বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২০১৫ সাল। লুইস এনরিকের হাত ধরে নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো ‘ট্রেবল’ জিতেছে বার্সা। প্রায় নিখুঁত ফুটবল বলতে যা বোঝায়, সেবার চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে জুভেন্টাসের বিপক্ষে তেমন ফুটবলই খেলে শিরোপা জিতে নেয় ক্লাবটি।

তখন বার্সার আক্রমণভাগে ছিলেন ‘এমএসএন’ জুটি (মেসি-সুয়ারেজ-নেইমার), অনেকের মতেই অ্যাটাকিং থার্ডে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ‘ত্রিফলা’। পেপ গার্দিওলা-যুগ ও এর পরবর্তী কিছু সময় আক্ষরিক অর্থেই বার্সার জন্য সোনা ফলানো ছিল—গৌরবময় বর্তমান ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।

মাত্র ছয় বছরের মধ্যে ভোজবাজির মতো সব পাল্টে গেল! বার্সার বর্তমান যেমন ব্যর্থ, তেমনি ভবিষ্যৎও অন্ধকারাচ্ছন্ন। ইউরোপের ময়দানে খাবি খাওয়া, দলবদলের বাজারে ভুল নীতির প্রয়োগ ও ভুলের পর ভুলে এখন প্রায়শ্চিত্ত করতে হচ্ছে পাঁচবার চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী ক্লাবটিকে।

ছয় বছরে তিনবার চ্যাম্পিয়নস লিগে জেতা দলটি পরের সাত বছরে মাত্র একবার সেমিফাইনালে উঠেছে। কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বাদ পড়েছে একাধিকবার। আর এবার গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়টা বলে দেয়, ব্যর্থতাগুলোকে আর দুর্ঘটনা বা এক মৌসুমের বাজে ফর্ম বলার উপায় নেই। বার্সা আর আগের মতো নেই!

সবকিছুর শুরু ২০১৭ সালের একটি দলবদল। ফুটবল–বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়ে যখন পিএসজি বার্সেলোনা থেকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল ব্রাজিলিয়ান তারকাকে।

২০১৭ সালে নেইমার বার্সেলোনা ছেড়ে যাওয়ার আগেও মাঠের বাইরে নানা বিষয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে বার্সা। তবে ক্লাবটির এতটা অবনমনের শুরুটা নেইমারের প্রস্থানে। ব্রাজিলিয়ান তারকার ২২ কোটি ২০ লাখ ইউরোর ‘রিলিজ ক্লজ’ পরিশোধ করে কোনো ক্লাব যে তাঁকে নিয়ে যেতে পারে, বিষয়টি বার্সার ব্যবস্থাপকদের চিন্তায়ও আসেনি।

এ ভাবনা মাথায় আসা উচিত ছিল কি না, সে প্রশ্ন এখন অবান্তর। কিন্তু মেসির উত্তরসূরি হিসেবে যাঁকে আনা হয়েছিল, যে খেলোয়াড়কে দলে টানার জন্য আর্থিক অনিয়ম করায় ক্লাবের এক সভাপতিকে জেল খাটতে হয়েছিল, তাঁকে ধরে রাখতে আরেকটু চেষ্টা হয়তো করা উচিত ছিল ক্লাবটির।

default-image

নেইমারের দলবদলে বার্সেলোনার ব্যাংক ব্যালেন্স বেড়ে গিয়েছিল এক লাফে। আচমকা ২২ কোটি ২০ লাখ ইউরো পেয়ে লাভের চেয়ে অবশ্য ক্ষতিই হয়েছে বার্সেলোনার। নেইমারের শূন্যতা পূরণে মরিয়া বার্সেলোনার কাছ থেকে উসমান দেম্বেলের সুবাদে এককালীন ১০ কোটি ৫০ লাখ ও শর্ত সাপেক্ষে ১৪ কোটি ইউরো খসিয়ে নিয়েছিল বরুসিয়া ডর্টমুন্ড।

চোটে পড়াকে অভ্যাস বানিয়ে ফেলায় গত চার বছরে এই উইঙ্গারকে অর্ধেক ম্যাচেই পায়নি বার্সেলোনা। ২০১৭ সালের আগস্টে দেম্বেলে বার্সায় এসেই চোটে পড়ায় আক্রমণভাগ আর গোছানো হয়নি ক্লাবটির।

দেম্বেলে নন, নেইমারের বিকল্প হিসেবে বার্সেলোনার প্রথম পছন্দ ছিলেন ফিলিপ কুতিনিও। কিন্তু আগস্টে লিভারপুল থেকে কোনোভাবেই তাঁকে টানতে না পেরে আবার ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে হাজির হয়েছিল বার্সেলোনা। মরিয়া ক্রেতা চিনতে লিভারপুলেরও ভুল হয়নি। ১২ কোটি ইউরো ও শর্ত সাপেক্ষে ১৬ কোটি ইউরোর রেকর্ড গড়ে কুতিনিওকে টেনে এনেছিল বার্সেলোনা।

যে দলে মেসি আছেন, সে দলে ‘ফ্রি রোলে’ খেলতে অভ্যস্ত আরেকজন খেলোয়াড়কে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণিত হতে সময় লাগেনি। মাঝে এক মৌসুম বায়ার্ন মিউনিখে ধারে খেলে ‘ট্রেবল’ জিতলেও বার্সার হয়ে কুতিনিওর পারফরম্যান্স শুধু নিচের দিকেই নেমেছে।

২০১৮ সালেই আরেকটি গুরুতর সিদ্ধান্ত নেয় বার্সা ম্যানেজমেন্ট। চোট নিয়ে ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েছিলেন ডিফেন্ডার স্যামুয়েল উমতিতি। শল্যচিকিৎসকের কাছে না গিয়ে ওই সময় জাতীয় দলে খেলা উমতিতির চুক্তির মেয়াদ বাড়ায় বার্সেলোনা।

কিন্তু পরের তিন বছরে দেখা গেল, বয়ে বেড়ানো সে চোটে নিজের ফর্মই হারিয়ে ফেলেছেন উমতিতি। এরপর খেলতে পারলেন মাত্র ৪৯ ম্যাচ। যখন মাঠে নেমেছেন, তখন কোচকে সে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় নিজেকে শাপশাপান্ত করতে দেখা গেছে। আর্থিকভাবেও এ চুক্তি বার্সার জন্য ‘গলার কাঁটা’ হয়ে উঠেছে। উমতিতিকে ছেড়ে দিতে চাইলেও অন্য কোনো ক্লাবই উচ্চ বেতনে তাঁকে নিতে রাজি নয়। ফলে বসে বসেই বার্সেলোনার তহবিল কমাচ্ছেন উমতিতি।

default-image

সে মৌসুমে আরও প্রায় ১০ কোটি পাউন্ড দলবদলের বাজারে ঢালে বার্সা। ক্লেঁম লংলে, আর্থুর, আরতুরো ভিদাল, ম্যালকম ও জ্যাঁ-ক্লেইর তোদিবোকে কেনে বার্সা। এসব খেলোয়াড়ের পেছনে দলবদলের ফি ও পারিশ্রমিক মিলিয়ে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা বিনিয়োগ কি বুদ্ধিদীপ্ত হয়েছিল? একমাত্র লংলে ছাড়া তাঁদের আর কেউ এখন বার্সায় নেই, উত্তর তো এই তথ্যই বলে দেয়!

দলবদলের বাজারে সঠিক সিদ্ধান্ত কতটা কাজে দেয়, তা ২০১৯ চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালে বার্সাকে বুঝিয়ে দেয় লিভারপুল। কুতিনিওর বাবদে প্রাপ্ত অর্থে কেনা আলিসন বেকার ও ভার্জিল ফন ডাইক লিভারপুলের রক্ষণকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যান। এই রক্ষণই সেমিফাইনালে ঘরের মাঠে বার্সার আক্রমণভাগকে বোতলবন্দী করে রাখে। প্রতিপক্ষের মাঠে কোনো গোল করতে না পারার ব্যর্থতা ও ৪-০ গোলের সেই হার (দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৩) ছিল বার্সার জন্য শেষ ‘ওয়ার্নিং বেল’।

জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ প্রশাসন তবু শিক্ষা নেয়নি। মেসির কারণে যে দলে কুতিনিওই সুযোগ পাচ্ছিলেন না, তারাই মেসির পজিশনে খেলতে অভ্যস্ত আঁতোয়ান গ্রিজমানকে কিনে নেয়। ২০১৯ সালের এই দলবদলেও ১২ কোটি ইউরো খরচ করে বার্সেলোনা। তাঁকে একাদশে জায়গা করে দিতে কুতিনিওকে ধারে পাঠানো হয় বায়ার্নে।

চ্যাম্পিয়নস লিগে ব্যর্থতার পরই কোচ আর্নেস্তো ভালভার্দের ওপর আস্থা হারিয়েছিল বার্সা। তবু দুবার লিগ জেতানো কোচে আস্থা রাখছিল বার্সেলোনা। কিন্তু লিগে শীর্ষ স্থানে থাকা অবস্থায় ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে বরখাস্ত করে বার্সেলোনা! তাঁর জায়গায় আনা হয় কোচ হিসেবে বড় কোনো ট্রফি জিততে না পারা কিকে সেতিয়েনকে।

এক মাস পরই বিপদে পড়েন সেতিয়েন। লুইস সুয়ারেজ আগেই চোটে ছিলেন। জানুয়ারির দলবদল শেষ হওয়ার পর চোটে পড়েন দেম্বেলেও। দলে ফিট কোনো স্ট্রাইকার নেই, বাধ্য হয়েই লা লিগার নিয়মের মধ্যে থেকে লিগে খেলেন, এমন কোনো স্ট্রাইকারকে খোঁজা শুরু করে বার্সা। মার্টিন ব্রাথওয়েটকে দেড় কোটি ইউরোর বেশিতে কিনে আনে বার্সেলোনা।

কিন্তু ব্রাথওয়েটকে সই করানোর কয়েক সপ্তাহ পরই করোনাভাইরাস মহামারিতে মৌসুমের খেলা স্থগিত হলো। খেলা শুরু হওয়ার আগেই চোট কেটে গেল সুয়ারেজের। অর্থাৎ ব্রাথওয়েটকে কেনার বার্সার কোনো কাজেই এল না।

default-image

গত বছরের এপ্রিলে পরিস্থিতি ভারী হতে শুরু করে ক্যাম্প ন্যুতে। করোনার মধ্যে স্বেচ্ছায় খেলোয়াড়দের ৭০ শতাংশ বেতন কমানোর সিদ্ধান্তটা জানান মেসিরা। অথচ এর আগে ক্লাবের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয়, মেসিরা বেতন কমাতে রাজি নন। এভাবে খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে সমর্থকদের খেপিয়ে তলার চেষ্টা মেসিরা ভালোভাবে নেননি।

একের পর এক বিবৃতিতে ক্লাব কর্তৃপক্ষকে রীতিমতো ধুয়ে দিয়েছেন তাঁরা। এর মধ্যেই মুফতে বার্সেলোনা ছাড়েন আরদা তুরান। বার্সেলোনার আরেকটি ব্যর্থ দলবদলের উদাহরণ হয়ে।

লিগে শীর্ষে থাকা অবস্থায় দলের দায়িত্ব পেয়েছিলেন সেতিয়েন। তবু মৌসুম শেষ হওয়ার এক ম্যাচ আগেই রিয়াল মাদ্রিদকে লিগ জিততে দেখেন সেতিয়েন ও মেসিরা। আগস্টে ক্লাব ইতিহাসের অন্যতম বড় ধাক্কা খায় বার্সা। চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ৮-২ গোলে হারে ক্লাবটি। কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা হিসেবে যোগ হয় বায়ার্নের হয়ে কুতিনিওর দুটি গোল। ব্রাজিলিয়ানকে ধারে অন্য ক্লাবে পাঠানোর পুরস্কার!

ওই হারের পর চাকরি যায় সেতিয়েনের। এর মধ্যেই আরেকটি প্রশ্নবিদ্ধ দলবদল হয়। আর্থুরকে জুভেন্টাসের কাছে বিক্রি করে তাঁর চেয়ে ছয় বছরের বড় মিরালেম পিয়ানিচকে নিয়ে আসে। আর্থুরের চেয়ে পিয়ানিচের বেতনও বেশি। সে দলবদলে আর্থিক অনিয়ম হয়েছিল কি না, এ নিয়ে কদিন আগেই তদন্ত শুরু করেছে ইতালি।

২০১৯-২০ মৌসুমে ক্লাবের কোচ হিসেবে যোগ দেন ক্লাব কিংবদন্তি রোনাল্ড কোমান। বার্সার ভবিষ্যতে তাকিয়ে অনেকেই এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছিলেন। বলা হয়েছিল, কোনো পরিকল্পনার অংশ নয়, এ নিয়োগ জাভিকে না পাওয়ার শূন্যস্থান পূরণ।

মেসির বিদায়টা মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল তার আগেই। আগস্টেই বুরোফ্যাক্স করে ক্লাব ছাড়ার কথা বার্সাকে জানান মেসি। পরে অনেক জল ঘোলার পর সে সিদ্ধান্ত থেকে সরেও আসেন। কিন্তু ড্রেসিংরুমের সঙ্গে ক্লাব প্রশাসনের সম্পর্কে যে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে, তত দিনে তা পরিষ্কার।

পরের মাসে এক সাক্ষাৎকারে বার্সার ভেতরকার পরিস্থিতি সম্বন্ধে নিজের কথায় একটু ধারণা দেন মেসি, তিনি ক্লাব ছাড়তে চান কিন্তু আইনি মারপ্যাঁচে তাঁকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।

ওদিকে কোমান এসে সুয়ারেজকে জানিয়ে দেন, উরুগুয়ে তারকা তাঁর পরিকল্পনায় নেই। বার্সার ইতিহাসেই অন্যতম সেরা স্ট্রাইকারকে ৩০ সেকেন্ডের এক ফোনকলে এভাবে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনা কম হয়নি।

শেষ পর্যন্ত বিষয়টি দাঁড়ায় বার্তোমেউ বনাম মেসি দ্বন্দ্বে। বার্তোমেউ তাঁর পুরো বোর্ড নিয়ে অক্টোবরে পদত্যাগ করেন। কিন্তু তত দিনে ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে। ঋণের জালে ডুবতে বসেছে বার্সা। শুধু তা–ই নয়, ইউরোপিয়ান সুপার লিগে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে ‘বোমা’ও ফাটান বার্তোমেউ।

বিতর্ক তখনো শেষ হয়নি। খেলোয়াড়েরা তত দিনে জানতে পারেন, নিজের ক্লাবের খেলোয়াড়দের কুৎসা রটাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে এক প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিয়েছিলেন বার্তোমেউ। একটা ক্লাবের পরিস্থিতি যখন এমন, তখন খেলোয়াড়েরা মাঠে ভালো খেলবেন কীভাবে?

এরপর দ্রুত কিছু ঘটনা ঘটল। বার্তোমেউর জায়গায় সভাপতি হওয়ার আশায় মেসিকে ‘যেকোনোভাবে ধরে রাখা’র ঘোষণা দেন হুয়ান লাপোর্তা। যদিও মাঠে তখন বার্সার অবস্থা তথৈবচ। চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায় নিতে হয় পিএসজির কাছে হেরে। এর মধ্যে ইউরোপিয়ান সুপার লিগে যোগ দেওয়ার জোট বাঁধায় ‘বিদ্রোহী’ তকমাও পায় বার্সা। মাঠ ও মাঠের বাইরে আর্থিকভাবে এ সিদ্ধান্ত বার্সার কোনো কাজেই লাগেনি।

স্কোয়াডে শক্তি বাড়াতে এই মৌসুমের শুরুতে মুফতে আনা হয়েছে মেম্ফিস ডিপাইকে। মেসিকে ধরে রাখার চেষ্টা হিসেবে বর্ষীয়ান স্ট্রাইকার সের্হিও আগুয়েরোকেও টেনে আনা হয়েছে। ম্যানচেস্টার সিটি থেকেই এসেছেন এরিক গার্সিয়াও। কিন্তু বার্তোমেউর পুঁতে যাওয়া আর্থিক সংকটের চারা বিষবৃক্ষ হয়ে উঠল।

জানা গেল, বেতন বাবদ বার্সেলোনার বাজেট এই মৌসুমে ১০ কোটি ইউরোর কম! মেসিকে তাই ধরে রাখা যায়নি। তারকায় ভরপুর বার্সা ডিপাই-গার্সিয়াদের নিয়ে হয়ে পড়ল ‘ভাঙা হাট’।

অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে আগুয়েরো, গার্সিয়া, ডিপাইদের নিবন্ধন করাতেই জেরার্ড পিকে ও অন্য অধিনায়কদের বেতন ৫০ শতাংশ কমাতে হয়েছে। আলোচিত দলবদলে যোগ দেওয়া পিয়ানিচও ছেড়ে দেন বার্সা। ক্লাবটির হয়ে এক মৌসুমে মাত্র ১৭০ মিনিট খেলা পিয়ানিচ কোনো গোল করতে পারেননি, গোল বানাতেও পারেননি।

এ বছর গ্রিজমানকেও আতলেতিকোর কাছে ছেড়ে দেয় বার্সা। শুধু খরচ কমাতেই এ সিদ্ধান্ত। লুক ডি ইয়ংকে গ্রিজমানের জায়গায় নিয়ে আসে বার্সা। এই আক্রমণভাগ এবার চ্যাম্পিয়নস লিগে ৬ ম্যাচে ২ গোল করেছে। দেড় যুগ পর ইউরোপা খেলতে যাচ্ছে বার্সেলোনা। ওদিকে গ্রিজমান, লুইস সুয়ারেজ, মেসি, নেইমাররা ঠিকই খেলবেন চ্যাম্পিয়নস লিগে।

দলবদলের বাজারে ভুলের পর ভুল করা আর অর্থের অপব্যবহার—সেসবেরই প্রায়শ্চিত্ত করছে বার্সা। বিশ্বাস হচ্ছে না?

জেরার্ড পিকে কিন্তু মঙ্গলবার বার্সার এই পতনের কারণ সম্পর্কে স্পস্ট বলেছেন, ‘ম্যানেজমেন্ট। এটা বোঝা খুবই সহজ।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন