লিভারপুলের আক্রমণভাগ ঝলসে উঠেছিল গত রাতে।
লিভারপুলের আক্রমণভাগ ঝলসে উঠেছিল গত রাতে। ছবি: রয়টার্স

মূল ডিফেন্ডার ভার্জিল ফন ডাইক নেই। নেই তাঁর বিকল্প হিসেবে খেলা দলের আরও দুই তারকা ফাবিনিও ও জল মাতিপ। জো গোমেজের ফর্মও ভরসা জাগায় না। দলের মূল স্ট্রাইকার রবার্তো ফিরমিনোরও ফর্ম নেই। সব মিলিয়ে আনকোরা ডিফেন্ডার রিস উইলিয়ামসকে মূল একাদশে খেলানোর পরিকল্পনা নিয়ে ইতালির বের্গামোতে আতালান্তার বিপক্ষে খেলতে গিয়েছিল লিভারপুল, আর ফিরমিনোর জায়গায় নামানো হয়েছিল দলে নতুন আসা পর্তুগিজ উইঙ্গার দিওগো জোতাকে। অবিশ্বাস্যভাবে এই দুর্বল দলই আতালান্তার মতো চমক–জাগানিয়া দলকে হারিয়ে বসল ৫-০ গোলে। রিস উইলিয়ামসরা দলকে গোল খেতে দেননি, ওদিকে জোতা করেছেন হ্যাটট্রিক!

৪-৩-৩ ছকে লিভারপুলের গোলবারের নিচে ছিলেন আলিসন, সেন্ট্রাল ডিফেন্সে উইলিয়ামসের সঙ্গে গোমেজ। রক্ষণভাগের দুদিকে যথারীতি আলেক্সান্ডার-আরনল্ড (ডান) ও অ্যান্ডি রবার্টসন (বাঁ)। মাঝমাঠে জর্জিনিও ভাইনালডমের দুপাশে জর্ডান হেন্ডারসন ও তরুণ তারকা কার্টিস জোন্স। আক্রমণভাগে জোতার দুপাশে খেলেছেন মোহাম্মদ সালাহ ও সাদিও মানে। ওদিকে যথারীতি নিজেদের ৩-৪-১-২ ছকেই থেকেছে আতালান্তা। জিয়ান পিয়েরো গাসপেরিনির দলের গোলরক্ষক ছিলেন মার্কো স্পোর্তিয়েল্লো, রক্ষণভাগে রাফায়েল তোলোই, বেরাত জিমসিতি ও লুইস পালোমিনো। ডাচ্‌ তারকা মার্তেন ডে রুন না থাকায় মাঝমাঠে সুইস তারকা রেমো ফ্রয়লারের সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন সাবেক চেলসি তারকা মারিও পাসালিচ। দুই উইংব্যাক হান্স হাটেবোর ও ইয়োহান মোহিকা। আর অধিনায়ক আলেহান্দ্রো গোমেজকে একটু নিচে রেখে ওপরে খেলেছেন দুই কলম্বিয়ান স্ট্রাইকার লুইস মুরিয়েল ও দুভান জাপাতা।

default-image
বিজ্ঞাপন

জাপাতা ও মুরিয়েলের মতো দুই শক্তিশালী সেন্টার ফরোয়ার্ডকে তরুণ সেন্টারব্যাক উইলিয়ামস কীভাবে সামলান, প্রশ্ন ছিলই। নব্বই মিনিট পর সে প্রশ্নই উড়ে গেল কর্পূরের মতো। প্রথম মিনিট থেকে আতালান্তাকে চেপে ধরে লিভারপুল। আতালান্তার আক্রমণভাগ দুর্দান্ত হলেও রক্ষণভাগ অতটা পোক্ত নয়। আতালান্তার খেলার ধরন ও দলের ‘কাঠামো’ বজায় রাখতে ডিফেন্ডাররা যতটুকু ভালো, তাঁদের মূল কাজ যেটা, সেটাই করতে খাবি খান মাঝেমাঝে। আর সেই দুর্বলতার পূর্ণ সুবিধা নিয়েছেন জোতা-সালাহ-মানেরা। আতালান্তার ডিফেন্ডাররা ওপরে উঠে এলেই পেছনের ফাঁকা জায়গাটুকুতে হুটহাট লিভারপুলের খেলোয়াড়েরা তাণ্ডব চালিয়েছেন। ১৫ মিনিটের মধ্যেই অন্তত তিনটি দুর্দান্ত সুযোগ পায় লিভারপুল, মানে, জোতা ও জোন্সের কল্যাণে। প্রতিটিই বাঁচিয়ে দেন আতালান্তার গোলরক্ষক স্পোর্তিয়েল্লো। এরপর আর থামাতে পারেননি লিভারপুলের আক্রমণ। ম্যাচের ১৬ মিনিটে আলেক্সান্ডার-আরনল্ডের কাছ থেকে বল নিয়ে দলকে এগিয়ে দেন জোতা।

default-image

৩৩ মিনিটে আবারও জোতার তাণ্ডব। এবার সহায়তাকারীর ভূমিকার গোমেজ। রক্ষণভাগ থেকে উড়ে আসা এক বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পাকা স্ট্রাইকারের মতো গোল করে লিভারপুলকে ২-০ গোলে এগিয়ে দেন জোতা। দ্বিতীয়ার্ধের দ্বিতীয় মিনিটে মারাত্মক এক প্রতি–আক্রমণে গোলদাতার তালিকায় নাম লেখান মোহাম্মদ সালাহ। পরের ১০ মিনিটে আরও ২ গোল করে বসেন জোতা ও মানে। এরপরেই নিজেদের আক্রমণে একটু লাগাম দেয় লিভারপুল। ম্যাচ শেষ হয় ৫-০ গোলে।

এই নিয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১০ ম্যাচে ৭ গোল করা হয়ে গেল জোতার; একজন উইঙ্গার হিসেবে গোল করার যে হারটা প্রশংসা পাওয়ার মতোই। ১৯৯৩ সালে ইংলিশ স্ট্রাইকার রবি ফাওলারের পর কেউ নিজের লিভারপুল ক্যারিয়ারের প্রথম ১০ ম্যাচে এত গোল করতে পারেননি। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় নিজের শেষ আট ম্যাচে তিনটি হ্যাটট্রিক হয়ে গেল এই পর্তুগিজ তারকার। বাকি দুটি হ্যাটট্রিক সাবেক ক্লাব উলভারহ্যাম্পটনের হয়ে।

এই জয়ের ফলে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট পাওয়া হয়ে গেল লিভারপুলের। তিন ম্যাচে ৮ গোল করার পাশাপাশি একটা গোলও খায়নি তারা; ফন ডাইক-ফাবিনিওবিহীন রক্ষণভাগে যে তথ্যটা আশা জোগাবে ক্লপের মনে।

গ্রুপের আরেক ম্যাচে ড্যানিশ ক্লাব মিতিউলানকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আয়াক্স। ১৩ মিনিটের মধ্যেই ডাচ্‌ ক্লাবকে ২-০ গোলে এগিয়ে দেন নতুন খেলোয়াড় আন্তোনি সান্তোস ও অভিজ্ঞ দুসান তাদিচ। ১৮ মিনিটে মিতিউলানের হয়ে একমাত্র গোল করেন অ্যান্ডার্স ড্রেয়ার।

default-image
বিজ্ঞাপন

গ্রুপ ‘সি’–তে অলিম্পিয়াকোসের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জিতেছে ম্যানচেস্টার সিটি। গোল করেছেন স্প্যানিশ উইঙ্গার ফেরান তোরেস, ব্রাজিলের স্ট্রাইকার গ্যাব্রিয়েল জেসুস ও রাইটব্যাক জোয়াও ক্যানসেলো। ওদিকে রেড বুল সালজবুর্গকে ৬-২ গোলে বিধ্বস্ত করেছে বায়ার্ন মিউনিখ। মেরগিম বেরিশার গোলে চার মিনিটেই এগিয়ে যায় সালজবুর্গ। পরে বায়ার্নকে সমতায় ফেরান স্ট্রাইকার রবার্ট লেফানডফস্কি। রাসমুস ক্রিস্টিয়ানসেনের আত্মঘাতী গোলে এগিয়েও যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু ৬৬ মিনিটে মাসায়া ওকুগাওয়ার গোলে সমতায় ফেরে সালজবুর্গ।

এরপরই বায়ার্ন শুরু করে তাণ্ডব। শেষ ১১ মিনিটে চার গোল করে ম্যাচটাকে সালজবুর্গের ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যান লেফানডফস্কি, সানে, বোয়াতেং ও লুকাস এর্নান্দেস। এই জয়ে গ্রুপের শীর্ষে বায়ার্নের অবস্থান আরও পোক্ত হলো।

মন্তব্য পড়ুন 0