প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর নিয়ে বার্সেলোনায় তল্লাশি চালায় পুলিশ
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর নিয়ে বার্সেলোনায় তল্লাশি চালায় পুলিশছবি: এএফপি

প্রথমে সান্দ্রো রোসেল। এরপর জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ। ভবিষ্যতে এ দুজনের দিকে যখন বার্সেলোনা পেছন ফিরে তাকাবে, দীর্ঘশ্বাস ছাড়া কিছু বেরোবে না হয়তো।

চলতি শতকে এ দুজনের কল্যাণে বার্সেলোনা যত ভুগেছে, অন্য কোনো ক্লাব কোনো সভাপতির অধীন মাঠ ও মাঠের বাইরের কাণ্ডে অতটা ভুগেছে কি না, গবেষণার বিষয়। তবে বার্সার একটা অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড অবশ্য গবেষণা করে বের করতে হচ্ছে না। সরাসরি চোখেই পড়ে যাচ্ছে।

বার্তোমেউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বড় অদ্ভুত এক অভিযোগে। তিনি বাইরের একটি প্রতিষ্ঠানকে টাকা দিয়েছিলেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজ দলের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে দুর্নাম ছড়াতে।

কেউ কি এমনটা কখনো শুনেছেন, খেলোয়াড়েরা ক্লাবের জন্য সুনাম বয়ে নিয়ে আসছেন, ক্লাবকে গর্বিত করছেন, সেই ক্লাবেরই সভাপতি প্রতিষ্ঠান ভাড়া করছেন সেই খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর জন্য?

বিজ্ঞাপন

নিজের স্বার্থে অন্ধ হয়ে বার্তোমেউ এমনটাই করেছেন। গত দেড় দশকে যে খেলোয়াড় ও কোচের হাত ধরেই বার্সেলোনার সিংহভাগ সাফল্য এসেছে, সেই মেসি, পিকে, গার্দিওলারাই শিকার হয়েছেন বার্তোমেউর কূটকৌশলের।

এ নিয়ে বার্সেলোনার দুই সভাপতিকে জেলের ঘানি টানতে হলো। এটা একটা অনন্য ঘটনাই। বার্সেলোনা ছাড়া আর কোনো ক্লাবের ক্ষেত্রেই এমন ঘটনা ঘটেনি। অনাকাঙ্খিত হলেও এটি একটি রেকর্ড।

default-image

এর আগে জেলে যেতে হয়েছিল সান্দ্রো রোসেলকে। রোসেলকে মনে পড়ে তো? ভদ্রলোক ছিলেন এই বার্তোমেউরই পূর্বসূরি। ২০০৯ সাল থেকে টানা চার বছর নিজেদের ইতিহাসের সেরা সময় কাটিয়েছিল বার্সেলোনা।

২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সভাপতি ছিলেন রোসেল। প্রথম তিন বছর ভালোভাবেই সভাপতিত্ব করেছেন, ঝামেলা বাধে নেইমারকে দলে আনতে গিয়ে। তাঁর কূটকৌশলেই দলবদলের বাজারে নেইমারকে পাওয়ার লড়াইয়ে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়েছিল বার্সেলোনা।

সেই দলবদলে কত টাকার লেনদেন হয়েছে, কাকে কাকে কোন খাতে টাকা দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে রোসেল পরিষ্কারভাবে কিছু বলতে পারেননি।

নেইমারকে দলে টানার সময় সান্তোসকে কম অর্থ দেওয়ার জন্য দলবদলের অঙ্ক কম করে দেখিয়েছিলেন রোসেল। সেই দলবদলের আর্থিক বিষয়গুলো গোলমেলে হওয়ার দায়ে নেইমারকে দলে আনার ছয় মাসের মাথায় বার্সা সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছিল রোসেলকে। ফলে জালিয়াতি ও মানি লন্ডারিংয়ের দায়ে দুই বছর জেল খাটতে হয়েছে এই সভাপতিকে।

default-image

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে শর্ত সাপেক্ষে জামিন দেওয়া হয় রোসেলকে। ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনার সভাপতি থাকা রোসেলকে পরে সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় আস্তে আস্তে।

জেলে যাওয়ার মাধ্যমে উত্তরসূরি বার্তোমেউ যেন তাঁর সাবেক রোসেলকেই মনে করিয়ে দিলেন আরেকবার। আর বার্সেলোনাকে ‘উপহার’ দিলেন আরেক ছত্র গ্লানির রেকর্ড।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন