কোচ জিনেদিন জিদানের অধীনে তেমন খেলার সুযোগ পাচ্ছেন না ইসকো।
কোচ জিনেদিন জিদানের অধীনে তেমন খেলার সুযোগ পাচ্ছেন না ইসকো। ফাইল ছবি রয়টার্স

দুদিন হয়নি বার্সেলোনার ঘরের মাঠেই  মেসিদের হারিয়ে এসেছে রিয়াল মাদ্রিদ। এই জয়ে পাওয়া যাচ্ছে রিয়ালের দুঃসময় কাটিয়ে ওঠার আভাস। সমর্থকদের কাছ থেকে বাহবা পাচ্ছেন কোচ জিনেদিন জিদানও। অথচ এমন সময়ে কিনা দলের খেলোয়াড়েরই সমালোচনা শুনতে হলো ফরাসি এই কোচকে। প্রত্যাশামাফিক খেলার সুযোগ না পাওয়ায় জিদানের সমালোচনা করেছেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার ইসকো।

মৌসুমের শুরুতে চোট আক্রান্ত ছিলেন ইসকো। চোট থেকে ফেরার পর খেলার সুযোগ পেয়েছেন চারটি ম্যাচ। একটি ম্যাচেও পুরো খেলার সুযোগ পাননি তিনি। এর মধ্যে কেবল দুইটি ম্যাচে ছিলেন প্রথম একাদশে। সব মিলিয়ে খেলেছেন ১৪৮ মিনিট। রিয়ালের শেষ দুই ম্যাচে চ্যাম্পিয়নস লিগে শাখতার দোনেৎস্ক ও লা লিগায় এল ক্লাসিকোতে ছিলেন বেঞ্চে।

বিজ্ঞাপন

১৮০ মিনিটে এক মিনিটও খেলার সুযোগ পাননি। এতে হতাশ হয়ে জিদানের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণের অভিযোগ তুলেছেন ২৮ বছর বয়সী মিডফিল্ডার। ক্লাসিকোতে বেঞ্চে থাকা ইসকো স্বগতোক্তি করছিলেন, ‘সে (জিদান) যদি আমাকে ম্যাচ থেকে তুলে নেন, সেটা ৫০ থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যেই করেন। কখনো মধ্যাহ্ন বিরতিতেই। আবার যদি বদলি হিসেবে মাঠে পাঠান, সেটা ৮০ মিনিটে করেন।’

বেঞ্চে তখন ইসকোর পাশে ছিলেন লেফটব্যাক মার্সেলো, মিডফিল্ডার লুকা মদরিচ ও স্ট্রাইকার লুকা ইয়োভিচ। একটু দূরে থাকলেও লুকাস ভাসকেজ ও এদের মিলিতাও। রিয়ালে এ মৌসুমে এ পাঁচজনও তাঁর মতোই নিয়মিত খেলতে পাচ্ছেন না। এ কারণেই হয়তো এই সতীর্থদের কাছে মনের কষ্টটা খুলে বলেছিলেন। কিন্তু ইসকোর দুর্ভাগ্য এ মুহূর্তটা ধরা পরে গেছে এল পার্টিদাসো টিভির ক্যামেরায়। ইসকোর এ কথা শুনে হেসেছেন মার্সেলো। ইয়োভিচ অবশ্য ওদিকে মন না দিয়ে মোবাইল ব্যবহার করছিলেন। ইসকো, মার্সেলো ও ইয়োভিচের সেদিন আর নামা হয়নি মাঠে। পরে মাঠে নেমে রিয়ালের জয়ে ভালো ভূমিকা রেখেছেন ভাসকেজ ও মদরিচ।

ইসকো জিদানের খুবই প্রিয় খেলোয়াড়। শুধু এই মিডফিল্ডারকে বাড়তি সুযোগ দেওয়ায় রিয়ালে জায়গা পাচ্ছিলেন না হামেস রদ্রিগেজ। এ মৌসুমে তো ক্লাব থেকে বিদায়ই নিয়েছেন হামেস। কিন্তু ইসকোকে ছাড়েননি জিদান। ২০১৬/১৭ মৌসুমেও ইসকোর কারণে একাদশে জায়গা হারিয়েছিলেন বেল। কিন্তু এ মৌসুমে ইসকো আর নিজের জায়গা ধরে রাখতে পারছেন না। অসময়ে চোটে পড়া ভূমিকা ফেলেছে, সুযোগ পেয়েও সেটা কাজে লাগাতে না পারাও তাঁর সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে।

শুধু এই মৌসুমে জিদানের অধীনেই নয়, ২০১৮/১৯ মৌসুমে সান্তিয়াগো সোলারির অধীনেও তেমন খেলার সুযোগ পাননি ইসকো। বেঞ্চে বসে থাকতে থাকতে তো রেকর্ড বইয়ে নাম লিখিয়ে ফেলেছিলেন। সে মৌসুমে তাঁর থেকে বেশি সময় বেঞ্চে বসে থাকেননি লা লিগার কোনো খেলোয়াড়। সৃষ্টিশীল মিডফিল্ডার হিসেবে ইসকোর সুনাম থাকলেও রক্ষণ সামলাতে তাঁর আগ্রহ কম। শারীরিক গঠনের কারণে প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নিতে পারায়ও তাঁর দক্ষতা নেই। আর সৃষ্টিশীলতার ছাপও ইদানীং দেখা যাচ্ছে না। নিবেদন ও একাগ্রতার পূজারি কোচের জন্য তাঁকে দলে নেওয়া তাই কঠিন হয়ে উঠছে। সেটা কোচ হিসেবে সোলারি থাকুন কিংবা জিদান।

বিজ্ঞাপন
default-image

অধিনায়ক সের্হিও রামোসের কথাতেই বোঝা যায় জয়ের জন্য সর্বোচ্চ না দিয়ে এখন টিকে থাকা কঠিন। ক্যাম্প ন্যুতে বার্সেলোনাকে হারানোর পর বলেছিলেন, ‘এই জয়টি দলের প্রতিটি বিভাগের ভালো রক্ষণ কাজের ফল। আমরা দৌড়েছি, কষ্ট করেছি, এবং এ জন্য এই জয়।’ পুরো মৌসুম জুড়ে এভাবে খেলে যাওয়ার প্রত্যাশা রিয়াল অধিনায়কের, ‘এভাবে পুরো মৌসুম জুড়ে খেলতে হবে। খেলার এই মনোভাবের সঙ্গে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না।’

মন্তব্য পড়ুন 0