টটেনহামে ফিরছেন বেল?

বেলকে ছেড়ে দিতে পারলেই যেন বাঁচে রিয়াল মাদ্রিদ।
বেলকে ছেড়ে দিতে পারলেই যেন বাঁচে রিয়াল মাদ্রিদ।ফাইল ছবি, এএফপি
বিজ্ঞাপন

রিয়াল মাদ্রিদ কোচ জিনেদিন জিদান তাঁকে ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন গত মৌসুমেই। কিন্তু রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ তাঁকে বিনা পয়সায় ছাড়তে রাজি হননি। হাজার হোক, এক সময় তো বেলকে রেকর্ড গড়েই মাদ্রিদে এনেছিলেন পেরেজ। আশা করেছিলেন, বেলের কাঁধেই সওয়ার হবে আগামীর স্বপ্ন। সে স্বপ্ন পূরণ হয়নি।

এখন বেল কে ক্লাব থেকে কোনোভাবে বিদায় করতে পারলেই বাঁচে রিয়াল মাদ্রিদ। মাঠের পারফরম্যান্সে গত মৌসুমেও জিদানকে সন্তুষ্ট করতে পারেননি বেল। ফলে বিরতির পর ১২ ম্যাচে মোটে ১০০ মিনিট মাঠে ছিলেন বেল। লিগের শেষ সাত ম্যাচে তো নামাই হয়নি তাঁর। চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে স্কোয়াডেই রাখা হয়নি বেলকে। এ ব্যাপারে জিদান বলেছেন, বেল নিজেই নাকি নাম কেটে দিতে বলেছেন। তবে বেলের দাবি, তাঁর এমন আচরণের পেছনে ক্লাবেরই দায় বেশি। ফলে সব মিলিয়ে বেল চলে গেলেই সব পক্ষের জন্য ভালো। কিন্তু বেতন কমিয়ে বেল কেন অন্য ক্লাবে যাবেন? বেলের এজেন্ট জোনাথন বার্নেট বেশ আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, দরকার হলে দুই মৌসুম বসে থাকবেন তবু রিয়াল ছাড়বেন না তাঁর খেলোয়াড়। এদিকে রিয়াল চাচ্ছে বার্নেটের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসতে। দুই বছরে বেলের যে বেতন তা কথা বলে কমাতে চায় রিয়াল। এমনিতে বেলকে দুই বছরের অগ্রিম বেতন দিতে চাইলে রিয়ালের খরচ হবে প্রায় ৩ কোটি ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা)।

default-image
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রিয়ালের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্টে বেলের অবদানও দেখেন অনেকে। খেলা শেষ হওয়ার আগেই একা একা স্টেডিয়াম থেকে বাড়ির দিকে রওনা দিয়েছেন, কখনো গ্যালারিতে বসেই ঘুমানোর ভান করেছেন। আবার যেদিন জিদান আর তাঁকে নামাবেন না নিশ্চিত হয়েছেন, সেদিন দুরবিন বানিয়ে খেলা দেখার অভিনয় করেছেন। বেলের দাবি, সম্পর্কের অবনতিও হলেও রিয়ালের হয়ে খেলার তাগিদ কমেনি তাঁর, ‘আমি ফুটবল খেলতে চাই এবং এখনো খেলার জন্য যথেষ্ট অনুপ্রাণিত। আমার বয়স মাত্র ৩১ বছর এবং এখনো দারুণ ফিট আমি।’

এই পরিস্থিতিতে আবারও শোনা গেছে, সাবেক ক্লাব টটেনহাম হটস্পার বেলের প্রতি আগ্রহী। টটেনহাম কোচ জোসে মরিনহো এর আগে যখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ ছিলেন, তখনো বেলের ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন। ক্লাব বদল করলেও আগ্রহ কমেনি মোটেও। আর এ কথা স্বীকার করেছেন খোদ বেলের মুখপাত্র জোনাথন বার্নেট। বিবিসি রেডিও ওয়েলসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বার্নেট জানিয়েছেন, ‘আমরা (বেলের মুখপাত্র ও টটেনহাম কর্তৃপক্ষ) ওর দলবদলের ব্যাপারে কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছি। ও এখনো টটেনহামকে ভালোবাসে। ও এখনো স্পার্সে ফিরতে চায়।’

তবে বেলের যে আকাশচুম্বী বেতন, তা স্পার্স দিতে পারবে না, মোটামুটি জানা কথা। সে ক্ষেত্রে বেতন কমিয়ে নিজের পছন্দের সাবেক ক্লাবে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে বেলকে। বেল কী সেটা করবেন? আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মিলবে সেই প্রশ্নের উত্তর!

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন