বেশ চাপে আছেন জিদান।
বেশ চাপে আছেন জিদান। ছবি: রয়টার্স

সময়টা ভালো যাচ্ছে না রিয়াল মাদ্রিদের। শুধু গত কয়েক সপ্তাহের কথাই চিন্তা করে দেখুন, অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের কাছে সুপারকোপার সেমিফাইনালে হেরে দলটা বাদ পড়েছে। এরপর আলকয়ানোর মতো অখ্যাত এক ক্লাবের কাছে হেরে কোপা দেল রের শেষ ৩২ থেকেও বিদায় নিয়েছে। এই কয় সপ্তাহেই সমর্থকেরা লিগে ওসাসুনা ও এলচের মতো দলগুলোর বিপক্ষে রিয়ালকে ড্র করতে দেখেছেন। এমনকি লিগে সর্বশেষ ম্যাচেও রিয়াল হেরেছে লেভান্তের কাছে, ২-১ গোলে।

অন্য যেকোনো ক্লাবের কোচ হলেই এমন ফলাফলের পর চাকরি নিয়ে টানাটানি পড়ে যায়, আর সেখানে এ ক্লাব তো রিয়াল মাদ্রিদ। কোচ জিনেদিন জিদান আগে যত যা-ই জেতান না কেন ক্লাবটাকে, এখনকার হতোদ্যম অবস্থার জন্য চাকরি নিয়ে তিনিও আছেন বেশ চিন্তায়। চিন্তাগুলো আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে বিভিন্ন স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের একাধিক সংবাদ, আলোচনা, বিশ্লেষণ, যার কোনোটাই জিদানের পক্ষে নেই। ফরাসি কিংবদন্তি তাই সাংবাদিকদের ওপর না চটে থাকেন কী করে?

বিজ্ঞাপন

আগামীকাল উয়েস্কার বিপক্ষে ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে তাই সাংবাদিকদের একহাত দেখে নিয়েছেন এই ফরাসি কোচ। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মানুষের কথা শুনে দায়িত্ব ছেড়ে পালানোর লোক তিনি নন।

default-image

‘মানুষ বললেই যে আমি দায়িত্ব ছেড়ে দেব, ব্যাপারটা তেমন নয়। খেলোয়াড়েরাও যে হাল ছেড়ে দেবে, ব্যাপারটা তেমনও নয়। হ্যাঁ, একটা অস্বস্তিকর জিনিস নিয়ে অনেক কথাবার্তা চলছে, কোচ বদলানোর কথাও চলছে, কিন্তু আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব যেন এ অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এই স্কোয়াড নিয়েই আমরা মৌসুম শেষ করতে চাই। আমি জানি, আমরা এখন আমাদের সেরা অবস্থানে নেই, কিন্তু আমি হাল ছাড়তে রাজি নই’—সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন জিদান।

প্রতিটি ম্যাচের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে যেন নতুন নতুন করে জিদানের ভবিষ্যৎ লেখা হয়। রিয়াল এক ম্যাচে জিতলে সবাই জিদানকে নিয়েই আগামী দিনের স্বপ্ন দেখেন, হারলে বা ড্র করলেই শুরু হয় জিদানের মুণ্ডুপাত। এ কারণেই সাংবাদিকদের ওপর চটেছেন জিদান, ‘দিন শেষে আপনারাও আপনাদের কাজ করেন। একদিন আমাকে বিদায় করে দেন, পরের দিনই আবার আমাকে চাকরি পাইয়ে দেন। হারলেই আমি বাদ। ড্র করলেও বাদ। এটাই করছেন আপনারা দিনের পর দিন।’

সবার কাজেরই গুরুত্ব আছে, আছে অনেক কষ্ট। সেটাই মনে করিয়ে দিয়েছেন জিদান, ‘আমার রাগ হয়, কারণ আমিও তো আমার কাজ করতে চাইছি, তাই না? আমাদের কাজেও আমাদের যুদ্ধ করতে হয়, আপনাদের কাজেও আপনারা লড়াই করেন। কিন্তু আমরা যে যেই কাজ করি না কেন, একজন আরেকজনের কাজকে একটু সম্মান তো দিতেই পারি।’

বিজ্ঞাপন

যে দল মাত্র গত মৌসুমেই লিগ জিতেছে, তাদের নিয়ে ক্রমাগত এমন আলোচনা কতটুকু ফলপ্রসূ, সেটা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন জিদান, ‘গত বছরই তো লিগ জিতলাম। গত মৌসুমে। এমন তো না যে দশ বছর আগে লিগ জিতেছি। আমাদের লড়াই করতে দিন। আর কিছু বলার থাকলে আমার মুখের সামনে বলুন। পেছনে না।’

কিন্তু হঠাৎ করে জিদানের এভাবে মেজাজ হারিয়ে ফেলাও বোঝায়, রিয়ালের ডাগআউটে এই মুহূর্তে কতটা চাপে আছেন ফরাসি কিংবদন্তি। জিদান মানে স্মিত হাসির নিপাট ভদ্রলোক, সংবাদ সম্মেলনে যাঁর উত্তরগুলো সব সময় কূটনীতিবিদ হলে জিদান ক্যারিয়ারে সাফল্যের কত উঁচু শিখরে উঠতে পারতেন, সে আলোচনা তুলে দেয়, সেই জিদানই এবার দেখা দিলেন অন্য রূপে।

একে তো দলের পারফরম্যান্স ভালো হচ্ছে না, অধিনায়ক সের্হিও রামোস আর ১০ কোটিতে কেনা ফরোয়ার্ড এদেন হ্যাজার্ড চোটে পড়ায় জিদানের হাতে বিকল্পও কম। তার ওপর ফরাসি কিংবদন্তি কদিন আগে আক্রান্ত হয়েছিলেন করোনাভাইরাসে। এত কিছু সামলানোর মধ্যে চাকরি নিয়ে প্রতিদিন কথা বলতে হচ্ছে!

সবকিছুর পরও তাঁর এমন খেপে যাওয়া পাল্টা প্রশ্ন তুলে দেয়, ‘জিজু’ নিজেও কি চাপটা টের পেতে শুরু করেছেন?

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন