কাল গার্দিওলাকেও টেক্কা দিয়েছেন গার্সিয়া।
কাল গার্দিওলাকেও টেক্কা দিয়েছেন গার্সিয়া। ছবি: রয়টার্স

ফুটবলে গত এক দশকে ট্যাকটিকসের আলাপ মানেই একটি নামের জায়গা সেখানে নির্দিষ্ট। শুধু টিকিটাকাকে আবারও জনপ্রিয় করেছেন। শুধু তাই নয়, ম্যাচের প্রতি মুহূর্তে দলের খুঁটিনাটি নিয়ে এত খুঁতখুঁতে যে, তাঁর শিষ্যদের হয়রান হয়ে যেতে হয়। ম্যাচের যে কোনো মুহূর্তে ফরমেশন বদলান, খেলোয়াড়ের ভূমিকা বদলান। এমনকি খেলা পছন্দ না হলে ম্যাচের প্রথমার্ধেও খেলোয়াড় বদলিতে আপত্তি দেখান না গার্দিওলা। সেই গার্দিওলাকে কাল ট্যাকটিকসে হারিয়ে দিয়েছেন লিওঁ কোচ রুডি গার্সিয়া।

বিজ্ঞাপন

চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে গতকাল ফেবারিট ম্যানচেস্টার সিটিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে দিয়েছে লিওঁ। ফ্রান্সে লিগ মৌসুম আগেই থামিয়ে দেওয়ায় সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে লিওঁর। আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ তো বটেই ইউরোপেও খেলার সুযোগ হারিয়েছে তারা। তবে এখন আচমকা একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে তাদের সামনে। সেমিফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখ ও ফাইনালে লাইপজিগ কিংবা পিএসজিকে হারাতে পারলেই চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নিতে পারবে ফ্রেঞ্চ দলটি।

গতকাল পর্যন্ত এমন সম্ভাবনার কথা তুললে মানুষ হেসেই হয়তো উড়িয়ে দিত। কিন্তু গার্দিওলার তারকা সমৃদ্ধ দলকে এভাবে হারিয়ে দেওয়ার পর এখন কিছুটা হলেও আশা বেড়েছে দলটির। আর রুডি গার্সিয়া যেহেতু দলের দায়িত্বে আছেন, তখন আশা করতে দোষ কী। ফ্রেঞ্চ কোচও গর্বিত ট্যাকটিকসে গার্দিওলাকে টেক্কা দিতে পেরে।

বিজ্ঞাপন

গতকাল ৩-৫-২ ফরমেশন নিয়ে দুই দলই মাঠে নেমেছিল। কিন্তু এ ফরমেশনেই স্বচ্ছন্দ লিওঁ নিজেদের কৌশলে আস্থা রেখে খেলে গেছে পুরো সময়। কিন্তু সিটি সে কাজটা করতে পারেনি। গার্সিয়াও তৃপ্ত নিজের অর্জনে, ‘গার্দিওলা থাকলে আপনাকে যেকোনো কিছুর জন্যই প্রস্তুত থাকতে হয়। কিন্তু ট্যাকটিক্যাল লড়াইয়ে আমরাই জিতেছি। আমরা ফরমেশনটার সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছি। ডি ব্রুইনাকে আটকাতে একটা হাইব্রিড সেটআপে ফিরেছিলাম আমরা।’

ট্যাকটিকে গার্দিওলাকে টেক্কা দিলেও জয়ের জন্য খেলোয়াড়দের অবদানের কথা ভুলছেন না গার্সিয়া। কারণ, ছকে অনেক কিছুই সাজানো যায় কিন্তু মাঠে সেটা করে দেখাতে হয় ফুটবলারদের। আর শক্তিশালী প্রতিপক্ষে বিপক্ষে জয় পেতে দল হিসেবে যে একাত্মতা দেখিয়েছে লিওঁ তাতে মুগ্ধ গার্সিয়া, ‘আমি আমার দল নিয়ে সন্তুষ্ট। নিজেদের ওপর আস্থা রেখেছিলাম। আমরা জানতাম বড় দলের বিপক্ষে আমরা ফেবারিট না। কিন্তু এক গোল খেয়ে তিন গোল দিয়েছি। দল হিসেবে আমাদের মধ্যে যে একাত্মতা, সেটার ফল এটি। একে অন্যের জন্য বাড়তি পরিশ্রম করেছি আমরা।’

গতকাল মুসা ডেমবেলেকে বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছিলেন গার্সিয়া। বদলি নেমে দুই গোল করে সেই ডেমবেলে দল জিতিয়ে হয়েছেন ম্যাচ সেরা। গার্সিয়া জানালেন, ডেমবেলের জন্য এমন কিছুই পরিকল্পনা ছিল তাঁর, ‘ম্যাচে শুরু থেকে খেলতে পারেনি বলে ডেমবেলে হতাশ ছিল। কিন্তু আমি বলেছিলাম ও ম্যাচে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন