উটকো ঝামেলায় পড়েছেন মেসিরা।
উটকো ঝামেলায় পড়েছেন মেসিরা।ছবি : রয়টার্স

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জগতে হালের সেনসেশান ‘টিকটক’। ছোট্ট ভিডিও আপলোড করার এই ওয়েবসাইট বেশ জনপ্রিয় হয়েছে মানুষের কাছে। কয়েক সেকেন্ড নেচে-গেয়ে বা কথা বলে ভিডিও করে সেটা টিকটকে আপলোড করে নিজের ‘ফলোয়ার’ বা অনুসারী সংখ্যা বাড়িয়ে নিচ্ছেন অনেকেই। এই ফলোয়ার বাড়ানোর নেশায় নিজেকে সবার চেয়ে আলাদা প্রমাণ করার তাগিদ দেখা যাচ্ছে দুনিয়াজোড়া টিকটকারের মাঝে। আর নিজেকে আলাদা প্রমাণ করতে গিয়েই স্পেনের টিকটকাররা ঘটাচ্ছেন বিপত্তি।

কাতালান রাজ্যের টিকটকাররা নিজেদের পছন্দের ক্লাব বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের সঙ্গে টিকটক ভিডিও বানাতে গিয়ে খেলোয়াড়দের বিরক্তির কারণ হচ্ছেন। আগে প্রিয় খেলোয়াড়কে চোখের সামনে দেখলে অটোগ্রাফ নেওয়ার ধুম পড়ে যেত। এরপর এল ছবি তোলার যুগ, সে যুগ পেরিয়ে প্রিয় খেলোয়াড়দের সঙ্গে সেলফি নেওয়া শুরু করলেন ভক্তরা। এখন সেই জায়গায় চলে এসেছে টিকটক। বার্সেলোনার অনুশীলনের মাঠ থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট—যেখানেই ক্লাবের কোনো খেলোয়াড়কে দেখছেন ভক্তরা, টুক করে ফোনটা বের করে ভিডিও করে নিয়ে টিকটকে আপলোড করছেন, সে খেলোয়াড়ের সম্মতি থাক আর না থাক। এটাই বিরক্ত করছে মেসিদের।

বিজ্ঞাপন
default-image

ইএসপিএন জানিয়েছে, উটকো টিকটকাররা যেন মেসিদের জ্বালাতে না পারেন, এ জন্য নিজেদের অনুশীলন মাঠের নিরাপত্তা বাড়াতে চাইছে বার্সেলোনা। অনুশীলন দেখতে এসে টিকটকাররা অযাচিতভাবে মেসিদের কাছে এসে বিব্রতকরভাবে ভিডিও করেন, যেটা খেলোয়াড়দের ভালো লাগে না। খেলোয়াড়দের এই ‘সমস্যা’ সমাধানে তাই এগিয়ে আসছে বার্সেলোনা।

ইএসপিএন এমন একটা ঘটনার কথাও উল্লেখ করেছে, যেখানে একজন টিকটকার চটিয়ে দিয়েছিলেন মেসিকে। কেউ একজন মেসির ভিডিও করতে আসার পর বিরক্ত মেসি নাকি বলেছিলেন, ‘তুমি এর মধ্যে আমাকে নিয়ে হাজার হাজার ভিডিও বানিয়েছো, আর কত বানাবে? সারা জীবন আমার ভিডিও করে কাটাতে পারো না তুমি!’

শুধু মেসিই নন, এই বিরক্তির তেতো স্বাদ পেয়েছেন দলের ফরাসি স্ট্রাইকার আতোয়ান গ্রিজমান ও ডাচ মিডফিল্ডার ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংও। দলের ফরাসি ডিফেন্ডার সামুয়েল উমতিতি তো কয়েকজন টিকটকারের কাছে অসম্মানিতই হয়েছেন। কয়েক দিন আগে ট্রাফিক জ্যামে আটকে ছিলেন এই তারকা। তাঁকে দেখে দূরে থাকা একদল টিকটকার ‘বার্সেলোনার দ্বিতীয় দলে ফিরে যাও’ বলতে বলতে টিকটক ভিডিও বানায়। তা শুনে রেগেমেগে গাড়ি থেকে বের হয়ে এসেছিলেন বিশ্বকাপজয়ী এই ডিফেন্ডার। পরে যদিও আবার গাড়িতে ঢুকে যান। ওদিকে দলের তরুণ মিডফিল্ডার পেদ্রির পিছে পিছে অনেক টিকটকার তাঁর বাড়ি পর্যন্ত চলে গিয়েছিলেন।

default-image

শুধু তা–ই নয়, আন্তর্জাতিক বিরতিতে ম্যাচ খেলতে যাওয়া কাতালান ক্লাবটির অনেক খেলোয়াড়ই বার্সেলোনা-এল প্রাত এয়ারপোর্টে গিয়ে দেখেন তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছেন একাধিক টিকটকার।

বিজ্ঞাপন

দলের খেলোয়াড়দের এই যন্ত্রণা থেকে বাঁচানোর জন্য এর মধ্যেই পুলিশের সঙ্গে কথাবার্তা বলেছে বার্সেলোনা। অনুশীলন মাঠের নিরাপত্তাও বাড়াচ্ছে তারা। তবে পুলিশ তাদের জানিয়েছে, অনুশীলন মাঠের নিরাপত্তা বাড়ালেও খেলোয়াড়েরা যখন নিজেদের গাড়িতে মাঠে ঢুকবেন ও বের হবেন, তখন টিকটকাররা ভিডিও করতে গেলে সেটা আটকানো কঠিন হবে।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন