বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

ব্রুজোনের অধীন গত কয়েক দিনে বল পায়ে রেখে পাসিং ফুটবলের অনুশীলনই বাংলাদেশ বেশি করেছে। কিন্তু মাঠে আজ দাপট বেশি থাকলেও প্রতিপক্ষের বক্সের সামনে গিয়ে শেষ পাসের বেলায় ভজকট পেকে গেছে বাংলাদেশের। কখনো পাসের গতি বেশি বা কম ছিল তো কখনো যাঁর উদ্দেশে পাস, তাঁর দৌড়ের সময় কিংবা দিক ঠিক ছিল না। আর কখনো ঠিকঠাক হয়নি পাস ছাড়ার সময়!

পরিসংখ্যান বলবে, বাংলাদেশ ৫৮ শতাংশ বলের দখল রেখেছে। ২০টি শট নিয়েছে, যার ৪টি শ্রীলঙ্কার পোস্টে ছিল। কিন্তু ম্যাচের গল্প বলবে, বাংলাদেশ গোল করতে পারে, এমন সম্ভাবনাই জেগেছে হাতে গোনা দু-একবার।

জেমি ডের অধীন বাংলাদেশ রক্ষণ সামলে পাল্টা আক্রমণে ওঠার কৌশলে খেলত, ব্রুজোন বল পায়ে রেখে আক্রমণে ওঠার কৌশলে বিশ্বাসী। সে কারণে আজ ব্রুজোনের একাদশ কেমন হয়, সেটি দেখার রোমাঞ্চ ছিল। মিডফিল্ডার সোহেল রানা জ্বরে আক্রান্ত বলে খেলতে পারেননি। তাঁকে পেলে ব্রুজোন কীভাবে দল সাজান, সেটি পরে দেখার আগ্রহ থাকবে। তবে আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪-১-৪-১ ছকে দল সাজিয়েছেন বাংলাদেশ দলের স্প্যানিশ কোচ।

default-image

গোলকিপার আনিসুর রহমানের সামনে চারজনের রক্ষণের দুই পাশে বিশ্বনাথ ঘোষ ও ইয়াসিন আরাফাত, দুই সেন্টারব্যাক ছিলেন তারিক কাজী ও তপু বর্মণ। মাঝমাঠের কেন্দ্রে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া, তাঁর সঙ্গী ইব্রাহিম ও বিপলু। আর দুই উইংয়ে রাকিব ও জুয়েল রানা। সামনে একক স্ট্রাইকার হিসেবে খেলেছেন সুমন রেজা। আক্রমণে মোটামুটি এ রকম কৌশলে গেলেও রক্ষণের সময়ে বাংলাদেশ বারবার ৫-৪-১ ছকে নেমে যাচ্ছিল।

প্রথম পাঁচ-ছয় মিনিটে মূলত দুই দলের গুছিয়ে নেওয়ার সময়টাতে শ্রীলঙ্কার পায়েই বল বেশি ছিল, এর পর থেকে বলের দখল বুঝে নেয় বাংলাদেশ। তবে আধা ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সেভাবে বলার মতো কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেননি জামালরা। অবশেষে ৩৯ মিনিটে সমর্থকদের আসনকোণে সরে আসতে বাধ্য করেন উইঙ্গার রাকিব। বল নিয়ে বাঁ দিক থেকে দারুণ দৌড়ে তিনজন শ্রীলঙ্কান ডিফেন্ডারকে ছিটকে বক্সে ক্রস পাঠান, কিন্তু দৌড়ে এসে জুয়েলের নেওয়া শট আটকে যায় লঙ্কান রক্ষণে।

বিরতির ঠিক আগে, যোগ করা সময়ে আরেকটি দারুণ সুযোগ পায় বাংলাদেশ, এ যাত্রায় শ্রীলঙ্কাকে বাঁচান গোলকিপার সুজন পেরেরা। বাঁ দিকে শ্রীলঙ্কা বক্সের অনেক আগ থেকে লেফটব্যাক ইয়াসিনের ক্রস যায় শ্রীলঙ্কার বক্সে, রক্ষণ ছেড়ে শ্রীলঙ্কার বক্সে উঠে যাওয়া তপু বর্মণ তাতে হেড করেন। কিন্তু দারুণভাবে ঝাঁপিয়ে হেডটা ফিরিয়ে দেন লঙ্কান গোলকিপার।

default-image

৫৪ মিনিটে সেই তপুই বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন পেনাল্টি থেকে। পেনাল্টি পাওয়ার আগে বাংলাদেশের মাঝমাঠে বিপলুর সঙ্গে আক্রমণভাগে ইব্রাহিমের সমন্বয়টা দারুণ ছিল। মাঝমাঠ থেকে লঙ্কান বক্সে ভাসানো পাস দেন বিপলু, বক্সে ঢুকে যাওয়া ইব্রাহিমকে আটকাতে বলে হাত লাগিয়ে দেন লঙ্কান ডিফেন্ডার ডাকসন। পেনাল্টি! আগেই এক হলুদ কার্ড দেখা ডাকসন দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এদিকে পেনাল্টিতে গোলকিপারকে দারুণভাবে পরাস্ত করেন তপু। গোলকিপার ঝাঁপিয়েছিলেন নিজের ডান দিকে, তপুর শট যায় বাঁ দিকে।

এক গোলে পিছিয়ে পড়া, একজন কম নিয়ে বাকি সময় খেলা শ্রীলঙ্কা বাকি সময়ে চেষ্টা করেছে। ৬১ মিনিটে বদলি হয়ে মাঠে নামা শ্রীলঙ্কার ১০ নম্বর জার্সিধারী ডি সিলভা বেশ কয়েকবার বাংলাদেশের রক্ষণে ত্রাস ছড়িয়েছেন। ৭৬ মিনিটে বাঁ দিক থেকে ডি সিলভা দারুণভাবে বক্সে ঢুকে শট নিলেও সেটি বাংলাদেশের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে গতি কমে যায়, জমা পড়ে গোলকিপারের হাতে।

বাংলাদেশও এ সময়ে বেশ কয়েকবার আক্রমণে উঠেছে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জুয়েল রানার বদলি হিসেবে নামা সাদ উদ্দিন বেশ কয়েকবার বক্সে ঢুকেছেন। কিন্তু শেষ পাসটা ঠিক না হওয়ায় গোল আর বাড়েনি।

লঙ্কান গোলকিপার সুজন পেরেরা যোগ করা সময়ে দুবার হাস্যকর ভুল করে ম্যাচে বিনোদন জোগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশকে গোলের সুযোগ দিয়েছিলেন বটে। ৯২ মিনিটে হাতে বল নিয়ে বক্সের বাইরে গেলেন, মিনিটখানেক পর বাংলাদেশ আক্রমণে উঠে বক্সে ক্রস দেওয়ার সময়ে তাঁর হাতে থাকা আরেকটি ফুটবল ফেলে দেন মাঠের ভেতরেই। দুবারই ইনডিরেক্ট ফ্রি-কিক পেয়েছিল বাংলাদেশ, কিন্তু গোল হয়নি তাতে।

এক গোল, তিন পয়েন্ট...টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে জয়ের স্বস্তিই শুধু বাংলাদেশের সঙ্গী। মন ভরানো ফুটবলের অপেক্ষায় তাকাতে হচ্ছে পরের ম্যাচে, আগামী সোমবার বাংলাদেশ সময় পাঁচটায় যে ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন