বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চীনের তারকা খেলোয়াড়দের বেশির ভাগের শরীরেই ট্যাটু আছে। গুয়াংজু এভারগ্রান্দে ও জাতীয় দলের ডিফেন্ডার ঝ্যাং লিনপেনেংকে এর আগে জাতীয় দল ও ক্লাবের হয়ে মাঠে নামার সময় শরীরের ট্যাটু ঢেকে রাখতে বলা হয়েছিল।

সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরে চীনের সমাজতান্ত্রিক দলের বিশুদ্ধতা অভিযানের অংশ হিসেবে দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষও এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ নির্দেশের পর থেকে জাতীয় দলের ফুটবলাররা নিয়মিতই শরীরের ট্যাটু ঢেকে মাঠে নেমে থাকেন। চীনের ক্রীড়া প্রশাসন মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নতুন ট্যাটু অঙ্কন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। শরীরে ট্যাটু থাকলে মুছে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে, অনুশীলন কিংবা টুর্নামেন্টে ট্যাটু ঢেকে মাঠে নামতে হবে।

জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব স্পোর্ট অব চায়নার (জিএএস) বিবৃতি, ‘ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে জাতীয় দলের সব পর্যায়ের খেলোয়াড়েরা এ নিয়মের প্রতিফলন ঘটাবেন সমাজে ভালো উদাহরণ তৈরি করতে। জাতীয় দল ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলের খেলোয়াড়দের নতুন ট্যাটু অঙ্কন থেকে বিরত থাকতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। যাঁদের শরীরে ট্যাটু আছে, তাঁদের সেগুলো মুছে ফেলতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে দলের সম্মতির ভিত্তিতে খেলোয়াড়েরা অনুশীলনে কিংবা ম্যাচে ট্যাটু ঢেকে মাঠে নামতে পারবেন।’ অনূর্ধ্ব-২০ বছরের নিচের খেলোয়াড়দের শরীরে ট্যাটু অঙ্কনও ‘কঠোরভাবে নিষিদ্ধ’।

জিএএসের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতীয় দলের ‘আদর্শগত ও রাজনৈতিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা উচিত’। এতে খেলোয়াড়দের দেশাত্মবোধের শিক্ষাটা আরও শক্ত হবে। ২০০২ বিশ্বকাপের পর আর কখনোই বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলতে পারেনি চীন। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ খেলার টিকিটও দেশটির না পাওয়ার আশঙ্কাই বেশি।

তবে চীনের ফুটবল সমর্থকেরা ট্যাটু অঙ্কন নিয়ে এমন কঠোর নিষেধাজ্ঞা ভালোভাবে নেয়নি। চীনে ট্যাটু অঙ্কন এমনিতে নিরুৎসাহিত করা হলেও তরুণদের মধ্যে তা খুব জনপ্রিয়। দেশটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েইবোতে এক ফুটবলপ্রেমীর মন্তব্য, ‘আমরা ভালো ফুটবলার নাকি সাধু-সন্ন্যাসী খুঁজছি?’ আরেক ভক্তের খোঁচা, ‘আমরা কি এখন সোজাসাপটা বলব যে শুধু (রাজনৈতিক) দলের সদস্যরাই ফুটবল খেলতে পারবেন?’

default-image

তরুণ ফুটবলারদের সামরিক ক্যাম্পে নিয়ে মার্ক্সীয় মতবাদ অনুসারে ‘চিন্তার অনুশীলন’ করানোর রীতি বেশ কয়েক বছর ধরেই শুরু করেছে চীন। দেশটির ফুটবল সমর্থকেরা এতে ক্ষিপ্ত। অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক চিন্তা ফুটবলকে ছাপিয়ে যাচ্ছে। গত বছর মেয়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ম্যাচ বাতিল করা হয়। কারণ হিসেবে বলা হয়, চুল রং করে খেলার অনুমতি নেই।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন