জিদানকে ভাবাচ্ছে ওই এক চোট সমস্যা।
জিদানকে ভাবাচ্ছে ওই এক চোট সমস্যা। ছবি : রয়টার্স

চোট, করোনাভাইরাস—সবকিছু মিলিয়ে এই মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের অবস্থা খুব ভালো নয়। তার ওপর প্রায় এক বছর ধরে নতুন কাউকে দলে আনেনি রিয়াল। তা সত্ত্বেও শুধু কোচ জিনেদিন জিদানের উদ্ভাবনী কৌশলের জোরেই এখনো লিগ আর চ্যাম্পিয়নস লিগের দৌড়ে টিকে আছে লস ব্লাঙ্কোসরা। লিগ ধরে রাখার লড়াইয়ে বার্সা, আতলেতিকো আর সেভিয়ার সঙ্গে এখনো ইঁদুর দৌড় চলছে রিয়ালের। ওদিকে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালেও উঠেছে দল। দুবছর পর আবারও আরেকটা চ্যাম্পিয়নস লিগ ঘরে তোলার সুযোগ এসেছে জিদানদের সামনে।

কাগজে-কলমে এখনো দুটি শিরোপা ঘরের তোলার সম্ভাবনা থাকলেও জিদানকে ভাবাচ্ছে ওই এক চোট সমস্যা। গত রাতে চেলসির বিপক্ষেই যেমন, অধিনায়ক সের্হিও রামোস, মূল লেফটব্যাক ফারলাঁ মেন্দি, মিডফিল্ডার ফেদেরিকো ভালভার্দে, উইঙ্গার এদেন হ্যাজার্ড, লুকাস ভাসকেজ—কেউই ছিলেন না। আগামী সাত দিনের মধ্যে মহাগুরুত্বপূর্ণ আরও দুই ম্যাচ খেলতে নামবে রিয়াল। লিগে ওসাসুনার বিপক্ষে প্রথমে, পরে চেলসির বিপক্ষে স্টামফোর্ড ব্রিজে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগ। এই দুই ম্যাচে যদি হাতে থাকা বাকি ‘অস্ত্রগুলো’ ভেবেচিন্তে ব্যবহার না করেন, চোটের তালিকায় আরও অনেকের নামই যোগ হতে পারে। সেটা বেশ ভালোই জানেন জিদান। আর জানেন দেখেই প্রথম লেগের পর সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিয়েছেন, সামনের সপ্তাহে চেলসির বিপক্ষে দ্বিতীয় লেগ খেলার জন্য তাঁর খেলোয়াড়েরা যেন সুস্থ থাকেন, এ জন্য ওসাসুনার বিপক্ষে ম্যাচটায় অনেককেই বিশ্রাম দেবেন। এ যেন চ্যাম্পিয়নস লিগের আশায় লিগকে কম গুরুত্ব দেওয়া!

বিজ্ঞাপন
default-image

সংবাদ সম্মেলনে জিদান কোনো রাখঢাক না করেই নিজের পরিকল্পনা বলে দিয়েছেন, ‘দেখি কী হয়। খেলোয়াড়েরা কে কত সময় খেলতে পারবে, সেটার দিকে নজর রাখা হবে। কারণ আমাদের শনিবার একটা ম্যাচ আছে, আবার চেলসির বিপক্ষে দ্বিতীয় লেগে খেলতে নামার আগেও আমাদের পুরোপুরি সুস্থ থাকতে হবে। তাই আমি নিশ্চিত করব কোনো খেলোয়াড়ের ওপর যেন বাড়তি চাপ না পড়ে।’

চেলসির বিপক্ষে ম্যাচের দিন সুস্থ থাকা, খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি চাপ না দেওয়ার চেষ্টা করা—এ সবকিছুই একই দিকে নির্দেশ করে। ওসাসুনার বিপক্ষে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে হয়তো বিশ্রামে রাখবেন। কাগজে-কলমে শক্তির দিক দিয়ে চেলসির চেয়ে ওসাসুনা যোজন-যোজন পিছিয়ে থাকলেও এই দলটার বিপক্ষে রিয়ালের একটুও যদি পা হড়কায়, তাহলেই লিগের দৌড়ে বাকি দলগুলোর চেয়ে পিছিয়ে পড়বে রিয়াল। লিগ শিরোপা ধরে রাখার আশা আস্তে আস্তে নিভতে থাকবে।

গত কয়েক সপ্তাহে লিগে হেতাফে ও রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ড্র করা দলটার মূল খেলোয়াড়দের বিশ্রামের সুযোগ নিয়ে ওসাসুনা যদি কোনোরকমে এক পয়েন্টও পেয়ে যায়, সেটাও রিয়ালের জন্য অনেক বড় ক্ষতির কারণ হবে।

default-image

প্রথম লেগে চেলসিকে একটা 'অ্যাওয়ে গোল' করতে দেওয়ার কারণে দ্বিতীয় লেগে রিয়ালের কাজটা যে একটু কঠিন হয়ে গেছে, সেটা জানেন জিদান। আর সে সমস্যা মেটানোর লক্ষ্যে একটা কাজই করতে হবে, স্টামফোর্ড ব্রিজে গোল করতে হবে অনেক, ‘আমরা আজ যেভাবে খেলেছি, সেটি প্রশংসা পেতেই পারে। আমি খেলোয়াড়দের ওপর খুশি, কারণ এখনো আমাদের ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ আছে। লন্ডনে গিয়ে আমাদের বেশ কয়েকটা গোল করতে হবে।’

দ্বিতীয় লেগে নিজেদের অধিনায়ক সের্হিও রামোসকে ফেরত পাবেন বলে আশাবাদী জিদান, ‘আশা করব দ্বিতীয় লেগে ও আমাদের সঙ্গে থাকবে। কিন্তু ও এখনো আমাদের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দেয়নি, তাই এ ব্যাপারে এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে পারছি না। ফারলাঁ (মেন্দি), ফেদে (ভালভার্দে)—সবার ক্ষেত্রেও এই কথাটাই প্রযোজ্য।’

এখন চেলসির বিপক্ষে খেলোয়াড়দের সুস্থ রাখার নেশায় ওসাসুনার বিপক্ষে কোনো অঘটন না ঘটলেই হয়!

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন