বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চ্যাম্পিয়নস লিগে গ্রুপে প্রথম দুই ম্যাচেই ৩-০ গোলে হেরেছিল বার্সেলোনা। তবু নিজেদের ভাগ্যটা নিজেদের হাতে ছিল তাদের। দিনামো কিয়েভকে টানা দুই ম্যাচে হারানো বার্সেলোনা নিজেদের মাঠে বেনফিকাকে আতিথ্য দিয়েছিল। ঘরের মাঠে জাভির বার্সেলোনা বেনফিকার বিপক্ষে জিততে পারেনি। কোনো গোলই দিতে পারেনি। উল্টো যোগ করা সময়ে বেনফিকার হ্যারিস সেফেরোভিচ গোলরক্ষককে কাটিয়েও ফাঁকা পোস্টে বল রাখতে পারেননি।

বেনফিকার সঙ্গে গোলশূন্য সেই ড্রয়ের কারণে শেষ ম্যাচে কঠিন এক পরীক্ষার সামনে পড়েছিল বার্সেলোনা। বায়ার্ন মিউনিখের মাঠে তাদের হারানোর লক্ষ্য নিয়ে নেমেছিল কাতালানরা। আর সে কাজ করতে না পারলে তাকিয়ে থাকতে হবে নিজেদের মাঠে নামা বেনফিকার দিকে। কিয়েভের সঙ্গে পর্তুগিজ ক্লাব পয়েন্ট খোয়ালেই কেবল চ্যাম্পিয়নস লিগে টিকে থাকত বার্সেলোনা। কিন্তু তা হয়নি। বার্সেলোনা বায়ার্নের মাঠে ৩-০ গোলে হেরেছে। বেনফিকাও নিজেদের ম্যাচ ২-০ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে।

default-image

এতে ২০০৩-০৪ সালের পর এই প্রথম ইউরোপা লিগ খেলতে গেছে বার্সেলোনা। ১৭ বছর পর ইউরোপের দ্বিতীয় স্তরে খেলতে যাওয়ার ভুলে যাওয়া স্বাদ ফিরে পাচ্ছে ক্লাবটি। কিন্তু এতে কেবল সর্বনাশের শুরু। এমনিতেই আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত ক্লাবটি। এই অবস্থায় চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ছিটকে পড়া মানেই বিপুল অর্থ আয়ের সুযোগ হাতছাড়া করা। হ্যাঁ, ইউরোপা লিগেও অর্থ পাবে বার্সেলোনা। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে প্রাপ্ত অর্থের ধারেকাছে নেই ইউরোপা লিগ।

চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রতিটি জয়ের জন্য ২৮ লাখ ইউরো পায় দলগুলো। আর প্রতিটি ড্রয়ের জন্য ৯ লাখ ৩০ হাজার ইউরো। এবার চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনা দুটি ম্যাচ জিতেছে আর ড্র করেছে একটি। অর্থাৎ চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে এ মৌসুমে বার্সেলোনার আয় ৬৫ লাখ ৩০ হাজার ইউরো। কিন্তু এটা গ্রুপ পর্ব পার হওয়ার আয়ের তুলনায় কিছুই না। কাল যদি বার্সেলোনা জিততে পারত, তাহলে শেষ ষোলোতে ওঠার পুরস্কার হিসেবেই ৯৬ লাখ ইউরো পেত। আর শেষ ষোলো টপকে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারলেই বাড়তি ১ কোটি ৬ লাখ ইউরো পেত বার্সেলোনা।

default-image

এ ছাড়া চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ছিটকে পড়ায় আরেকটি দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বার্সেলোনা। চ্যাম্পিয়নস লিগের অর্থ দুই খাত থেকে পায় দলগুলো। একটি ম্যাচের ফল ও কোন দল কোন ধাপ পার হলো, এর ওপর নির্ভর করে। আরেকটি খাতের অর্থ আসে টিভি স্বত্ব থেকে। প্রতিটি দেশের জন্য টিভি স্বত্বের একটি নির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ থাকে।

নকআউট পর্বে একটি দেশের দল যত কম থাকে, টিকে থাকা দলগুলো তত বেশি অর্থ পায়। অর্থাৎ চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বার্সেলোনা, সেভিয়া বাদ পড়ে যাওয়ায় এখন টিভি স্বত্বের টাকা বেশি পাবে রিয়াল মাদ্রিদ ও আতলেতিকো মাদ্রিদ। ভিয়ারিয়াল যদি আজ রাতে আতালান্তাকে টপকে চ্যাম্পিয়নস লিগে টিকে থাকে তবে তারাও রিয়াল ও আতলেতিকোর সঙ্গী হবে। কিন্তু বার্সেলোনা ঠিকই শেষ ষোলোর টিভি স্বত্বের অর্থটা হারাবে। সব মিলিয়ে শেষ ষোলো খেলতে না পারায় অন্তত ২ কোটি ২ লাখ ইউরো ক্ষতি হয়েছে বার্সেলোনার।

আর্থিক দুর্দশার মধ্যে থাকা এক দলের জন্য এর চেয়ে বড় দুসংবাদ আর কী হতে পারে!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন