কার্লোস সোলেরের তিন পেনাল্টিই কাল হয়েছে রিয়ালের।
কার্লোস সোলেরের তিন পেনাল্টিই কাল হয়েছে রিয়ালের। ছবি : রয়টার্স

ডুবন্ত তরী বলতে যা বোঝায়, এই ভ্যালেন্সিয়া ঠিক তাই। অথচ এই ক্লাবটিকেই এক সময় বার্সেলোনা আর রিয়াল মাদ্রিদের পর লা লিগায় তৃতীয় শক্তি বলা হতো। লিগ হয়তো জেতেনি ভ্যালেন্সিয়া, কিন্তু বড় দুই জায়ান্টের সঙ্গে টক্করটা ভালোই দিত তারা। সেই দিন এখন অতীত। অনেক দিন ধরেই খাবি খাচ্ছে তারা। ঋণের ভারে জর্জরিত ক্লাবটি সম্প্রতি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে বিভক্ত। স্টেডিয়াম সংস্কারের বাড়তি খরচ সামলাতে দলের সেরা খেলোয়াড়দেও নামমাত্র মূল্যে ছেড়ে দিচ্ছে ভ্যালেন্সিয়া। গত মৌসুমে মালিকপক্ষের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে ক্লাব ছেড়েছেন কোচ মার্সেলিনো। এই দুর্বল, ভাঙা দলটিই কাল চমক দিয়েছে। চ্যাম্পিয়ন রিয়ালকে হারিয়ে দিয়েছে ৪-১ গোলে।

এই জয়ে ভ্যালেন্সিয়ার কৃতিত্বকে খাটো না করেও বলা যায় রিয়াল-রক্ষণের খামখেয়ালিপনার একটা বড় ভূমিকা আছে। দলের চার ডিফেন্ডারের প্রত্যেকেই একটা করে গোল ‘উপহার’ দিয়েছেন ভ্যালেন্সিয়া। তিনজনের কারণে পেনাল্টি হজম করেছে লস ব্লাঙ্কোসরা, বাকি একজন করেছেন আত্মঘাতী গোল। তিন পেনাল্টিতে তিন গোল করে রিয়ালের বিপক্ষে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে পেনাল্টি গোলের হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন ভ্যালেন্সিয়ার স্প্যানিশ মিডফিল্ডার কার্লোস সোলের।

default-image
বিজ্ঞাপন

ম্যাচের আগেই ‘কু’ ডাক শুনেছিল রিয়াল। ম্যাচের ঠিক আগে করোনা পজিটিভ হয়ে ছিটকে পড়েন মূল একাদশের দুই তারকা কাসেমিরো ও এডেন হ্যাজার্ড। হ্যাজার্ডকে ছাড়া সামলাতে পারলেও, কাসেমিরো ছাড়া রিয়াল যে নিতান্তই অসহায়, সেটা আবারও বোঝা গেছে গত রাতে। এর আগে ব্রাজিলের এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারকে ছাড়া যে দুই ম্যাচ খেলতে নেমেছিল রিয়াল, তার একটায় ড্র ও আরেকটায় হেরেছিল। গত মৌসুমেও কাসেমিরোকে ছাড়া যে পাঁচ ম্যাচে খেলতে নেমেছিল রিয়াল জেতেনি চারটায়। গতকালও তার ব্যতিক্রম হলো না। তাই বলে তিন-তিনটা পেনাল্টি হজম করতে হবে, এটা বোধ হয় কোনো রিয়াল সমর্থকের দূরতম কল্পনাতেও ছিল না।

অথচ করিম বেনজেমার গোলে শুরুতেই এগিয়ে গিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ২৩ মিনিটে লেফটব্যাক মার্সেলোর কাছ থেকে বল নিয়ে ডান পায়ের দুর্দান্ত প্লেসমেন্টে স্প্যানিশ গোলরক্ষক খাউমে দমেনেখকে পরাস্ত করেন এই ফরাসি স্ট্রাইকার। সমতায় ফিরতে দশ মিনিটও অপেক্ষা করতে হয়নি ভ্যালেন্সিয়াকে। বাঁ প্রান্ত থেকে লেফটব্যাক হোসে গায়ার ক্রস রিয়াল রাইটব্যাক লুকাস ভাসকেজের হাতে লাগলে পেনাল্টি পেয়ে যায়। সে পেনাল্টি নিয়েও কত নাটকীয়তা! মিডফিল্ডার কার্লোস সোলেরের শট প্রথমে আটকে দেন রিয়ালের বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। ফিরতি শটেও সোলের গোল করতে ব্যর্থ হলে বল যায় যুক্তরাষ্ট্রের উইঙ্গার ইউনুস মুসার কাছে। মুসার শট আর আটকাতে পারেননি কোর্তোয়া। কিন্তু ভিএআরের সাহায্যে পরে দেখা যায়, সোলেরের পেনাল্টি নেওয়ার সময়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে ডি-বক্সে ঢুকে গিয়েছিলেন মুসা। ফলে ওই পেনাল্টি আবারও নেওয়ার নির্দেশ দেন রেফারি। এবার আর ভুল হয়নি সোলেরের। সমতায় ফেরে ভ্যালেন্সিয়া।

default-image

ভাসকেজের পর এবার ভারানের ভুল করার পালা। উরুগুয়ের স্ট্রাইকার ম্যাক্সি গোমেজের শট গোললাইন থেকে ফেরাতে গিয়ে টাইমিংয়ে একটু গড়বড় করে ফেলেন ফরাসি ডিফেন্ডার। ভিএআরের সহায়তায় রিপ্লে দেখে রেফারি সিদ্ধান্ত নেন, ভারান-কোর্তোয়া শট ফেরানোর আগেই বল লাইন অতিক্রম করে ফেলেছিল। দ্বিতীয়ার্ধে ভ্যালেন্সিয়াকে পেনাল্টি 'উপহার' দেওয়ার তালিকায় নাম লেখান রিয়ালের আরেক ডিফেন্ডার মার্সেলো। গোমেজকে বক্সের মধ্যে ফেলে দিয়ে দলের হতাশা আরও বাড়ান মূল একাদশে ঢোকা এই ব্রাজিলীয়। ৫৪ মিনিটে ঠান্ডা মাথায় আরেক শটে পেনাল্টি গোল করেন সোলের।

ভাসকেজ, ভারান, মার্সেলো যেখানে ভুল করে যাচ্ছেন, রামোসই বা পিছিয়ে থাকবেন কেন? ইউনুস মুসাকে ডিবক্সে আটকাতে গিয়ে উল্টো বলে হাত দিয়ে বসেন রামোস। ব্যস, আবারও পেনাল্টি! পেনাল্টিতে আরও এক গোল করে দলকে রিয়ালের ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যান সোলের। পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ে মাঠের বাইরে হাজারো সমস্যায় জর্জরিত ভ্যালেন্সিয়া।

এই নিয়ে মৌসুমে লিগে দুবার হারল রিয়াল। শীর্ষে থাকা রিয়াল সোসিয়েদাদের চেয়ে চার পয়েন্ট কম নিয়ে পয়েন্ট তালিকার চার নম্বরে আছে তাঁরা। ওদিকে ১১ পয়েন্ট নিয়ে বার্সেলোনার অবস্থান আটে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0