পেপ গার্দিওলা।
পেপ গার্দিওলা।ছবি: রয়টার্স

পেপ গার্দিওলা পরশু রীতিমতো চমকে দিয়েছিলেন।

পুরো ইউরোপিয়ান ফুটবল তখন আর্লিং হরলান্ডকে নিয়ে ব্যস্ত। আগের দিনই ইউরোপ সফরে বেরিয়েছিলেন বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের নরওয়েইজিয়ান স্ট্রাইকারের বাবা আলফি হালান্ড ও তাঁর মুখপাত্র মিনো রাইওলা। এক মিনিটে খবর এল, রাইওলা-হালান্ড বার্সেলোনায়, তো পরের মিনিটে তাঁদের মাদ্রিদে থাকার খবর আসে। এরপর শোনা গেল তাঁরা লন্ডনও গেছেন।  

বছর দেড়েক ধরে যে অতিমানবীয় ফুটবল খেলে যাচ্ছেন হরলান্ড, তাঁকে পেতে চায় ইউরোপের সব ক্লাবই ব্যাকুল। যাদের সে সামর্থ্য আছে, তাদের সঙ্গে হরলান্ডের নাম জড়িয়ে গুঞ্জন আসে নিয়মিত। এর মধ্যে তাঁর বাবা আর মুখপাত্রের এভাবে ইউরোপ সফরে বেরোনো গুঞ্জনের পালে যে বাতাস আরও বেশি জুগিয়েছে, তা তো আর বলার দরকার পড়ে না!

এর মধ্যে গার্দিওলা কী করলেন? হরলান্ডের সঙ্গে গুঞ্জনে জড়িয়ে যাওয়া ক্লাবগুলোর মধ্যে যেখানে ম্যানচেস্টার সিটির নাম ওপরের সারিতে, সেখানে ম্যান সিটির কোচ জানিয়ে দিলেন, এত টাকা তাঁর ক্লাবের নেই, এত টাকায় খেলোয়াড় কেনার সামর্থ্য বা ইচ্ছা কোনোটাই নাকি আবুধাবির তেলেধন্য ইংলিশ ক্লাবটার নেই!

কিন্তু সেটি যদি চমক হয়ে এসে থাকে, দুদিনের মধ্যে নতুন আরেক খবর আপনাকে ‘মাথা বনবন, বায়ু হনহন’ অভিজ্ঞতা দিয়ে যেতে পারে। ইউরোপে খবর, গার্দিওলার টাকা না থাকা দলই বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা দামের এক খেলোয়াড় কিনতে চায়। খেলোয়াড়ের নাম? আর্লিং হরলান্ড!

বিজ্ঞাপন

বার্সেলোনা হরলান্ডকে পেতে সর্বস্ব দিয়ে লড়বে বলে গত কিছুদিনে সবচেয়ে বেশি গুঞ্জন ছড়িয়েছে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের দাবি, কাতালান ক্লাবটির নবনির্বাচিত সভাপতি হোয়ান লাপোর্তার পরিকল্পনা হচ্ছে লিওনেল মেসির চুক্তি নবায়নের পাশাপাশি হরলান্ডকেও ক্লাবে নিয়ে আসা।

আগামী জুনে মেসির চুক্তি শেষ। ক্যারিয়ারটা বার্সেলোনায়ই কাটিয়ে দেওয়া ৩৩ বছর বয়সী আর্জেন্টাইনকে চুক্তি নবায়নে রাজি করাতে যে ইউরোপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো একটা দল গড়ার প্রতিশ্রুতি ও সেই প্রতিশ্রুতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালনের পরিকল্পনা দিতে হবে, তা লাপোর্তাও জানেন।

সে কারণে নাকি লাপোর্তা চান, মেসির পাশে হরলান্ড, এর পাশাপাশি ডি ইয়ং, পেদ্রি, ওসমান দেম্বেলেদের মতো তরুণদের নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল গড়ে তুলতে। এর বাইরে জর্জিনিও ভাইনালদাম, ডেভিড আলাবা, সের্হিও আগুয়েরোদের মতো আগামী জুনে ‘ফ্রি-এজেন্ট’ হতে যাওয়া খেলোয়াড়দেরও নিয়ে আসতে চান, খেলোয়াড় উঠিয়ে আনতে চান বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমি থেকে।

তবে সব পরিকল্পনার মূলে মেসি আর হরলান্ড। বছর কয়েকের মধ্যে মেসি অবসরে গেলে হরলান্ডকেই বার্সার সবচেয়ে বেশি বেতনভোগী খেলোয়াড় বানাবেন লাপোর্তা, এমন খবরও শোনা যায়।

রিয়াল মাদ্রিদ তো মৌসুম দুয়েক ধরেই ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পেকে কিনতে চায় বলে গুঞ্জন, পাশাপাশি এখন গুঞ্জনে এসেছে হরলান্ডের নামও। চেলসি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডও আছে হরলান্ডকে পাওয়ার দৌড়ে। আর ম্যানচেস্টার সিটির নাম এসেছে তিনটি কারণে।

এক. হরলান্ডকে কেনার মতো অর্থ এই মুহূর্তে চোখ বন্ধ করে খরচ করতে পারবে যে দুটি ক্লাব, তার মধ্যে পিএসজির পাশাপাশি আছে শুধু ম্যান সিটিই।

দুই. হরলান্ডের বাবা আলফি হালান্ড ক্যারিয়ারে বড় একটা সময় কাটিয়েছেন ম্যান সিটিতে।

তিন. সিটির আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার আগুয়েরোর চুক্তি এই মৌসুম শেষে শেষ, তারপর অন্য কোথাও যাবেন বলে ঘোষণা আগুয়েরো এরই মধ্যে দিয়ে দিয়েছেন। তাঁর বিকল্প হিসেবে সিটিতে গাব্রিয়েল জেসুস তো আছেনই, তবে এর পাশাপাশি আরেকজন ‘ফিনিশার’ খুঁজছে সিটি। হরলান্ডের মতো ফিনিশার এখন আর কে আছেন!

ওহ, হরলান্ডের দাম কত, সেই প্রশ্ন জাগছে তো? এই মৌসুমের শেষে তাঁকে কিনতে গেলে আগ্রহী দলকে ১৫০ মিলিয়ন বা ১৫ কোটি ইউরো খরচ করতে হবে বলে ঠিক করে রেখেছে ডর্টমুন্ড—এমন খবর এসেছে দিন কদিন আগেই।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু এর মধ্যে পরশু গার্দিওলার কথাটা উল্টো সুরেই শোনাল। ‘শুনুন, দাম এত বেশি হলে আমরা এত টাকা দিয়ে স্ট্রাইকার কিনতে যাব না। আমাদের অত টাকা নেই। অসম্ভব এটা। হতেই পারে না। সব ক্লাবই এখন আর্থিকভাবে ভুগছে, আমরাও এর ব্যতিক্রম নই’—গত শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন গার্দিওলা।

আগুয়েরো চলে গেলেও কেন তাঁর বিকল্প হিসেবে আরেকজন স্ট্রাইকার কিনবেন না, সে ব্যাপারে বিশদ এক ব্যাখ্যাও দিয়েছেন গার্দিওলা, ‘ওই জায়গায় খেলার মতো খেলোয়াড় হিসাব করলে আমাদের গাব্রিয়েল (জেসুস) আছে, ফেরান (তোরেস) আছে, যারা এই মৌসুমে এই পজিশনে দারুণ খেলেছে। মূল দলে আমাদের এখন দারুণ অনেক খেলোয়াড় আছে, একাডেমিতেও অনেক আকর্ষণজাগানিয়া ফুটবলার আছে। আর আমরা অনেক অনেক অনেক ম্যাচে “ফলস নাইন” খেলিয়েছি। বিশ্বজুড়ে এখন যা অবস্থা, ফুটবলে আর্থিক যত ঝামেলা চলছে, তাতে সম্ভাবনা অনেক বেশি যে আমরা হয়তো কোনো স্ট্রাইকার কিনব না।’

কিন্তু ইংলিশ সংবাদমাধ্যম আজ আবার বলছে ভিন্ন কথা। বার্সা-রিয়ালের সঙ্গে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা দামের হরলান্ডের জন্য টেক্কা দিতে আসছে গার্দিওলার ‘গরিব’ সিটিও। ডেইলি স্টার বলছে, ১৫ কোটি ইউরো খরচ করতে হলেও সেটা হাসিমুখেই করবে সিটি।

শেষ পর্যন্ত হরলান্ডকে সিটিই কিনে নিলে দুটি ব্যাপার ঘটবে। হয় গার্দিওলার কথার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়বে। নতুবা ‘গরিব’, ‘টাকা নেই’ কথাগুলোর অর্থ বদলে ফেলতে হবে।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন