দুই দলের খেলোয়াড়েরা হোটেলেই ছিলেন।
দুই দলের খেলোয়াড়েরা হোটেলেই ছিলেন। ছবি: রয়টার্স

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বনাম লিভারপুল—ইংলিশ ফুটবলের সবচেয়ে ঐতিহাসিক ম্যাচ এটি। এই মৌসুমে লিগের শিরোপাদৌড়ে ঠিক এই দুই দল না থাকলেও এই ম্যাচ আজ করে দিতে পারত প্রিমিয়ার লিগের শিরোপার নিষ্পত্তি। পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটিও তাই ইউনাইটেডের মাঠ ওল্ড ট্রাফোর্ডে হতে যাওয়া এই ম্যাচের দিকে তাকিয়ে ছিল। কিন্তু ম্যাচের আগে ক্লাবের মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে ম্যান ইউনাইটেডের সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে ম্যাচটা আজ আর হতেই পারল না।

ক্লাবের মালিকপক্ষ গ্লেজার্স পরিবারের প্রতি বিক্ষোভ জানিয়ে প্রায় দুই শ ইউনাইটেড সমর্থক আজ নিরাপত্তারক্ষীদের দমিয়ে রেখে ঢুকে পড়েন ওল্ড ট্রাফোর্ডে। আতশবাজি পোড়ানো হয়, গ্লেজার্স পরিবারকে ক্লাব ছেড়ে বেরিয়ে যেতে স্লোগান দেওয়া হয়েছে, এর মধ্যে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভও হয়েছে সমর্থকদের। স্টেডিয়ামের বাইরেও অনেক সমর্থক রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সব মিলিয়েই ম্যাচ আয়োজনের জন্য প্রতিকূল পরিস্থিতি দেখে প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে, এই ম্যাচ আপাতত স্থগিত করা হচ্ছে। ম্যাচটা আবার কবে হবে, তা এখনো জানানো হয়নি।

এই ম্যাচে লিভারপুল ইউনাইটেডকে হারিয়ে দিলেই অঙ্কের হিসাবেও ম্যানচেস্টার সিটির শিরোপা জেতা নিশ্চিত হয়ে যেত। এখন সেটি নিশ্চিত করতে আরও অপেক্ষা করতে হচ্ছে গার্দিওলার দলকে।

বিজ্ঞাপন

গ্লেজার্স পরিবারের ওপর ইউনাইটেড সমর্থকদের ক্ষোভ তো অনেক দিন ধরেই। মাঝে ইউরোপের নামীদামি ১২টি ক্লাবের ‘বিদ্রোহী টুর্নামেন্ট’ ইউরোপিয়ান সুপার লিগের পরিকল্পনার পেছনে ইউনাইটেডও বড় ভূমিকা রেখেছে, এটা জানার পর সমর্থকদের ক্ষোভটা আরও বেড়েছে। ‘গ্লেজার্স আউট’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ বেড়েছে এরপর থেকেই। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচ, যেটি কিনা ইংলিশ ফুটবলের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপনও...সব মিলিয়েই হয়তো আজকের ম্যাচটিকে নিজেদের প্রতিবাদের ভাষা জানানোর সবচেয়ে ভালো মঞ্চ মনে হয়েছে ইউনাইটেড সমর্থকদের।

সেটির পরিপ্রেক্ষিতে ম্যাচ স্থগিত হওয়ার ঘোষণা দিয়ে বিবৃতিতে ইউনাইটেড লিখেছে, ‘পুলিশ, প্রিমিয়ার লিগ, ট্রাফোর্ড কাউন্সিল ও দুই ক্লাবের আলোচনার পর ঠিক হয়েছে, আজকের বিক্ষোভের পর নিরাপত্তাজনিত শঙ্কার কারণে লিভারপুলের সঙ্গে আমাদের ম্যাচটা স্থগিত করা হলো।’

default-image

সমর্থকদের এভাবে আন্দোলনকে সম্মান জানিয়েই বিবৃতিতে ইউনাইটেড পরে লিখেছে, ‘আমাদের সমর্থকেরা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে নিয়ে অনেক আবেগী, তাঁদের এই মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকারকে আমরা সম্মান জানাই। কিন্তু দুই দলের যে ক্ষতি হয়েছে, ভক্ত, কর্মকর্তা ও পুলিশকে যেভাবে নিরাপত্তাশঙ্কায় ফেলা হয়েছে, সেটা নিয়ে আমরা আফসোস জানাই। সমর্থনের জন্য পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই। এটা নিয়ে যেকোনো তদন্তে আমরা তাঁদের সহায়তা করব।’

স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে চারটায় আজ ম্যাচটা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সমর্থকদের প্রতিবাদের পর প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আলোচনা হয়, এরপর আসে ম্যাচ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত।

প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ বিবৃতিতে লিখেছে, ‘ওল্ড ট্রাফোর্ডে সবার নিরাপত্তা এ মুহূর্তে আমাদের ভাবনায় সবচেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে। আমরা সমর্থকদের বিক্ষোভের কারণ বুঝতে পারছি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মানও করছি। কিন্তু সব ধরনের সহিংসতা, ষড়যন্ত্রমূলক ক্ষতি সাধন ও (মাঠে) অনধিকার প্রবেশের নিন্দা জানাই। সমর্থকদের নিজেদের মতামত জানানোর অনেক উপায় আছে, কিন্তু অল্প কয়েকজনের যে কার্যকলাপ দেখেছি, সেটার কোনো ব্যাখ্যা হতে পারে না।’

default-image

ইউনাইটেড সুপার লিগে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর কদিন আগে ইউনাইটেডের অনুশীলন মাঠেও ঢুকে পড়েছিলেন ক্লাবটির কয়েকজন বিক্ষুব্ধ সমর্থক। যুক্তরাষ্ট্রের গ্লেজার্স পরিবার ২০০৫ সালে দেনা-জর্জরিত ইউনাইটেডের মালিকানা নিয়ে নেওয়ার পর ব্যবসায়িক দিক থেকে ইউনাইটেড অনেক লাভ করেছে বটে, তবে ক্লাব থেকে লভ্যাংশ সব সময়ই তুলে নিয়েছেন তাঁরা—এমনটাই অভিযোগ ইউনাইটেড সমর্থকদের।

মাঠে ক্লাবের সাফল্য ফেরানোর চেয়ে ইউনাইটেড নামটা ব্যবহার করে পকেট ফোলানোর চেষ্টা করছেন তাঁরা, এমন অভিযোগ তুলেই সব সময় গ্লেজার্স পরিবারের ক্লাব থেকে বিদায় দাবি করে এসেছেন ইউনাইটেডের সমর্থকেরা।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন