default-image

বেশ কয়েক মাস ধরেই খেলোয়াড় কেনার জন্য বায়না ধরেছেন ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা।

প্রশ্ন উঠতে পারে, গার্দিওলা খেলোয়াড় কেনেন না কখন? ম্যানচেস্টার সিটিতে আসার পর থেকে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন পাউন্ডের মতো খরচ করেছেন। গোটা দলটার চেহারাই বদলে দিয়েছেন। সার্জিও আগুয়েরো, ডেভিড সিলভা, ফার্নান্দিনহো আর রহিম স্টার্লিং ছাড়া মূল দলের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় প্রত্যেকটা খেলোয়াড়ই তাঁর আমলে কেনা। একেকজনকে এনেছেনও রেকর্ডভাঙা দামে। সেই গার্দিওলাই যখন অনুযোগ করেন যে টাকার অভাবে প্রয়োজন মতো খেলোয়াড় কিনতে পারেননি, কথাটা কি হাস্যকর শোনায় না?

অথচ এই কাজটাই ইনিয়ে-বিনিয়ে করে যাচ্ছেন এই স্প্যানিশ কোচ। কখনো মুখ ফুটে বলছেন, কখনো নিজের কর্মকাণ্ডেই বুঝিয়ে দিচ্ছেন। এই মৌসুমের শুরুতেই ইংলিশ সেন্টারব্যাক হ্যারি ম্যাগুয়ারকে বিশ্বের সবচেয়ে দামি সেন্টারব্যাক হিসেবে কিনে এনেছিল প্রতিবেশী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ব্যাপারটা যেন সহ্যই করতে পারছিলেন না গার্দিওলা। এর মধ্যেই বেশ ক’বার সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে দিয়েছেন, ম্যাগুয়ারকে দলে চেয়েছিলেন তিনি। বহুদিনের পুরোনো যোদ্ধা ও পোড় খাওয়া অধিনায়ক ভিনসেন্ট কম্পানি এই মৌসুমেই সিটি ছেড়ে নাম লিখিয়েছেন আন্ডারলেখটে। কম্পানির জায়গাতেই ম্যাগুয়ারকে চেয়েছিলেন গার্দিওলা। কিন্তু ‘টাকার অভাবে’ বলে ম্যাগুয়ারকে পাননি এই কোচ! সিটির টাকা নেই, ভাবা যায়!

এর পর মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে মূল সেন্টারব্যাক জন স্টোনস, আয়মেরিক লাপোর্তেদের চোট। ফলে গার্দিওলাও নিজের চাহিদা জানান দিয়ে গলা খাঁকারি দিয়েই যাচ্ছেন। গতকাল যা করলেন, তাঁর কোনো তুলনাই হয় না। ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে মূল একাদশে একজন সেন্টারব্যাকও রাখলেন না এই কোচ! রাখবেন কি করে? স্টোনস সদ্য চোট কাটিয়ে ফিরেছেন, লাপোর্তে এখনো মাঠের বাইরেই আছেন। গার্দিওলার কথা মানলে, চোটে পড়েছেন নিকোলাস ওটামেন্ডিও। কম্পানি তো বটেই, নিজের খেলার ধরনের সঙ্গে মেলে না দেখে বেচে দিয়েছেন ফরাসি সেন্টারব্যাক এলিয়াকুইম মাঙ্গালাকে। ধারে পাঠিয়ে দিয়েছেন ফিলিপ স্যান্ডলারকে। স্প্যানিশ ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়া দলে থাকলেও তাঁর ওপর ভরসা রাখতে নারাজ গার্দিওলা।

>

গতকাল ক্রিস্টাল প্যালেসকে তাদের মাঠে গিয়ে ২-০ গোলে হারিয়ে এসেছে ম্যানচেস্টার সিটি। ম্যাচে একজন সেন্টারব্যাককেও খেলাননি কোচ পেপ গার্দিওলা!

ফলে যা হওয়ার তাই হলো, গতকাল ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে একজন সেন্টারব্যাক নিয়েও নামেনি সিটি। ৩-৫-২ ছকে যে তিনজন সেন্টারব্যাক হিসেবে খেলেছেন, এদের মধ্যে দুজন হোয়াও ক্যানসেলো ও বেঞ্জামিন মেন্ডি চরম আক্রমণাত্মক দুই ফুলব্যাক। বাকি জন ফার্নান্দিনহো মূলত একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। এমনকি এই ম্যাচে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে খেলা স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রিও সময়-সুযোগ মতো নেমে সেন্টারব্যাক হয়ে যাচ্ছিলেন। রক্ষণভাগের এমন অবস্থা নিয়েও ক্রিস্টাল প্যালেসকে ২-০ গোলে হারিয়ে দিয়েছে সিটি।
তা যাই হোক, একজন সেন্টারব্যাক না নামিয়ে গার্দিওলা যেন অনুচ্চারে সেই আকুতিটাই করে গেলেন, ‘সেন্টারব্যাক নেই, সেন্টারব্যাক দাও আমায়!’

কথায় কাজ হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। অসমর্থিত সূত্র থেকে জানা গেছে, আসছে জানুয়ারিতেই গার্দিওলার আবদার পূরণ করবে সিটি। দলে নিয়ে আসবে আরেকজন সেন্টারব্যাক। নাপোলির কালিদু কোলিবালি, লেস্টার সিটির ক্যালিয়ার সোয়োঙ্কু, ইন্টার মিলানের মিলান স্ক্রিনিয়ার, এসি মিলানের অ্যালেসিও রোমানিওলি, বেনফিকার রুবেন দিয়াস —চাইলে এদের মধ্যেই কাউকে চাইবেন গার্দিওলা।

দেখা যাক, সে আসেন সিটিতে!

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0