মেসির দলবদল নিয়ে কথা থামছেই না।
মেসির দলবদল নিয়ে কথা থামছেই না।ছবি: রয়টার্স

এখনো বার্সেলোনা সভাপতি নির্বাচিত হননি, কিন্তু এখনই যেন বার্সেলোনার সভাপতির সুরে কথা বলতে শুরু করে দিয়েছেন হোয়ান লাপোর্তা! নির্বাচনের আগে এটা তাঁর মনস্তাত্ত্বিক কোনো খেলা কি না, তা শুধু লাপোর্তা নিজেই জানেন।

নতুন করে লাপোর্তার কথা বলার বিষয়—নেইমারের ক্লাব পিএসজিতে লিওনেল মেসির যাওয়া-না যাওয়া নিয়ে গুঞ্জন। মৌসুম শেষে মেসিকে কেনার সুযোগ পেলে সেটি লুফে নিতে পিএসজি তৈরি, সেটি হাবভাবে বুঝিয়েও দিচ্ছে ফ্রান্সের ক্লাবটি। কিন্তু পিএসজির এমন মনোভাবের কড়া সমালোচনা করছেন লাপোর্তা। পিএসজির এভাবে জনসমক্ষে মেসিকে কিনতে চাওয়ার ইচ্ছা জানানো বার্সার জন্য ‘অপমানজনক’ বলে দিন দুয়েক আগে একবার মন্তব্য করেছেন লাপোর্তা। এবার ফরাসি ক্রীড়াদৈনিক লে কিপের সঙ্গে আলাপে বললেন, টাকার অঙ্কে নয়ছয় করে, উয়েফার আর্থিক সংগতির নীতিকে (এফএফপি) ফাঁকি না দিলে মেসিকে কেনা সম্ভব নয় পিএসজির।

মেসিকে কিনতে চাওয়ার ব্যাপারটা পিএসজি যেভাবে সামলাচ্ছে, সে জন্য পিএসজিকে ইউরোপের ফুটবলে বাচ্চা শিশু বলে মনে হচ্ছে লাপোর্তার। এখনো পিএসজির ‘অনেক কিছু শেখার আছে’ বলেও মন্তব্য করেছেন লাপোর্তা।

বিজ্ঞাপন
default-image

বার্সেলোনায় মেসির চুক্তির প্রসঙ্গটা এখন ইউরোপের ফুটবলে চর্বিতচর্বণ। এই মৌসুম শেষেই বার্সায় ৩৩ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের চুক্তি শেষ। সেটির নবায়ন ঝুলে আছে। নবায়ন করার ক্ষমতা যাতে থাকে, বার্সেলোনার যে সেই সভাপতিই নেই কোনো।

যাঁর সঙ্গে মেসির দ্বন্দ্ব ছিল বলে স্পেনে গুঞ্জন, সেই জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ বার্সেলোনার সভাপতির পদ থেকে সরে গেছেন মাস তিনেক হলো। কিন্তু বার্সেলোনার নতুন সভাপতি নির্বাচন এখনো হয়নি। করোনার কারণে জানুয়ারি থেকে পিছিয়ে নির্বাচনের তারিখ ঠিক হয়েছে ৭ মার্চ। নির্বাচনে তিন প্রার্থীর মধ্যে লাপোর্তা একজন, লাপোর্তার সঙ্গে ভিক্তর ফন্তেরই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে পূর্বানুমান স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমে।

এই নির্বাচনের সঙ্গেই জড়িয়ে বার্সায় মেসির ভবিষ্যৎ। নতুন নির্বাচিত সভাপতি বার্সাকে মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল হিসেবে আরেকবার গড়তে, ইউরোপে আবার পরাক্রমশালী বানাতে কী কী প্রকল্প হাতে নেন—সেটি জেনে ভালো লাগলেই চুক্তি নবায়ন করবেন মেসি। বার্সা অধিনায়ক নিজেও সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়ে দিয়েছেন, জুনের আগে তিনি অন্য কোনো ক্লাবের সঙ্গে কথা বলবেন না। অর্থাৎ, তিনিও নতুন সভাপতির অপেক্ষায়।

এর মধ্যে মেসির পিএসজিতে যাওয়ার গুঞ্জন তৈরি হয়েছে গত কিছুদিনে। ডিসেম্বরে নেইমার একবার বলেছেন, আগামী মৌসুমে মেসির সঙ্গে খেলতে চান। বার্সার যেহেতু এখন নেইমারকে কেনার সামর্থ্য নেই, নেইমারের ওই কথার অর্থ তাই সবাই ধরে নিয়েছেন—মেসিই পিএসজিতে যাচ্ছেন। এর মধ্যে পিএসজির ক্রীড়া পরিচালক লিওনার্দোও মেসিকে ঘিরে গুঞ্জন নিয়ে প্রশ্নে বলেছেন, ‘সেরা খেলোয়াড়দের পিএসজি সব সময়ই পেতে চায়।’

লিওনার্দোর এভাবে মেসিকে নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলাই বার্সার জন্য অপমানজনক বলে দিন দুয়েক আগে জানিয়েছিলেন লাপোর্তা। এর মধ্যে গত পরশু আবার পিএসজির নতুন কোচ মরিসিও পচেত্তিনো স্প্যানিশ দৈনিক মার্কায় সাক্ষাৎকারে মেসিকে নিয়ে প্রশ্নে দিয়েছেন দ্ব্যর্থবোধক উত্তর। মেসিরই স্বদেশি পচেত্তিনোর উত্তর ছিল, ‘আমি যা-ই বলব, সেটিকে ভুল বোঝা হবে। আর এখানে (পিএসজি) আমার হাতে যা আছে, তাতেই আমি খুশি।’ কিন্তু পরের কথাতেই আবার ইঙ্গিত, ‘গ্রেট ফুটবলাররা যেকোনো লিগে, যেকোনো দলেই মানিয়ে নিতে পারে।’

এবার আবার পিএসজিকে ধুয়ে দিয়েছেন লাপোর্তা। লে’কিপে সাক্ষাৎকারে তাঁর ইঙ্গিত, পিএসজি উয়েফার আর্থিক সংগতির নীতি যখন ইচ্ছা তখন ভাঙে, এবারও নিয়ম ভেঙেই মেসিকে কেনার ফন্দি আঁটছে। ‘ওরা মেসিকে দলে নিতে পারবে কি না আমি জানি না। হয়তো পারবে, যদি ওরা আর্থিক সংগতির নীতি এভাবে ভাঙতেই থাকে। আমি যতটুকু জানি, গত বছরে ওদের বড় অঙ্কের ক্ষতি গুনতে হয়েছে। সে ক্ষেত্রে ওকে (মেসি) দলে নিতে ওরা আর্থিক সংগতির নীতির তোয়াক্কা করে কি না, সেটা দেখতে আগ্রহী আমি।’

বিজ্ঞাপন
default-image

তেমন হলে আগে থেকেই উয়েফা-ফিফাকেও ডেকে রাখছেন লাপোর্তা, ‘তেমন কিছু হলে (পিএসজি এফএফপি ভাঙলে), আশা করব উয়েফা ও ফিফা কঠোর ব্যবস্থা নেবে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতও রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে কুণ্ঠিত থাকবে না।’

কাতারি রাষ্ট্রমালিকানাধীন কোম্পানির বিনিয়োগের পর ইউরোপের ফুটবলে নতুন রূপে হাজির হওয়া পিএসজির বিরুদ্ধে এর আগে বেশ কয়েকবার আর্থিক সংগতির নীতি ভাঙার অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু তেমন বড় শাস্তি কখনোই পেতে হয়নি পিএসজিকে। এর পেছনে অনেকে অন্য কিছুর গন্ধও পান। লাপোর্তাও কি তেমন কিছুরই ইঙ্গিত করলেন?

তবে পিএসজির এভাবে সরাসরি মেসিকে কিনতে চাওয়ার ইচ্ছা জানানো যে বার্সা পছন্দ করছে না, সেটা ইঙ্গিতে নয়, সরাসরিই জানিয়ে দিয়েছেন লাপোর্তা। সঙ্গে বুঝিয়ে দিলেন, ইউরোপের ফুটবলে পিএসজি এখনো বাচ্চাই তাঁর চোখে, ‘আমার কাছে ব্যাপারটা ভালো লাগেনি। এটাই বোঝায় এই পর্যায়ে তাদের অভিজ্ঞতা কত কম! বিশ্ব ফুটবলে ওদের এখনো অনেক শেখার আছে। জানি না ওদের প্রতিক্রিয়াটা (মেসিকে কিনতে চাওয়ার ইচ্ছা জানানো) কিছু না ভেবেই বলেছে নাকি যোগাযোগ বিভ্রাট ছিল সেটা। তবে আমার দিক থেকে আমি কিন্তু সব সময়ই অন্য ক্লাবকে সম্মান করি।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন