একের পর এক দুঃসংবাদ হানা দিচ্ছে ব্রাজিল শিবিরে।
একের পর এক দুঃসংবাদ হানা দিচ্ছে ব্রাজিল শিবিরে। ছবি: রয়টার্স

ভেনেজুয়েলা আর উরুগুয়ের বিপক্ষে খেলার জন্য গত মাসের ২৩ তারিখে ব্রাজিল কোচ তিতে যখন দল ঘোষণা করলেন, তখন কি ঘুণাক্ষরেও ভেবেছিলেন, এই দল নিয়ে সামনের এক মাস এত বেশি কাটছাঁট করতে হবে? করোনা আর খেলোয়াড়দের চোট মিলিয়ে সে কাজটাই বারবার করতে হচ্ছে তিতেকে। এখনো উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ বাকি, এর মধ্যেই অন্তত নয়বার স্কোয়াডে কাঁচি চালিয়েছেন তিতে।

ভেনেজুয়েলা ও উরুগুয়ের বিপক্ষে খেলার জন্য তিতে বেশ শক্তিশালী দলই ঘোষণা করেছিলেন। দলে ছিলেন নেইমার, ফিলিপ কুতিনিও, ফাবিনিও, কাসেমিরোর মতো তারকারা। এরপর একের পর এক আঘাত আসতে থাকল। সবার আগে চোটে পড়লেন বার্সেলোনার আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার কুতিনিও। এল ক্লাসিকো খেলেই ২৫ তারিখ পড়লেন হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে। ফলে ব্রাজিলে কুতিনিওর জায়গায় ডাকা হলো অলিম্পিক লিওঁর মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতাকে। ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে এই পাকেতাকে খেলানোও হয়েছে, বেশ ভালোই খেলেছেন।

default-image
বিজ্ঞাপন

কুতিনিও দল থেকে বাদ পড়ার দুই দিনের মাথায় এল আরেকটা দুঃসংবাদ। ডেনমার্কের ক্লাব মিতিউলানের বিপক্ষে খেলতে নেমে কুতিনিওর মতো হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েন লিভারপুলের রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার ফাবিনিও। ব্যস, বাদ পড়তে হয় এই তারকাকেও। ফাবিনিওর জায়গায় সদ্য নাপোলি থেকে এভারটনে যোগ দেওয়া মিডফিল্ডার আলানকে দলে ডাকেন তিতে। ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে এই আলান প্রথম একাদশে ছিলেন।

সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা ব্রাজিল পায় ঠিক এই খবরের পর। জানা যায়, চোটে পড়েছেন নেইমার। পায়ের পেশির চোটে পড়লেও আশা করা হয়েছিল, উরুগুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে অন্তত মাঠে নামবেন পিএসজির এই তারকা ফরোয়ার্ড। সেটা হয়নি। নেইমারকে না পেয়ে দলের চিকিৎসক রদ্রিগো লাসমারের কণ্ঠেও হতাশাই ঝরেছে, ‘আমরা আশাবাদী ছিলাম, হয়তো সে খেলতে পারবে। তাই আমরা তাকে ব্রাজিলে ডেকে এনেছিলাম। তার অবস্থা আগের চেয়ে ভালো, কিন্তু এতটাও ভালো নয় যে উরুগুয়ের বিপক্ষে তাকে নামানো যাবে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তাকে স্কোয়াডে রাখা হবে না।’ নেইমারের জায়গায় দলে ডাকা হয়েছিল ফ্লামেঙ্গোর তরুণ উইঙ্গার পেদ্রোকে। কিন্তু বিধি বাম। এই পেদ্রোও সম্প্রতি পড়েছেন চোটে। শনিবার দলের সঙ্গে অনুশীলন করতে গিয়ে সেই পেশির চোটে পড়েছেন পেদ্রোও। পেদ্রোর জায়গায় এর মধ্যেই এক স্ট্রাইকারকে দলে ডেকেছেন তিতে। ইন্তারনাসিওনালের ৩১ বছর বয়সী স্ট্রাইকার থিয়াগো গালহার্দো বহু বছর ধরেই ব্রাজিলিয়ান লিগের পরিচিত মুখ, এই মৌসুমে এর মধ্যেই ১৭ ম্যাচ খেলে ১৫ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় সবার ওপরে আছেন। ব্রাজিল সমর্থকদের আশা থাকবে, দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই স্ট্রাইকার যেন আবার পেদ্রো-নেইমারদের মতো চোটে না পড়েন!

মিডফিল্ডের চিন্তা বাড়িয়ে 'নেই' হয়ে গেছেন রিয়াল মাদ্রিদের কাসেমিরোও। তাঁর শরীরে আবার কোনো চোট নয়, হানা দিয়েছে করোনাভাইরাস। কাসেমিরোর জায়গায় লিওঁর আরেক মিডফিল্ডারকে ডাকতে হয়েছে তিতেকে। কপাল খুলেছে ব্রুনো গিমারেসের। শুধু মিডফিল্ড বা আক্রমণভাগই নয়, ব্রাজিলকে ভোগাচ্ছে রক্ষণভাগও। এক ধাক্কার এদের মিলিতাও ও রদ্রিগো কাইওর মতো ডিফেন্ডার দল থেকে বাদ পড়েছেন। একজজন চোটে, আরেকজন করোনায়। এই দুজনের জায়গায় দলে ডাকা হয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদের ফেলিপে ও সেভিয়ার দিয়েগো কার্লোসকে। প্রতিভাবান রাইটব্যাক গ্যাব্রিয়েল মেনিনোও করোনার কারণে দলের বাইরে।

ওদিকে বারবার করোনা পজিটিভ হচ্ছেন সদ্যই পোর্তো থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেওয়া লেফটব্যাক আলেক্স তেয়েস। গতকাল এই তেয়েসের জায়গায় শেষমেশ নেওয়া হয়েছে সেভিয়ার সাবেক লেফটব্যাক, এখন আতলেতিকো মিনেইরোতে খেলা গিলের্মো আরানাকে।

সব মিলিয়ে উরুগুয়ের বিপক্ষে নতুন এক ব্রাজিলকেই দেখা যাবে হয়তো বুধবার সকালে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0