default-image

টেবিলে থরে থরে সাজানো খাবার। পাস্তা, হটডগ, পাটিসাপটা পিঠা, নানা ধরনের মিষ্টি ও ফল। এক কামড় হটডগ, এরপর একটুখানি পাস্তা চেখে দেখলেন। বাঙালি খাবারের ধারেকাছেও গেলেন না ফ্লাভিও রাফো। রোম থেকে দোহা হয়ে কাল দুপুরে নেমেছেন ঢাকা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। দীর্ঘ বিমানভ্রমণ শেষে মুক্তিযোদ্ধার ম্যানেজার ফিরোজ মাহমুদের (টিটু) উত্তরার বাসায় একটু বিশ্রাম। ঘণ্টা দুয়েক পরই ঘুমকাতুরে চোখে দৌড়াতে হলো সামরিক জাদুঘর মাঠে মুক্তিযোদ্ধার অনুশীলনে।
বাংলাদেশের ফুটবলে প্রথম ইতালিয়ান কোচ রাফো। বয়স ৪৩। ‘তরুণ’ কোচ বলতেই অবশ্য আপত্তি জানিয়ে গড়গড় করে নিজের কোচিং ক্যারিয়ারের ফিরিস্তি দিতে শুরু করলেন। ২০০৮ সালে ইতালির চতুর্থ বিভাগ সিরি ‘ডি’-এর ক্লাব এএস ওস্তিয়া মারেতে শুরু। পরের মৌসুমে ছিলেন লাৎসিওর পমেজিয়ায়। ২০১০-১১ মৌসুমে মাদাগাসকারের এনটিসকা একাডেমিতে, পরের দুই মৌসুমে আইভরিকোস্টের আফ্রিকা স্পোর্ট ডি আবিদজানে কাজ করেছেন। সর্বশেষ গত মৌসুমে ছিলেন ওমানের আল ইত্তিহাদ ক্লাবের কোচ।
ফুটবল ক্যারিয়ার এমন সমৃদ্ধ কিছু নয়। শুরু এএস রোমার বয়সভিত্তিক দলে ১৯৮৫ সালে। এরপর সিরি ‘বি’র ক্লাব লুকেসি ও পতেনসাতে খেলেছেন এই মিডফিল্ডার। এ দেশের ফুটবল সম্পর্কে ধারণা না থাকার কথা স্বীকার করলেন নিজেই, ‘এখানে আসার আগে ইউটিউবে বাংলাদেশের খেলা দেখেছি। এর বাইরে এ দেশের ফুটবল সম্পর্কে বেশি কিছু জানি না। শুধু জানি, দেড় শ মিলিয়ন মানুষের দেশ বাংলাদেশ।’
ইতালিয়ান স্ট্রাইকার ফ্রান্সেসকো টট্টিকে বন্ধু বলে দাবি করলেন রাফো। রোমার বয়সভিত্তিক দলে খেলার সময় থেকে নাকি টট্টির সঙ্গে বন্ধুত্বের শুরু। শফিকুল ইসলাম মানিককে বিদায় দেওয়ার পর থেকেই একজন বিদেশি কোচের সন্ধানে ছিল মুক্তিযোদ্ধা। এজেন্টের মাধ্যমে রাফো যোগাযোগ করেন বাংলাদেশের এই ক্লাবে। চ্যালেঞ্জ নিতেই বাংলাদেশে এসেছেন, সেটা বললেন শুরুতেই, ‘সবে এলাম। কেমন খেলোয়াড় নিয়ে এবার দল গড়া হয়েছে কিছুই জানি না। তবে যেমন দলই হোক, আমি চ্যালেঞ্জ নিতে চাই।’ ইতালিয়ান কোচ মানেই রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলা বলে যে ধারণা প্রচলিত, সেটিও ভেঙে দিতে চান, ‘দলের প্রয়োজনে যে ফর্মেশনে খেলতে হয়, আমি সেটাই খেলাব। ইতালিয়ান বলেই রক্ষণাত্মক ঢঙে খেলাব, আমি তেমন নই।’
ফিরোজ মাহমুদের বসার ঘরের দেয়ালে টাঙানো সাফ ফুটবলের চ্যাম্পিয়ন দলের ছবি। পাশেই অন্য ছবিতে বাংলাদেশকে সাফ ফুটবলের শিরোপা জেতানো কোচ জর্জ কোটানের সঙ্গে ফিরোজ। এবার আবাহনীর কোচ হয়ে এসেছেন কোটান, ছবিটা দেখিয়ে তা বলতেই রাফো মজা করে বললেন, ‘দাদু কোচ’।
কথাবার্তায় বেশ সাবলীল। ডাগ-আউটেও নিশ্চয়ই ফ্লাভিও রাফোর এমন পারফরম্যান্স দেখার অপেক্ষায় মুক্তিযোদ্ধা।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন