বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

এবার অবশ্য ভাস্কর্যটা দেখতে একেবারে খারাপ হয়নি, বিতর্ক সেটির অবয়ব নিয়েও নয়। বিতর্ক ছড়াচ্ছে ভাস্কর্যটির উদ্দেশ্য নিয়ে।

আয়োজকদের ভাষ্য, পর্তুগিজ শাসন থেকে মুক্তির ৬০ বছরে তরুণদের ফুটবলে-খেলাধুলায় উৎসাহী করতেই রোনালদোর ভাস্কর্য বেছে নেওয়া। কিন্তু স্থানীয়দের যুক্তি, তরুণদের অনুপ্রাণিত করতে ভারতের জাতীয় পর্যায়ে খেলা স্থানীয় তারকার কী অভাব পড়েছে!

গোয়ার কালানগুতের অঞ্চলে স্থাপিত হয়েছে রোনালদোর নতুন এই ভাস্কর্য। প্রায় ৪১০ কেজি ওজনের এই ভাস্কর্য গড়তে সময় লেগেছে তিন বছর। অর্থ খরচ হয়েছে ১২ লাখ রুপির মতো। বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৩ লাখ ৮০ হাজার টাকারও বেশি। আরও আগেই ভাস্কর্যটি উন্মোচিত হওয়ার কথা ছিল, হয়নি করোনার কারণে।

default-image

ভারতে ক্রিকেটই সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা, তবে ফুটবলের জনপ্রিয়তাও কম নয়। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ আর স্প্যানিশ লা লিগার জনপ্রিয়তা তো সব সময়ই বেশি, ২০১৭ সালে নেইমার পিএসজিতে যাওয়ায় গত কয়েক বছরে ফরাসি লিগ আঁ-র জনপ্রিয়তাও জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।

এবার লিওনেল মেসিও পিএসজিতে যোগ দেওয়ার পর লিগ আঁ এখন জনপ্রিয়তায় লা লিগাকেও ছাড়িয়ে গেছে। তবে প্রিমিয়ার লিগ এখনো জনপ্রিয়তম। আর রোনালদো গত আগস্টে পুরোনো ‘ঘর’ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ফেরায় নতুন উদ্যমে প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে দর্শকদের।

সেই আগ্রহ আরও বাড়বে রোনালদোর ভাস্কর্য তৈরির পর, এমনই আশা আয়োজকদের। গোয়ার মন্ত্রী মাইকেল লোবো ভারতের সংবাদমাধ্যম এএনআইকে বলেছেন, ‘ভারতে এই প্রথম ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ভাস্কর্য তৈরি হলো। এখানে একমাত্র উদ্দেশ্যই তরুণদের অনুপ্রাণিত করা। যদি ফুটবলকে আরেক ধাপ ওপরে নিয়ে যেতে হয়, সে ক্ষেত্রে তরুণ-তরুণীদের এদিকেই তাকালেই চলবে। এখানে এসে সেলফি তুললে, ভাস্কর্যের দিকে তাকালেই খেলায় ওদের অনুপ্রেরণা বেড়ে যাবে।’

তবে ভাস্কর্যটির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন গোয়ার স্থানীয় লোকজনই। ফুটবলবিষয়ক ওয়েবসাইট গোলডটকম লিখেছে, অনেকে ভাস্কর্যের সামনে এসে কালো পতাকা দুলিয়ে নিজেদের ক্ষোভ জানাচ্ছেন।

কালানগুতের নির্বাচনী ফোরামের সভাপতি প্রেমানন্দ দিবাকরও এভাবে রোনালদোর ভাস্কর্য স্থাপনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে একমত নন, ‘কালানগুতেতে ব্রুনো কুতিনিও, ইয়োলান্দ ডি’সুজার মতো কত অসাধারণ ফুটবলার ছিলেন, যাঁরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফুটবল খেলে ভারতকে সাফল্য এনে দিয়েছেন। তাঁদের ভাস্কর্য কেন বানানো হলো না? তাঁরা তো কালানগুতেরই মানুষ। সে জায়গায় এই পর্তুগিজ ফুটবলারের ভাস্কর্য বানানোর মানে কী!’

একসময়ের পর্তুগিজ কলোনি গোয়া ১৯৬১ সালের ১৯ ডিসেম্বর ভারতের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন