ম্যারাডোনার এ ছবিটাই মনে রাখবেন নেপলসবাসী।
ম্যারাডোনার এ ছবিটাই মনে রাখবেন নেপলসবাসী। ছবি: নাপোলি টুইটার

ডিয়েগো ম্যারাডোনা মানেই দুই রকম ছবি। প্রকৃতি তাঁকে অকৃপণ হাতে দিয়েছে। সেটা দেখাতে নিজেও কোনো কার্পণ্য করেননি, তাঁর পায়ের ছন্দ বিহ্বল করে রেখেছিল সবাইকে। ফুটবল প্রতিভায় তাঁর ধারেকাছে কেউ কখনো ছিলেন কি না, সে আলোচনা চলে। অন্য দিকটা একটু অস্বস্তিকর আলোচনার জন্ম দেন। খামখেয়ালি, নিয়ন্ত্রণহীন জীবনযাপনেও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী খুব কমই ছিল। ২৫ নভেম্বর সবাইকে কাঁদিয়ে বিদায় নেওয়ার পেছনে তাঁর সে জীবনটাই প্রভাব ফেলেছে।

খামখেয়ালি ছিলেন, ছিলেন একরোখা। ফলে বহু যুদ্ধ করে দলে নেওয়ার পরও তাঁকে ছেড়ে দেয় বার্সেলোনা। নাপোলিতে গিয়ে নিজের ঘর খুঁজে পেয়েছিলেন। ক্লাব আর নেপলস শহরকে মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবেসেছিলেন। তাঁর ছোঁয়ায় সাফল্যের দেখা পাওয়া শহরটিও পাগলের মতো ভালোবাসে তাঁকে। কিন্তু এই ভালোবাসাই নাকি কাল হয়েছিল। নাপোলিতে না গিয়ে জুভেন্টাসে খেললে নাকি এখনো জীবিত থাকতেন ম্যারাডোনা। এমন এক দাবি করে বসেছেন আন্তোনিও কাব্রিনি।

বিজ্ঞাপন
default-image

ম্যারাডোনার সময়েই সিরি ‘আ’তে ছিলেন কাব্রিনি। জুভেন্টাসের জার্সিতে খেলা এই ডিফেন্ডার ইতালির হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন। ম্যারাডোনার সামনেই জিতেছেন সিরি ‘আ’। কিংবদন্তির দাপটটা সামনে থেকে দেখেছেন। তবে তাঁর ধারণা, মাঠে যতটা দুর্দান্ত ছিলেন মাঠের বাইরে, ঠিক ততটাই হতাশাজনক ছিলেন ম্যারাডোনা। অনিয়ন্ত্রিত জীবনে নিজের সর্বনাশ ডেকে এনেছেন। তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর ইরপিনিয়া টিভিতে গিয়ে বলেছেন, ‘জীবন্ত কিংবদন্তি এবং প্রতিপক্ষ হিসেবে দারুণ ভদ্রলোক। অন্য অনেক চ্যাম্পিয়নের মতো একই সঙ্গে নিজের সেরা এবং বাজেটা দিতে পারতেন। মাঠে ম্যারাডোনা একাই ম্যাচ জিতিয়ে ফিরতে পারতেন এবং অন্য পরিবেশে থাকলে জীবনের ম্যাচেও জয় পেতেন। যে ম্যাচটা বড় তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল। তিনি যদি জুভেন্টাসে আসতেন, তাহলে হয়তো এখনো আমাদের সঙ্গে থাকতেন। কারণ, সেখানকার পরিবেশটাই তাঁকে বাঁচাত। ক্লাব নয়, ক্লাবের পরিবেশ।’

এর পেছনে নেপলসবাসীর আবেগকেই প্রধান কারণ মনে হয়েছে কাব্রিনির। তাঁর ধারণা, নাপোলিতে যে প্রবল স্বাধীনতা পেয়েছেন, সেটাই ম্যারাডোনার ক্ষতির কারণ হয়েছে। ক্লাবের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়ের আচরণের ত্রুটি দেখেও না দেখার ভান করেছে তারা। মাদকের ব্যবহার নিয়ে কোনো আপত্তি তোলেনি তারা। আর এটাই ম্যারাডোনার স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছিল, ‘নেপলসবাসীর ভালোবাসা নিখাদ এবং তীব্র কিন্তু এটা অসুস্থ ছিল। নেপলস তাঁকে পাগলের মতো ভালোবাসত, সেটা ছিল অসুস্থ ভালোবাসা। এটা অনেকটা মায়ের ভালোবাসার মতো, যে সন্তান ভুল করলেও তাকে কোনো শাস্তি দেওয়া হতো না। ম্যারাডোনা মানেই ফুটবল আর নেপলস তাঁকে বেছে নিয়েছিলে। যত ভুলই করুন না কেন, তাঁকে দেবদূত বলে শ্রদ্ধা জানাত।’

default-image

১৯৯১ সালে নাপোলি ছাড়ার পর তাঁর প্রতি ভালোবাসা কমেনি নেপলসবাসীর। দুটি লিগ শিরোপা জিতিয়েছেন এ ক্লাবকে। ইউরোপা লিগও জিতিয়েছেন।। ক্লাবটি এ ধরনের সাফল্যের দেখা আর পায়নি। কিংবদন্তির মৃত্যুর পর তাই স্টেডিয়ামের নাম বদলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপলস। নিজেদের প্রিয় পুত্রকে নিয়ে এমন কথাবার্তা শুনে তাই খেপে উঠেছে এ শহরের বাসিন্দারা। অবস্থা বেগতিক দেখে সুর পাল্টেছেন কাব্রিনি, বলেছেন, তাঁর কথার ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, ‘আপনারা সবাই আমার কথা বুঝতে ভুল করেছেন। আমি একটি শহরের নৈতিকতা নিয়ে কথা বলিনি, বরং শহরের যে জীবনযাপনের ধরন, সেটা নিয়ে বলেছি, যা এই আবেগটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। আমি ভেবেছি, আমি জুভেন্টাসে যে নিস্তরঙ্গ পরিবেশ পেয়েছি, সেটা তাঁকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারত। কেউ আমার কথায় দুঃখ পেয়ে থাকলে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন