমি। নির্ঝঞ্ঝাট সংসার চেয়েছিলাম, আমার বাবা-মায়ের মতো। রিয়াদও সেটাই চেয়েছিল। আমরা পাগলের মতো একে অন্যকে ভালোবাসতাম। সারা জীবন একসঙ্গে থাকতে চেয়েছিলাম।’

default-image

কিন্তু এর পরেই সবকিছু বদলে যায়। লেস্টার থেকে রিয়াদ মাহরেজ নাম লেখান সিটিতে। আর সেটাই কাল হয়ে দাঁড়ায়। বদল আসে মাহরেজের জীবনযাত্রায়, রিতাকে যার দাম চুকাতে হয় সংসার-বিসর্জন দিয়ে, ‘একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ার বেশি দিনের হয় না। তাঁদের সব সময় মাটিতে পা রাখা উচিত। মাথায় রাখা উচিত, বিপদের দিনে কে তার জন্য থাকবে আর কে থাকবে না। কে তাঁকে ভালোবাসে আর কে বাসে না। এমনকি তাঁরা যখন বড় কোনো ক্লাবে যায়, তখনো বিষয়গুলো মাথায় রাখা উচিত। কারণ, সব যখন শেষ হয়ে যাবে, তখন শুধু ওসব মানুষই পাশে থাকবে যারা আসলেই তাঁকে ভালোবাসত।’

এই মৌসুমে ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনের সিটিতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টটেনহামের জেদের কাছে হার মানতে হয়েছে গার্দিওলার দলকে। কেইন অন্তত এই মৌসুমে দল ছাড়ছেন না, যাচ্ছেন না সিটিতে। কেইনের সিটিতে যেতে না পারা নিয়ে আর কেউ খুশি হোক বা না হোক, রিতা বেশ খুশি হয়েছেন। তাঁর মনে হয়েছে, সিটিতে গেলে পরিবর্তন আসত কেইনের মধ্যেও। সেটা হচ্ছে না দেখে কেইনের স্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রিতা, ‘হ্যারি কেইনের বউ বড় বাঁচা বেঁচে গেছে। অন্য ফুটবলারদের স্ত্রীদেরও সতর্ক থাকা উচিত।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন