বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বল পায়ে নিয়ে বুদ্ধিমান চিলওয়েল বুঝলেন, সেটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য বাড়তি এক-দুই সেকেন্ড খরচ করতে গেলে তাঁর দিকে দৌড়ে এগিয়ে আসা সিটির রাইটব্যাক কাইল ওয়াকার তা কেড়ে নিতে পারেন। তাই চিলওয়েল খরচ করলেন মাত্র একটা স্পর্শ। চিলওয়েলের ওই এক স্পর্শেই বল চলে গেল সামনে থাকা মেসন মাউন্টের দিকে। যিনি ততক্ষণে সিটির সেন্টারব্যাক জন স্টোনসকে নিজের জায়গা থেকে সরিয়ে এনেছেন। চকিতে ঘুরে মাউন্ট দেখলেন, সতীর্থ ভেরনারও একই কাজ করেছেন সিটির আরেক সেন্টারব্যাক রুবেন দিয়াসের সঙ্গে, সরিয়ে এনেছেন জায়গা থেকে। আর ওই ফাঁকা জায়গায় ছুটে যাচ্ছেন আরেক সতীর্থ কাই হাভার্টজ। যাঁকে ধরার জন্য পড়িমরি করে ছুটছেন ইউক্রেনিয়ান লেফটব্যাক আলেকসান্দর জিনচেঙ্কো, কিন্তু পারছেন না।

ব্যস, সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন মাউন্ট। পাস বাড়ালেন হাভার্টজকে, গোলকিপার এদেরসনকে কাটিয়ে বাকি কাজটা করতে বেগ পেতে হলো না এই জার্মান স্ট্রাইকারের।

default-image

মেন্দি, চিলওয়েল, মাউন্ট, ভেরনার, হাভার্টজ—চেলসির গোলের এই পাঁচ মূল কারিগর। টুখেলের অধীনে তাঁদের উন্নতি হলেও এই পাঁচ ফুটবলারের প্রতিভা কিন্তু প্রথম চিনেছিলেন চেলসির বিদায় হয়ে যাওয়া কোচ ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। তাঁদের চেলসিতে নিয়ে আসার প্রক্রিয়াটা শুরু সাবেক চেলসি তারকারই হাতে। ল্যাম্পার্ডের তৈরি করে যাওয়া ভিতের ওপর দাঁড়িয়েই ইউরোপসেরা হওয়ার গৌরব গায়ে মাখলেন টুখেল। ইউরোপসেরা হওয়ার এই সম্মান কি তাই একটু হলেও ল্যাম্পার্ডের প্রাপ্য নয়?

মেন্দি, চিলওয়েল, ভেরনার, হাভার্টজ—গোলের প্রত্যেক কারিগরই ল্যাম্পার্ডের হাত ধরে স্টামফোর্ড ব্রিজে এসেছেন। বিশ্বের সবচেয়ে দামি গোলকিপার কেপা ভালো করছেন না, সেটি দেখার পর তাঁকে বেঞ্চে বসিয়ে রেখে নতুন আরেক গোলকিপার কেনার সাহস এই ল্যাম্পার্ডই দেখিয়েছিলেন প্রথম। রেনেঁ থেকে দলে টেনেছিলেন মেন্দিকে। ২৯ বছরের সেই মেন্দি আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের দশ ম্যাচে গোল না খেয়ে চেলসির সাফল্যের অন্যতম নায়ক।

default-image

প্রতিভাবান কিছু ইংলিশ তরুণকে আনতে চেয়েছিলেন চেলসিতে। নিজে যখন খেলতেন, তখন তাঁর পাশাপাশি লেফটব্যাক হিসেবে চেলসি মাতাতেন আরেক ইংলিশ—অ্যাশলি কোল। সেই চিন্তা থেকেই কি না, আর্জেন্টিনার নিকোলাস তালিয়াফিকো নয়, বরং লেস্টারের ইংলিশ প্রতিভা বেন চিলওয়েলকে যেকোনো মূল্যে চেলসির জার্সি দিয়েছেন। লিভারপুলের হাত থেকে টিমো ভেরনারকে ছিনিয়ে নেওয়ার গল্প তো সবারই জানা, নিজে ফোন করে ক্লপের গুণমুগ্ধ এই ভক্তকে চেলসির মায়ায় জড়িয়েছেন। জানিয়েছিলেন, ভেরনারই হবেন নতুন দিনের চেলসি আক্রমণভাগের প্রধান সারথি।

একই কথা খাটে কাই হাভার্টজের বেলায়ও। এক বছর আগে যে খেলোয়াড়কে দলে নেওয়ার জন্য রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবগুলো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল, ল্যাম্পার্ডের কারণে বায়ার লেভারকুসেন থেকে হাভার্টজও নাম লিখিয়েছিলেন চেলসিতে, আস্থা রেখেছিলেন ল্যাম্পার্ডের প্রকল্পে।

আর মাউন্ট? সেই ডার্বি কাউন্টি থেকে এই তরুণের প্রতি আস্থা ছিল ল্যাম্পার্ডের। নিজে যখন ডার্বির ম্যানেজার ছিলেন, চেলসি থেকে ধারে এই মিডফিল্ডারকে নিয়েছেন, গড়েছেন নিজের মতো। পরে চেলসির ম্যানেজার হলেন যখন, অন্য যেকোনো মিডফিল্ডারের চেয়ে মাউন্টকে গুরুত্ব দিয়েছেন বেশি। এতটাই যে মাউন্ট খারাপ খেললে রব উঠে যেত, ল্যাম্পার্ডের প্রিয় শিষ্য বলেই ম্যাচের পর ম্যাচ সুযোগ পেয়ে যাচ্ছেন এই তরুণ। টুখেল আসার পরেও মাউন্ট দলে জায়গা ধরে রেখে বুঝিয়েছেন, ব্যাপারটা অমন নয়। নিজের যোগ্যতাবলেই দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি।

চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার পর ধন্যবাদ পেয়ে ল্যাম্পার্ড যদি চেলসির মালিক রোমান আব্রামোভিচ ও কোচ টমাস টুখেলের কাছ থেকে দুটি টেক্সট মেসেজও পান, নিজের এই কৃতিত্বের কারণেই পাবেন। কারণ চেলসির এই সাফল্যে টুখেলের অবদান সবচেয়ে বেশি হলেও মঞ্চটা বানিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন কিন্তু এই ল্যাম্পার্ডই।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন