নেপালে তিনজাতি টুর্নামেন্টে কিরগিজ দলের বিপক্ষে জয়ের স্বস্তি বাংলাদেশের।
নেপালে তিনজাতি টুর্নামেন্টে কিরগিজ দলের বিপক্ষে জয়ের স্বস্তি বাংলাদেশের।ছবি: বাফুফে

বাংলাদেশ ও কিরগিজস্তানের লক্ষ্য একই—দুটি দলের কাছেই কাঠমান্ডুর তিন জাতি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টটিতে নতুনদের পরখ করে নেওয়া। সঙ্গে ট্রফি জেতা গেলে, তাতে তো সোনায় সোহাগা। গতকাল কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে কিরগিজস্তান অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে ১-০ গোলে হারিয়ে শুরুটা ভালোই করেছে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে কিরগিজ কোচ নুরবেক জলদোস জেমি ডের দলকে ভাসিয়েছেন প্রশংসায়।

জেমির অধীনে বাংলাদেশ সাধারণত খেলে থাকে ‘ডিরেক্ট ফুটবল ’। নিচ থেকে লম্বা পাসে প্রতিপক্ষের বক্সে ঢোকার চেষ্টা। যদিও বাংলাদেশের ফুটবলাররা শারীরিকভাবে তুলনামূলক পিছিয়ে থাকায় এ কৌশলের সমালোচনা করেন অনেকে। কিন্তু জয় পেলে সেই সমালোচনা চাপা পড়ে যায়। কাল কিরগিজ কোচও বলেছেন জেমির কৌশলের কথা, ‘বাংলাদেশের খেলা দেখে মনে হয়েছে, তারা ইংলিশ ঘরানার ফুটবল খেলছে। কোচ একজন ইংরেজ বলেই হয়তো এই কৌশল।’

default-image

কাল দশরথে প্রথমার্ধটা ভালোই খেলেছিল সোহেল রানা, সাদউদ্দিনরা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধ নিয়ন্ত্রণ করেছে প্রতিপক্ষ দল। আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যাওয়ায় দ্বিতীয়ার্ধে নিজেরা রক্ষণাত্মক হয়ে প্রতিপক্ষকে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে বাংলাদেশই। ম্যাচের শেষ দিকে সমতায় ফেরার মতো কয়েকটি আক্রমণও করেছে কিরগিজস্তান। কিন্তু গোল মিসের খেসারত দিতে হয়েছে তাদের। গোল মিসের আক্ষেপ কিরগিজস্তান কোচের ,‘আমার দল নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারেনি। বেশ কয়েকটি গোলও মিস করেছে।’

জেমি ডে আনন্দিত জয় পাওয়ায়। সেই সঙ্গে নতুনদের পরখ করে দেখেও স্বস্তিতে তিনি, ‘আমরা কোনো গোল হজম করিনি। এতে আমি খুবই খুশি। বল দখলের লড়াইয়ে ওদের চেয়ে এগিয়ে ছিলাম। কিছু নতুন খেলোয়াড়কে দেখলাম। তারা যেভাবে খেলেছে, আমি এতে খুশি।’

default-image
বিজ্ঞাপন

দ্বিতীয়ার্ধে পাঁচ খেলোয়াড়কে বদলি হিসেবে নামানো হয়। এর পরপরই বাংলাদেশ দল কিছুটা চাপে পড়ে যায়। এ ব্যাপারে জেমির যুক্তি, ‘দলের কম্বিনেশন তৈরি করার জন্য তাঁদের নামানো। তাঁরা নিয়মিত লিগের ম্যাচ খেলে থাকায় কিছুটা ক্লান্ত ছিল। সেটির প্রভাব পড়েছে । আমি মনে করি, নেপাল জাতীয় দলের বিপক্ষে পরের ম্যাচে বাংলাদেশ আরও ভালো খেলবে।’

স্বাগতিকদের বিপক্ষে বাংলাদেশের কোন একাদশ খেলবে , সেটি নির্ভর করবে আগামীকাল নেপাল আর কিরগিজস্তান অনূর্ধ্ব-২৩ দলের ম্যাচের ফলের ওপর। কাল নেপাল না হারলেই ফাইনালে চলে যাবে বাংলাদেশ। সে ক্ষেত্রে নেপালের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দেবেন জেমি ,‘নেপাল ম্যাচের আগেই যদি ফাইনাল খেলা নিশ্চিত হয়ে যায় আমাদের, তাহলে সে ম্যাচে নতুন খেলোয়াড়দের আরও বেশি সুযোগ দিতে পারি। আর যদি নেপালের বিপক্ষে ফাইনাল খেলার লড়াইয়ে নামতে হয়। সে ক্ষেত্রে কৌশল অন্য রকম হবে।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন