‘মধুরেণ সমাপয়েৎ’ শেষ পর্যন্ত হলো না কারোরই। চেলসি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ম্যানচেস্টার সিটি—পরশু বছরের শেষ ম্যাচে পয়েন্ট খুইয়েছে তিন দলই। শেষ পর্যন্ত আর্সেনালই শুধু হাসিমুখে বছর শেষ করতে পেরেছে।
অথচ তিন দলই পরশু নেমেছিল উত্তুঙ্গ আত্মবিশ্বাস নিয়েই। এর আগে সর্বশেষ সাত ম্যাচের ছয়টিই জিতেছিল ইউনাইটেড। সিটির ফর্ম তো আরও দুর্দান্ত, মাঠে নেমেছিল টানা নয় জয় নিয়ে। চেলসি উড়ছিল সবার শীর্ষে থেকে। কিন্তু টটেনহামের মাঠে গিয়ে গোলশূন্য ড্র করেছে ইউনাইটেড, সাউদাম্পটনের সঙ্গে চেলসি ড্র করেছে ১-১ গোলে, আর বার্নলির সঙ্গে সিটির ড্র ২-২ গোলে।
হোঁচট খাওয়ার জন্য আপনি নিজেদের অসাবধানতাকে দায়ী করতে পারেন। দোষ দিতে পারেন ভাগ্যকে বা দায় চাপিয়ে দিতে পারেন অন্য কারও ওপর। মরিনহো শেষটাই বেছে নিলেন। সেস্ক ফ্যাব্রিগাসকে পেনাল্টি বক্সে ডাইভিংয়ের জন্য হলুদ কার্ড দেখিয়েছেন রেফারি। রিপ্লে দৃশ্যত বুঝিয়েছে, ভুল করে থাকতে পারেন রেফারি। মরিনহো পরশু এ নিয়ে রীতিমতো ধুয়ে দিলেন রেফারিকে, ‘ওটা কেন পেনাল্টি হবে না? কারণ রেফারি ভুল করেছেন। মানুষমাত্রই ভুল করে, তিনিও করেছেন। কিন্তু এটা বিশাল একটা ভুল। পেনাল্টিটা পেলে হয়তো আমরা ম্যাচটা জিততেও পারতাম। আমি রেফারিকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানাব এবং বলব তাঁর লজ্জা পাওয়া উচিত।’
জয় পেতে পারত ইউনাইটেডও। তবে টটেনহাম গোলরক্ষক উগো লরিস গোলপোস্টের নিচে অতিমানব হয়ে দাঁড়ানোয় ইউনাইটেড গোল আর পায়নি। লুই ফন গাল স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা হতাশ, ‘ভালো খেলেও যখন আপনি জিততে পারেন না, যেমন অ্যাস্টন ভিলার সঙ্গে ম্যাচের পর এই ম্যাচেও; মৌসুম শেষে চ্যাম্পিয়ন হওয়া খুব কঠিন।’ তবে ইউনাইটেড কোচ এর মধ্যেও খুঁজে ফিরেছেন আশার আলো, ‘অবশ্যই নতুন বছরে আমরা আরও ভালো করব। চোখ রাখুন।’
ইউনাইটেড ও চেলসি তাও প্রতিপক্ষের মাঠে ড্র করেছে। কিন্তু ম্যান সিটির সেই অজুহাতও নেই, ইতিহাদে ড্র করেছে অবনমনের শঙ্কায় থাকা বার্নলির সঙ্গে। বার্নলির প্রথম গোলটা অফসাইড ছিল, সিটি কোচ ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনি সেটাকে হয়তো বর্ম হিসেবে দাঁড় করাতে পারতেন। কিন্তু এমন পরাজয়ে পেলেগ্রিনি নিজেদেরই দায় দেখছেন, ‘২-০ তে এগিয়ে যাওয়ার পর আমরা মনে করেছিলাম ম্যাচ শেষ। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজার আগে তো কিছুই শেষ হয়নি। প্রথমার্ধের চাপ আমরা পরে গিয়ে ধরে রাখতে পারিনি।’
ওয়েস্ট হামের সঙ্গে ২-১ গোলের জয়ে আর্সেনাল বছরটা শেষ করল ভালোভাবেই, পয়েন্টে সাউদাম্পটনের সমান হলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় পাঁচে। শীর্ষ চারে থাকাটাই এখন কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারের পাখির চোখ, ‘চ্যাম্পিয়নস লিগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ১৭ বার এটা করেছি, আশা করি আবারও করতে পারব।’ এএফপি।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন