default-image

আসল নাম জিভানিলদো ভিয়েইরা দি সউজা। এ নামে তাঁকে কজন চেনেন, সেটা একটা প্রশ্ন। কিন্তু যে নামে তিনি পরিচিত, তা নেওয়া হয়েছে সত্তর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় এক টিভি সিরিজ থেকে।

‘দ্য ইনক্রেডিবল হাল্ক’ নামের সেই টিভি সিরিজে অভিনয় করেছিলেন লু ফেরিজিনো। ফিটনেস ট্রেনার এবং বডিবিল্ডিংয়ে নাম কামানো এ অভিনেতার মতো চেহারা ও শরীরের আদল হওয়ায় জিভানিলদো একটা তকমা পেয়ে যান।

সেটা কী তকমা, তা না বললেও চলে। এতক্ষণে বুঝে ফেলার কথা, ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড হাল্কের কথাই বলা হচ্ছে। মার্ভেল কমিকসের বিখ্যাত চরিত্রের নামে তাঁর নাম হওয়ার কারণও আছে।

বিজ্ঞাপন

ফিফার ওয়েবসাইটে তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘সেন্টার ফরোয়ার্ড কিংবা ওয়াইড ফরোয়ার্ড হিসেবে সে শক্তিধর। শারীরিক গড়ন ভীষণ শক্তিশালী।’

শুধু প্রথাগত স্ট্রাইকার হিসেবেই নয়, রাইট উইঙ্গার হিসেবেও খেলেন দুর্দান্ত। হাল্ক কতটা শক্তিশালী, সেটা বোঝা গেছে জেনিতে থাকার সময়। রাশিয়ান ক্লাবটির অনুশীলনে একবার এক শটে গোলপোস্টের জাল ছিঁড়ে ফেলেছিলেন তিনি।

খুব জোরে শট নিতে পারেন এমন ফুটবলারদের মধ্যে হাল্কের নামটা বেশ ওপরের দিকে থাকে। কিছুদিন আগেও মিনেইরোর হয়ে উবারলান্দিয়ার বিপক্ষে এক ডিফেন্ডারকে ধাক্কা মেরে কয়েক ফুট দূরে ছিটকে ফেলেছিলেন ব্রাজিলের হয়ে ৪৮ ম্যাচে ১১ গোল করা এই ফুটবলার।

সে যা–ই হোক, হাল্ক আবার নতুন করে আলোচনায় শরীরের জন্যই। ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ইউরোপ-চীন ঘুরে এ বছর ফিরেছেন দেশের মাটিতে, ব্রাজিলের ঘরোয়া ফুটবলের ক্লাব আতলেতিকো মিনেইরোয়। সেখান থেকেই জানা গেছে আশ্চর্য এক তথ্য—প্রতি ম্যাচে প্রায় পাঁচ কেজি করে ওজন কমে হাল্কের!

আতলেতিকো মিনেইরোর ফিজিওথেরাপিস্ট রবের্তো চিয়ারি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, শরীরে পানির পরিমাণ ঠিক আছে কি না, সেদিকে আলাদা করে খেয়াল রাখতে হয় হাল্ককে।

কারণ, প্রতি ম্যাচেই তাঁর শরীর থেকে এত ঘামের অপসারণ ঘটে যে প্রায় পাঁচ কেজি করে ওজন কমে যায়। মিনেইরোর ইন্টারনেট চ্যানেল টিভি গালোতে চিয়ারি বলেন, ‘শুনে একটু ভয় লাগতে পারে, কিন্তু বিষয়টি স্বাভাবিক। সে প্রচুর ঘামে। বিষয়টি যে তার জন্য খারাপ, তা নয়। বরং যেসব অ্যাথলেট বেশি ঘামে, তার শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ঠিকঠাক কাজ করে। ঘামের মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রার শোষণ ঘটে।’

চিয়ারি ব্যাখ্যা করেন, ‘ঘাম শুকিয়ে যাওয়ার পর শরীরের তাপমাত্রা ভালোভাবে কমে আসে। অর্থাৎ ঘামের ফলে শরীর থেকে পানির অপসারণে ওজন কমাটা কোনো সমস্যা নয়। শুধু পানির ঘাটতি যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখলেই চলে। মাঠে থাকা আমাদের ম্যাসাজ সহকারী জানান, প্রতিটি অনুশীলন শেষে দলের যে খেলোয়াড়ের সবার আগে পানি কিংবা পানি–জাতীয় খাবারের দরকার হয়, তাঁর নাম হাল্ক। কারণ, তার শরীর থেকে প্রচুর পানির অপসারণ ঘটে।’

হাল্কের এই ওজন কমা নিয়ে চিয়ারির ব্যাখ্যা দিয়েছেন আরও। সঙ্গে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নিজেদের ম্যাসাজ সহকারীকে, ‘আমরা জানি প্রতিটি অনুশীলন সেশন শেষে তার ওজন কমে যায়। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ, সেটা শঙ্কা করার মতো নয়। সেটা সম্ভবত আমার ম্যাসাজ সহকারীর দক্ষতার জন্য। অনুশীলনের পর তার পানির ঘাটতির ব্যাপারে সে খেয়াল রাখে। এমনকি ম্যাচে তিন, চার কিংবা পাঁচ কেজি ওজন হারালেও পরের দিন সে অনুশীলনে আসার পর ওজন একইরকম থাকে। গোটা বিষয় নির্ভর করে সবকিছু ভালোভাবে দেখাশোনার ওপর।’

বিজ্ঞাপন

প্রতিভা খারাপ ছিল না। পর্তুগাল ও রাশিয়ার ঘরোয়া ফুটবলে জিতেছেন লিগ শিরোপা। এফসি পোর্তোয় আলো ছড়ানো হাজারো স্ট্রাইকারের মধ্যে এই হাল্ক ছিলেন একজন।

তখন ইউরোপের অনেক ক্লাব তাঁকে দলে পেতে চাইলেও সবাইকে অবাক করে দিয়ে আকাশছোঁয়া অর্থ ও বেতনে নাম লেখান রাশিয়ান ক্লাব জেনিত সেইন্ট পিটার্সবার্গে।

হাল্কের পেছনে জেনিতের ছয় কোটি ইউরো খরচ করা তখন অনেকের চোখকেই কপালে তুলে দিয়েছিল। ব্রাজিলের হয়ে কনফেডারেশনস কাপও জিতেছেন ২০১৩ সালে। প্রতিটা ম্যাচ খেলেছিলেন মূল একাদশের রাইট উইঙ্গার হিসেবে।

default-image

শুধু তা–ই নয়, ২০১২ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে ব্রাজিলের হয়ে খেলেছিলেন তিনি। স্কোয়াডের তিনজন বয়স্ক খেলোয়াড়ের মধ্যে তাঁকেও রাখা হয়েছিল। ফাইনালে মেক্সিকোর বিপক্ষে গোল করেও পরাজয় এড়াতে পারেননি।

তবে কথাটা সত্যি, প্রত্যাশার পুরোটা পূরণ করতে পারেননি তিনি। একসময়ে মানা হতো, রোনালদো, রোমারিও, টোস্টাও, কারেকা কিংবা নিদেনপক্ষে আদ্রিয়ানোর মতো খেলতে পারবেন, সেটা হয়নি।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন