জয়ের পর বায়ার্ন তারকারা।
জয়ের পর বায়ার্ন তারকারা। ছবি: রয়টার্স

আর্লিং হরলান্ড, জেডন সাঞ্চো, জিওভানি রেইনা, জুড বেলিংহাম, ইউলিয়ান ব্রান্ট–ডর্টমুন্ডের এই দলটা যেন তারুণ্যের চমৎকার এক বিজ্ঞাপন। সেই তারুণ্যের তেজ বুঝেছে বায়ার্ন মিউনিখও। কিন্তু তা সত্ত্বেও শেষমেশ জয় হয়েছে বায়ার্নের অভিজ্ঞতার। নিজেদের মাঠ ওয়েস্টফ্যালেনস্টাডিওনে বায়ার্নের বিপক্ষে ৩-২ গোলে হেরেছে ডর্টমুন্ড। জার্মান লিগের সবচেয়ে বড় ম্যাচে ডর্টমুন্ডের পরাজয়ে লিগ শীর্ষস্থানে বায়ার্নের অবস্থান হয়েছে আরেকটু মজবুত।

প্রথম থেকে দুই দলই দুর্দান্ত খেলেছে। ৪-২-৩-১ ছকে নেমেছিল দুই দলই। আক্রমণাত্মক মানসিকতায় খেলার কারণে দুই দলের কাছেই সুযোগ এসেছে অনেক। ডর্টমুন্ড অনেকবার বায়ার্নের হাই-লাইন ডিফেন্স ভেদ করে বিপজ্জনকভাবে ঢুকে যাচ্ছিল। কিন্তু ওই যে, অভিজ্ঞতা! ডি-বক্সের সামনে গিয়ে বারবার খেই হারিয়ে ফেলছিলেন হরলান্ড, সাঞ্চো, রেইনারা। আর বায়ার্নের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে সুযোগ নষ্ট করা মানে নিজেদের পরাজয় ডেকে আনা। সেটাই হয়েছে। ২৬ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে পাওয়া বল নিয়ে বাঁ প্রান্তে একটু দৌড়ে ডি-বক্সে রবার্ট লেফানডফস্কির উদ্দেশ্যে বল বাড়ান জার্মান উইঙ্গার সার্জ ন্যাব্রি। পাকা গোলশিকারির মতো ট্যাপ ইন করে বলটা জালে ঢুকিয়ে দেন পোলিশ স্ট্রাইকার। যদিও পরে ভিএআর অফসাইডের দোহাই দিয়ে গোলটা বাতিল করে দেয়। কিন্তু তাতেই মোটামুটি চেনা বায়ার্নকে আরেকবার নতুন করে চেনা হয়ে যায় যে সামান্যতম সুযোগ পেলেও সেটা কাজে লাগাবেন ন্যাব্রি-লেভা-কোমানরা।

default-image
বিজ্ঞাপন

৩৬ মিনিটে অবশ্য বায়ার্ন শিবিরে চিন্তার কালো মেঘ ঘনিয়ে আসে। দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়, ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ইয়োসুয়া কিমিখ চোটের কারণে মাঠের বাইরে চলে যান। কিমিখকে হারিয়ে বায়ার্ন কিছুক্ষণের জন্য যে ছন্নছাড়া হয়ে পড়ে। আর সেটা সুযোগই নেয় ডর্টমুন্ড। প্রথমার্ধে মূল সময়ের একদম শেষ দিকে পর্তুগিজ লেফটব্যাক রাফায়েল গেরেইরোর ক্রসে পা ঠেকিয়ে দলকে এগিয়ে দেন ডর্টমুন্ড অধিনায়ক মার্কো রয়েস। গোল খেয়ে গা ঝাড়া দিয়ে জেগে ওঠা বায়ার্ন গোল শোধ করতে বেশিক্ষণ নেয়নি। যোগ করা সময়ে দুর্দান্ত এক ফ্রি কিকে দলকে সমতায় ফেরান অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডার ডেভিড আলাবা। এই আলাবার সঙ্গে চুক্তি বৃদ্ধি নিয়ে বেশ কয়েক মাস ধরে ঝামেলায় আছে বায়ার্ন, আগামী দলবদলে আলাবা ক্লাব ছাড়তে পারেন, এমন গুঞ্জনও উঠেছে। সে হিসেবে এই গোলটা দলের জন্য আলাবার বিদায়ী উপহার হলেও হতে পারে!

default-image

দ্বিতীয়ার্ধের দ্বিতীয় মিনিটে আবারও ক্ষুরধার বায়ার্নের প্রতিচ্ছবি। লেফটব্যাক লুকাস এর্নান্দেসের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে ডর্টমুন্ডের সুইস গোলরক্ষক রোমান বুয়ের্কিকে পরাস্ত করেন লেফানডফস্কি। ৮০ মিনিটে সেই লেফানডফস্কিই এবার সহায়তাকারীর ভূমিকায়। দলে নতুন আসা জার্মান উইঙ্গার লিরয় সানে তাঁর কাছ থেকে বল নিয়ে ডর্টমুন্ডের ডিফেন্ডার ম্যানুয়েল আকাঞ্জিকে পরাস্ত করে দলের ব্যবধান বাড়িয়ে দেন। তাঁর ঠিক দুই মিনিট পর ডর্টমুন্ড শিবিরে আরেকটু আশার আলো জ্বালিয়ে দেন আর্লিং হরলান্ড। গেরেইরোর কাছ থেকে বল নিয়ে বায়ার্ন অধিনায়ক ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত প্লেসমেন্টে ব্যবধান কমান এই নরওয়েজীয় স্ট্রাইকার। পরের আট মিনিটে আরেকটা গোল করতে পারলে অন্তত পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে পারত ডর্টমুন্ড। কিন্তু সেটা হয়নি। ফলে ম্যাচের শুরু দিকের নষ্ট করা সুযোগগুলো হতাশাই বাড়িয়েছে হরলান্ড-রয়েসদের মধ্যে। এই পরাজয়ে বায়ার্নের শীর্ষস্থান মজবুত হয়েছে তো বটেই, ডর্টমুন্ড নেমে গেছে তিন নম্বরে। আর ফ্রেইবুর্গকে ৩-০ গোলে হারানো লাইপজিগ উঠে এসেছে দুই নম্বরে

default-image

সুযোগ হারানোর বেদনাটাই ম্যাচ শেষে ফুটে উঠেছে ডর্টমুন্ড তারকাদের কণ্ঠে। ম্যাচের পর জার্মান টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ম্যাটস হামেলস বলেন, ‘আমাদের ফিনিশিংই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে দুই দলের মধ্যে।’ হরলান্ডও একমত, ‘আমাকে আরও গোল করতে হবে। এই ধরনের ম্যাচে এত সুযোগ নষ্ট করা যায় না। নষ্ট করলে আমরা ম্যাচ জিতব না, সোজা হিসাব।’

মন্তব্য পড়ুন 0