গার্দিওলা নয়, ইতালির দরকার....

বড় অদ্ভুতভাবেই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ল ইতালিছবি: এএফপি

এমন যে হবে, ছয় মাস আগেও কি ভাবতে পেরেছিল ইতালি!


২০১৮ সালের বিশ্বকাপে সুযোগ না পেয়ে রবার্তো মানচিনির অধীনে নিজেদের ফুটবল দলের চেহারাই পাল্টে ফেলেছিল ইতালি। যার সুফলও তারা পেয়েছে, গত বছরের ইউরোতে। দারুণ খেলে ইউরো জেতা সেই ইতালিই ছয় মাস পর ফিরে গেল সেই পুরোনো হতাশার বৃত্তে।

উত্তর মেসিডোনিয়ার বিপক্ষে প্লে-অফ সেমিফাইনাল হেরে বিসর্জন দিয়েছে নিজেদের বিশ্বকাপ-স্বপ্ন। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ খেলতে পারেনি ইতালি, চারবারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নদের দেখা যাবে না এ বছর কাতারেও।


কিন্তু এমনটা হচ্ছে কেন? ইতালি কেন টানা দুবার বিশ্বকাপের আগেই মুখ থুবড়ে পড়ল? কিংবদন্তি ইতালিয়ান কোচ ফাবিও ক্যাপেলো বেশ কিছু কারণ বের করেছেন এই ব্যর্থতার। তাঁর মতে, ইতালি এখনো সাবেকি ঘরানার ফুটবলেই পড়ে আছে। আজ থেকে দেড় দশক আগে পেপ গার্দিওলা বার্সেলোনায় যেমন ফুটবল খেলিয়েছিলেন, ইতালি এখনো সেই ধরনটাই অনুসরণ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

ইংল্যান্ডের সাবেক কোচ ফাবিও ক্যাপেলো।
ফাইল ছবি: এএফপি

কিন্তু এই দেড় দশকে ফুটবল যেভাবে কৌশলগতভাবে আরও আধুনিক হয়েছে, সে খেয়াল নেই ইতালির, ‘আমাদের ইতালিয়ান লিগ এমন এক জায়গা, যেখানে এমন ধরনের ফুটবল দেখা যায়, যা ১৫ বছর আগে গার্দিওলা দেখিয়েছে। ছোট ছোট পাশাপাশি পাস, সোজাসুজি রক্ষণচেরা আক্রমণের পরিকল্পনা নেই কোনো, শারীরিকভাবে শক্তিশালী খেলোয়াড় নেই, যারা গা-জোয়ারি খেলা খেলতে পারে।'


গার্দিওলা আগে যেমন ফুটবল খেলাতেন, তেমন নয়, বরং ইয়ুর্গেন ক্লপ লিভারপুলকে যেমন ফুটবল খেলান, সে ঘরানা অনুসরণ করতে বলেছেন এসি মিলান, জুভেন্টাস, রিয়াল মাদ্রিদ, এএস রোমা, ইংল্যান্ড জাতীয় দলের সাবেক এই কোচ।

টানা দুই বিশ্বকাপ আয়োজিত হবে ইতালিকে ছাড়াই
ছবি: রয়টার্স

স্প্যানিশ নয়, বরং জার্মান ঘরানার ফুটবলের প্রতিই বেশি আগ্রহী ক্যাপেলো, ‘ইয়ুর্গেন ক্লপ যেভাবে ফুটবল খেলায়, জার্মান ঘরানার খেলা, আমাদের ওই মডেল অনুসরণ করতে হবে। ইতালিতে শুধু আতালান্তাই ও রকম ফুটবল খেলে, ওদের ফলাফলটা দেখুন। ইউরোপে ওরা খুব দ্রুতগতির ফুটবল খেলে। যে ধরনের ফুটবলের সঙ্গে আমরা পরিচিত নই। আমাদের এমন কোনো খেলোয়াড় নেই, যারা রক্ষণ থেকে খেলা গড়তে পারে। পেছন থেকে লং পাস দিতে পারে। ইতালিয়ানো (ফিওরেন্তিনার কোচ) অনেকটা ওভাবে খেলায়, জেনোয়াতে আলেকসান্দার ব্লেসিনও অমন ফুটবল খেলানোর চেষ্টা করছে। আমি আবারও বলছি, জার্মান ফুটবলই আমাদের অনুসরণ করতে হবে।’


ইতালিয়ান লিগের মান নিয়েও বেশ অসন্তুষ্ট ক্যাপেলো। তাঁর মতে, অন্যান্য লিগে যেসব খেলোয়াড় আলো ছড়াতে পারেন না, তাঁরাই সিরি আ তে এসে আলো ছড়ান, ‘আমরা যদি স্প্যানিশ ফুটবল অনুসরণ করতে চাই তাহলে হবে না, ওভাবে খেলার মতো টেকনিকাল সামর্থ্য আমাদের নেই। আমরা এমন একটা লিগে খেলি যেখানে গোলকিপারদের নিয়মিত পাস ফেরত দেওয়া হয়, যেখানে লুকাকু, আব্রাহাম আর ওসিমহেনের মতো স্ট্রাইকাররা দুর্দান্ত খেলে। যে খেলোয়াড়েরা অন্য লিগে খুবই সাধারণ মানের ছিল।’

ইতালির ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী কোচ হিসেবে ক্যাপেলোর নাম ওপরের দিকেই থাকবে। মিলান, রোমা, রিয়ালের হয়ে সম্ভাব্য সব ধরনের শিরোপাই জিতেছেন তিনি। ২০০৭ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ড জাতীয় দলের কোচ ছিলেন এই ৭৫ বছর বয়সী।