রিয়ালের জয় এনে দেওয়া গোলটিতে অবদান ছিল ভিনিসিয়ুসের।
রিয়ালের জয় এনে দেওয়া গোলটিতে অবদান ছিল ভিনিসিয়ুসের।ছবি: এএফপি

মহাগুরুত্বপূর্ণ এক সপ্তাহ রিয়াল মাদ্রিদের জন্য। আট দিনে তিনটি মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। লিগে সেভিয়া ও আতলেতিকোর বিপক্ষে খেলা। আর চ্যাম্পিয়নস লিগে মনশেনগ্লাডবাখের বিপক্ষে শেষ ষোলোয় যাওয়ার পরীক্ষা। তিন ম্যাচেই জয় ছাড়া গতি নেই রিয়ালের। অন্য কোনো ফল মানেই বিদায় নিতে হবে জিনেদিন জিদানকে। প্রিয় কোচকে আপাতত বিদায় দিতে রাজি নন রিয়াল খেলোয়াড়েরা। সেভিয়ার মাঠ থেকে আজ ১-০ গোলে জিতে এসেছে রিয়াল।

ম্যাচের প্রথম পাঁচ মিনিটেই দুই গোল পেতে পারত রিয়াল মাদ্রিদ। প্রথম মিনিটেই দারুণ গতিতে বক্সে ঢুকে পড়া ভিনিসিয়ুসের শট গোলের সামনে দিয়ে চলে যায়। পঞ্চম মিনিটে ওই ভিনিসিয়ুসের প্রেসের সামনে বোকামি করে বসেন সেভিয়া গোলরক্ষক বোনো। বল মেরে বসেন ভিনিসিয়ুসের পায়ে। সে বল অনেক উঁচুতে উঠে গোলের সামনে পড়েছিল। কিন্তু বেনজেমাকে হেড নিতে দেননি ডিফেন্ডার কার্লোস। সেবারের জন্য রক্ষা পায় স্বাগতিক দল।

বিজ্ঞাপন
default-image

প্রথমার্ধের পুরোটাই এ ছন্দেই এগিয়েছে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে এ ম্যাচ খেলতে নেমেছিল রিয়াল। তবু তাদের বড় পরীক্ষা নিতে পারেনি সেভিয়া। উল্টো রিয়ালই পেয়েছে গোলের সুবর্ণ সব সুযোগ। ২১ মিনিটে ক্রুসের বাঁকানো শট একটুর জন্য জালে যায়নি। ৩৮ মিনিটে রদ্রিগোর পাস থেকে দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন করিম বেনজেমাও। ফ্রেঞ্চ স্ট্রাইকারের বাঁকানো শট ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দিয়েছেন বোনো।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য নিজেদের ফিরে পেয়েছে সেভিয়া। প্রথমার্ধে কোর্তোয়াকে কোনো পরীক্ষা দিতে হয়নি। প্রথম ১০ মিনিটেই দুবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ মিলেছিল তাদের। ৫২ মিনিটে বাইসাইকেল কিকে একটা চেষ্টা করেছিলেন লুক ডি ইয়ং। তবে কোর্তোয়া বরাবর যাওয়ায় তাতে সমস্যা হয়নি রিয়ালের।

৫৪ মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদের এগিয়ে যাওয়াটা ছিল বেশ বিস্ময়কর। দারুণ এক প্রতি–আক্রমণে উঠেছিল রিয়াল। ফারলাঁ মেন্দি ক্রস করেছিলেন ডি-বক্সে। ভিনিসিয়ুস অনেক দূরে থাকায় সেভিয়া গোলরক্ষক নিজেকে নিরাপদ ভেবেছিলেন। কিন্তু দুরন্ত গতিতে ছুটে আসা ভিনিসিয়ুসের পায়ের ছোঁয়া লেগে যায় বলে। তাতে বলের গোলে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল না। কিন্তু গতি পরিবর্তিত বল ঠিকভাবে দখলে নিতে পারেননি বোনো। আর সেটা তাঁর গায়ে লেগে ঢুকে যায় জালে।

default-image

এরপর একসঙ্গে তিনজন খেলোয়াড় বদলান সেভিয়া কোচ হুলেন লোপেতেগি। এর মধ্যে সুসোর বদলিটা রিয়ালকে বিপাকে ফেলেছিল। ডান প্রান্ত দিয়ে ত্রাস ছড়াচ্ছিলেন বাঁ পায়ের এই উইঙ্গার। কিন্তু তাঁর পাসগুলো কাজে লাগাতে পারেনি সেভিয়ার ফরোয়ার্ডরা। নিজেও বেশ কয়েকবার শট নিয়েছিলেন সুযোগ। কিন্তু সেগুলো লক্ষ্যে পৌঁছাচ্ছিল না।

৮৬ মিনিটে ওকাম্পোসের আরেকটি বাইসাইকেল কিকে ম্যাচে সমতা ফিরে এসেছে বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু দুর্দান্ত সে শট ঠেকাতে এর চেয়েও দুর্দান্ত এক সেভের জন্ম দিলেন কোর্তোয়া। প্রতি–আক্রমণে উঠে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন বেনজেমা। কিন্তু বক্সে পাস দেওয়ার কাউকে খুঁজে পাননি এই ফরোয়ার্ড। আসেনসিও এসে পৌঁছানোর আগেই বক্সে ভিড় জমিয়ে ফেলেন সেভিয়ার খেলোয়াড়েরা। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটেও এমন এক আক্রমণে সঠিক খেলোয়াড়কে পাস দিতে পারেননি ভিনিসিয়ুস ও বেনজেমা।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন