বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

‘এস্পাই বার্সা’ নামের এই পরিকল্পনা বার্সেলোনার আগের সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউর বোর্ডই করে রেখেছিল, যদিও এটি নিয়ে তাদের অনেক দুর্নীতির চেষ্টার খবরও সংবাদমাধ্যমে এসেছে। হোয়ান লাপোর্তা সভাপতি হওয়ার পরও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ খুঁজছিলেন। সেটির পথে শেষ বাধাও পেরিয়ে গেলেন লাপোর্তা। গতকাল বার্সেলোনার নিবন্ধিত সদস্যদের গণভোটে স্টেডিয়াম সংস্কারের পরিকল্পনা অনুমোদন পেয়েছে।

এই সংস্কারের কারণে এই মুহূর্তে ৯৯ হাজার ৩৫৪ জন দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ক্যাম্প ন্যুর ধারণক্ষমতা দাঁড়াবে ১ লাখ ৫ হাজারে। পাশাপাশি স্টেডিয়ামে আধুনিক সব প্রযুক্তিগত সুবিধাও থাকবে বলে শোনা যাচ্ছে।

ক্লাবের ইতিহাসে এবারই প্রথম ইলেকট্রনিক ভোটিং পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ হয়েছে। ভোটে সদস্যদের মধ্যে ৪২ হাজার ৬৯৩ জন সদস্য স্টেডিয়াম সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, বিপক্ষে ভোট পড়েছে ৫ হাজার ৫৫টি। বিশ্বব্যাপী বার্সার সদস্যদের মধ্যে ৪০ শতাংশ এই ভোটে অংশ নিয়েছেন।

তবে ভোটে অংশ নেওয়ার আগে সদস্যরা এই বিশাল কর্মযজ্ঞের অর্থ কোত্থেকে আসবে, সেটি নিয়ে সংশয়ের কথা জানিয়েছিলেন। কারণ, এই প্রকল্পের অর্থায়নের আগেই এই মুহূর্তে বার্সেলোনার সব মিলিয়ে দেনার পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ১৫০ কোটি ইউরোতে। এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ১৫০ কোটি ইউরো বার্সা পাচ্ছে তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে পাওয়া সহজ শর্তের ধারের মাধ্যমে, বার্সা সভাপতি লাপোর্তা এমনটাই জানিয়েছেন। লাপোর্তার চোখে, ৬৪ বছরের ক্যাম্প ন্যুর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা সেটির জন্য নেওয়া দেনার ভারের চেয়েও বেশি।

সদস্যদের ভোটে প্রস্তাব পাস হওয়ার পর এখন বার্সা ক্যাম্প ন্যু ও এর আশপাশের জায়গা সংস্কারের কাজে হাত দিতে পারবে। কাজ শেষ হতে হতে ২০২৫ সাল পর্যন্ত লেগে যাবে। কাতালান ক্লাবটি জানিয়েছে, ২০২২-২৩ মৌসুমে বার্সেলোনা ক্যাম্প ন্যুতেই খেলবে, তবে স্টেডিয়ামের কিছু অংশে দর্শক বসতে পারবেন না। ২০২৩-২৪ মৌসুমে আর বার্সেলোনা ক্যাম্প ন্যুতে খেলবে না, সে ক্ষেত্রে বার্সেলোনা শহরেরই মন্তিউইচে অলিম্পিক স্টেডিয়ামকে বিকল্প হিসেবে ভাবছে বার্সা। ২০২৪-২৫ মৌসুমে স্টেডিয়াম সংস্কারের চূড়ান্ত ধাপের কাজ শেষ হবে, তখন স্টেডিয়ামে ফেরার পরিকল্পনা কাতালানদের।

default-image

গণভোটের আগে লাপোর্তা এবং তাঁর বোর্ড সদস্যদের কাছে ব্যাখ্যায় বলেছিলেন, ইউরোপের সেরা ক্লাবগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকতে হলে স্টেডিয়ামের এই সংস্কারকাজ বার্সার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপে গত কয়েক বছরে রিয়াল মাদ্রিদ, লিভারপুল, টটেনহামসহ বেশ কয়েকটি ক্লাব তাদের স্টেডিয়াম সংস্কার করেছে। রিয়ালের মাঠ বার্নাব্যুর সংস্কারকাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। লিভারপুল কয়েক বছর আগে স্টেডিয়ামের ‘মেইন স্ট্যান্ড’ অংশ সংস্কার করেছে, ‘অ্যানফিল্ড রোড স্ট্যান্ড’ সংস্কারের পরিকল্পনা এরই মধ্যে পাস হয়ে গেছে। আর টটেনহাম তো ঝাঁ–চকচকে নতুন স্টেডিয়ামেই চলে এসেছে!

লাপোর্তার ব্যাখ্যায় আরেকটি যুক্তি এটি ছিল যে স্টেডিয়ামের সংস্কার হয়ে যাওয়ার পর থেকে সেটি থেকে যে বাড়তি আয় আসবে, তাতে ক্লাবের বার্ষিক আয় বাড়বে। স্টেডিয়াম সংস্কারের খরচও তা থেকে উঠে আসবে। পাশপাশি স্টেডিয়ামের নামস্বত্ব বিক্রি করে বিশাল অঙ্ক আয়ের পরিকল্পনা আছে বলেও জানিয়েছেন লাপোর্তা।

সংস্কারের পর স্টেডিয়ামের ওপর ৩০ হাজার বর্গমিটারের ছাদ থাকবে, যেটি চাইলেই সরিয়ে নেওয়া যাবে। পাশাপাশি এই ছাদে সোলার প্যানেল লাগানো থাকবে। সেই সোলার প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে স্টেডিয়ামের নিরাপত্তাজনিত অনেক কাজকর্মে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। স্টেডিয়ামে ৩৬০ ডিগ্রি স্ক্রিন স্থাপন করা হবে, সেটিরও বিদ্যুৎ আসবে এই সোলার প্যানেল থেকে। পাশপাশি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও পুনর্ব্যবহারের পদ্ধতিও থাকবে নতুন ক্যাম্প ন্যুতে।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন