default-image

লিভারপুলকে প্রথম ৪৫ মিনিট অবশ্য দমিয়েই রেখেছিল এমেরির দল। সালাহ ও মানের দু-তিনবার শট পোস্টে রাখতে না পারা আর শেষদিকে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে থিয়াগোর শট বারে লেগে ফেরা...প্রথমার্ধে লিভারপুলের আক্রমণ বলতে এ-ই তো!

কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে নামতে না নামতেই গল্পে বদল। ৫০ মিনিটে ফাবিনিও বল ভিয়ারিয়ালের জালে জড়ালেও বক্সে যাঁর হেড থেকে বলটা ফাবিনিওর পায়ে এসেছে, সেই ভার্জিল ফন ডাইক অফসাইডে থাকায় গোল বাতিল। কিন্তু গোলের অপেক্ষা আর তিন মিনিট পরই শেষ লিভারপুলের। কিছুটা ভাগ্যপ্রসূত গোলই বটে!

ডানদিক থেকে হেন্ডারসনের ‘ওভারল্যাপিং রান’ দারুণভাবে খুঁজে নিলেন সালাহ, হেন্ডারসনের ক্রস শুরুতেই ভিয়ারিয়ালের লেফটব্যাক এস্তুপিনিয়ানের পায়ে লেগে দিক বদলে যায়। গেছে তো গেছে জালের দিকেই! ক্রস আসবে ভেবে আগেই জায়গা ছেড়ে কিছুটা সরে যাওয়া ভিয়ারিয়ালের গোলকিপার রুলির পড়িমরি ঝাঁপিয়েও আর বলটা জালে যাওয়া ঠেকাতে পারলেন না।

প্রথমার্ধে একটু ঝিমিয়ে পড়া অ্যানফিল্ড জেগে উঠল, তাতে মানে-সালাহরা যেন আরও তেতে উঠলেন। ফল? ১৩৩ সেকেন্ড পর আবার গোলের উচ্ছ্বাস! এবার গোল মানের। সালাহ বল পেতেই বক্সের দিকে দৌড় শুরু করেন মানে, এক ডিফেন্ডারের পায়ের ফাঁক গলে বুটের ডগার ছোঁয়ায় থ্রু বাড়ান সালাহ। বুটের ডগা ছুঁইয়েই গোল মানের।

default-image

এই গোলের পর অ্যানফিল্ডে লিভারপুল সমর্থকদের গান আর থামেনি। দুই গোলে যে কিছুটা স্বস্তি পেল অলরেডরা! এই এক গোলে অনেক রেকর্ডও হয়েছে – কিছু লিভারপুলের, কিছু মানের ব্যক্তিগত।

এই এক গোলেই চ্যাম্পিয়নস লিগে ৪৫০তম গোলের মাইলফল পেরিয়ে গেছে লিভারপুল, সেটি ইউরোপিয়ান কাপ যুগ আর বর্তমান চ্যাম্পিয়নস লিগ যুগ মিলিয়ে, মূল পর্ব আর বাছাইপর্বের গোল যোগ করে।

আর মানের রেকর্ড? এ নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে মানের গোল হলো ১৪টি, সেনেগালিজ ফরোয়ার্ড ছুঁয়েছেন আফ্রিকান খেলোয়াড়দের মধ্যে চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে সবচেয়ে বেশি গোলের করার রেকর্ড। এর আগে রেকর্ডটি কার ছিল? দিদিয়ের দ্রগবা, চেলসির আইভরিয়ান কিংবদন্তিরও গোল ১৪টি। ১১ গোল নিয়ে তালিকার তিনে সালাহ।

দুই গোলের পরও লিভারপুলের দাপটই থেকেছে। ভিয়ারিয়াল এরপর একটু-আধটু চেষ্টা করেছে বটে, তবে তাতেও বিশেষ লাভ হয়নি। পরিসংখ্যানই বলে সে কথা, ম্যাচে লিভারপুলের গোলপোস্টে কোনো শটই রাখতে পারেনি, সব মিলিয়েই শট নিতে পেরেছে মাত্র একটি।

ফুটবলের পরিসংখ্যানবিষয়ক ওয়েবসাইট অপটা জানাচ্ছে, ২০০৩-০৪ সালে অপটার যাত্রা শুরুর পর থেকে মোট শট (১) আর প্রতিপক্ষের গোলপোস্টে শট (০) – দুই দিকেই নেতিবাচক রেকর্ড ভিয়ারিয়ালের। নতুন রেকর্ড অবশ্য গড়েনি, ২০০৯-১০ মৌসুমে বার্সেলোনার বিপক্ষে জোসে মরিনিওর ইন্টার মিলানের রেকর্ডই ছুঁয়েছে মাত্র।

দুই দলের বিপরীতমুখী এমন ফুটবলে যা হওয়ার তা-ই হয়েছে। মাঝমাঠ পুরোটা সময়ই থিয়াগো, ফাবিনিওর দখলে ছিল। থিয়াগো তো মৌসুমের শেষভাগে এসে অবিশ্বাস্য ছন্দ খুঁজে নিয়েছেন, আজ মাঝমাঠে ছড়ি ঘুরিয়ে ম্যাচসেরাও তিনি।

লিভারপুলের স্বস্তি আরেকটু বেড়ে যেত, যদি তৃতীয় গোলটাও পেয়ে যেত। ৬৮ মিনিটে লিভারপুল রাইটব্যাক ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আরনল্ডের দারুণ পাস ধরে বল জাল জড়িয়ে দিয়েছেন লেফটব্যাক অ্যান্ডি রবার্টসন, কিন্তু অফসাইডের অভিযোগে দ্বিতীয়বারের মতো গোল বাতিল।

শেষদিকে দিয়াজ, জোতা আরেকটু ক্ষুরধার হলেই লিভারপুলের এগিয়ে যাওয়ার ব্যবধানটা আরও বেড়ে যায়। না হওয়াতেই আফসোস থাকবে লিভারপুলের! তবে যা হয়েছে, তা-ও বা কম কী! এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে ১১ ম্যাচে এটি লিভারপুলের ৯ম জয় – এক মৌসুমে ইউরোপিয়ান টুর্নামেন্টে এর চেয়ে বেশি জয়ের রেকর্ড লিভারপুলের কখনো ছিল না।

ইউরোপিয়ান কাপের সেমিফাইনালে নিজেদের মাঠে অপরাজিত থাকার রেকর্ডটাকেও আরেকটু এগিয়ে নেওয়া হলো লিভারপুলের। নিজেদের মাঠে এ নিয়ে ১২টি সেমিফাইনালে কখনো হারের তো রেকর্ডই নেই, ১২টির মধ্যে ১০টিতেই জিতে বেরিয়েছে লিভারপুল।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন