আবারও আবাহনীর হয়ে গোল সাইগানির।
আবারও আবাহনীর হয়ে গোল সাইগানির।ছবি: প্রথম আলো

ম্যাচ শেষে ডাগআউটে ফেরা ফুটবলারদের পিঠ চাপড়ে দিচ্ছিলেন আবাহনীর কোচ মারিও লেমোস। পর্তুগিজ কোচের মুখটা ফ্লাডলাইটের আলোয় চিকচিক করছিল আনন্দে। পরপর দুই ম্যাচ ড্র করার পর কী দারুণভাবেই না ঘুরে দাঁড়িয়েছে আবাহনী! বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আজ আবাহনী ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে মুক্তিযোদ্ধাকে।

আবাহনীর হয়ে জোড়া গোল করেছেন মাসিহ সাইগানি । ১টি করে গোল করেছেন সোহেল রানা ও দীপক রায়। মুক্তিযোদ্ধার একমাত্র গোলটি করেছেন সারোয়ার জামান নিপু।
এই জয়ে ৬ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট আবাহনীর, ১৩ দলের লিগে পয়েন্ট তালিকায় ২ নম্বরে উঠে এল প্রিমিয়ার লিগের ছয়বারের চ্যাম্পিয়নরা। ৬ ম্যাচে ৪ জয় ও ২ ড্র আবাহনীর। মুক্তিযোদ্ধার এটা টানা তৃতীয় হার। পাঁচ ম্যাচে মাত্র এক জয়। হেরেছে বাকি ৪ ম্যাচ।

বিজ্ঞাপন
default-image

কুমিল্লায় মোহামেডানের সঙ্গে ড্রয়ের পর ঢাকায় সর্বশেষ ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষেও ড্র করে আবাহনী। ওই ম্যাচে দলের বড় ভরসা কারভেন্স বেলফোর্ট চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। চোটের কারণে বেলফোর্ট আজ মাঠে নামতে পারেননি। স্ট্রাইকার নাবিব নেওয়াজও চোটের কারণে দর্শক। কোচ আজ খেলাননি মিডফিল্ডার মামুনুল ইসলামকে। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ফ্রান্সিসকো রদ্রিগেজও গোল পাননি। কিন্তু তারপরও বড় ব্যবধানেই জিতেছে আবাহনী।

আজ আসলে আবাহনী বেশ দাপটের সঙ্গে খেলেছে। আবাহনীর ফুটবলারদের পোস্টে নেওয়া শটগুলো নিখুঁত ছিল আজ। পোস্টে ৬টি শট নিয়েছে আবাহনী, এর মধ্যে ৪টিতেই হয়েছে গোল।

তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ মুক্তিযোদ্ধার বিপক্ষে আজ কোচ মারিও লেমোস বেঞ্চের ফুটবলারদের পরখ করে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। লেমোসকে অবশ্য হতাশ করেননি বদলি হিসেবে খেলতে নামা দীপক রায়। ৬৪ মিনিটে জুয়েল রানার বদলে মাঠে নেমেই লিগের প্রথম ম্যাচে গোল পেয়েছেন। রাতটা নিশ্চয় স্মরণীয় হয়ে থাকবে এই তরুণের। বদলি হিসেবে আজ খেলেছেন তরুণ ফুটবলার ফয়সাল আহমেদ ও একাদশে অনিয়মিত মামুন মিয়া। সব মিলিয়ে আবাহনীর জন্য আজকের সন্ধ্যাটা বেশ ভালোই কেটেছে।

default-image

ম্যাচের ১৫ মিনিটে ফ্রান্সিসকোর শট ফিরিয়ে দেন মুক্তিযোদ্ধার গোলরক্ষক মাহফুজ হাসান। এরপর ফিরতি শটে গোল করেন মাসিহ সাইঘানি। ম্যাচের ৩২ মিনিটে অবশ্য মুক্তিযোদ্ধার ভালো একটা আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন আবাহনীর গোলরক্ষক শহীদুল আলম। বক্সের বাইরে থেকে শোয়েব মিয়ার ফ্রি-কিকে কামারা ইউনুসা হেড করেন। কিন্তু সেটা দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন শহীদুল।

ম্যাচের বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগে সোহেল রানা ব্যবধান বাড়িয়ে নেন। জাতীয় দলের এই মিডফিল্ডারের প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া বাঁ পায়ের জোরালো শটটি জড়ায় জালে। দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক খেলেছে আবাহনী। রায়হান হাসানের লম্বা থ্রো থেকে হেডে মাসিহ সাইঘানি করেন ৩-০। ৬২ মিনিটে জায়গা ছেড়ে অহেতুক বেরিয়ে আসেন আবাহনীর গোলরক্ষক শহীদুল। বক্সের বাইরে চলে আসা শহীদুলের হাতে লাগে বল। হ্যান্ডবল থেকে ফ্রি–কিক পায় মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেনি মুক্তিযোদ্ধা। অধিনায়ক জাপানি ফুটবলার ইউসুকে কাতোর শট ডিফেন্ডাররা ঠেকিয়ে দেন।

পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছে মুক্তিযোদ্ধা, ব্যবধান কমাতে পেরেছে সারোয়ার জামানের গোলে। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে বক্সের মধ্যে দাঁড়ানো ক্যামেরুনের ফরোয়ার্ড ক্রিস্টিয়ান বেকামেঙ্গা প্রথমে হেডে গোল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁর হেড ক্রসবারে লেগে ফেরে। ফিরতি শট থেকে হেডে সারোয়ার জামান করেন ৩-১।
এরপর ৭৬ মিনিটে আবাহনীর বদলি দীপক রায় করেন ৪-১। ডান প্রান্ত থেকে রাফায়েল অগাস্তোর ক্রস বক্সের মধ্যে পড়লে বলটির ফ্লাইট মিস করেন মুক্তিযোদ্ধার গোলরক্ষক মাহফুজ। হাত ফসকে বেরিয়ে যাওয়া বল থেকে আলতো টোকায় দীপক করেন ম্যাচের শেষ গোলটি।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন