default-image

১৯ এপ্রিল কলকাতা মোহনবাগানের বিপক্ষে এএফসি কাপে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও তাঁর খেলার সম্ভাবনা খুবই কম। যদিও আজ আবাহনীর সঙ্গী হচ্ছেন দরিয়েলতনও। কিন্তু তাঁকে পাওয়ার আশা খুব একটা করছেন না কোচ মারিও লেমোস। অনুশীলন শেষে লেমোস সেটাই বললেন, ‌‘দরিয়েলতন দলের সঙ্গে যাচ্ছে ঠিকই। তবে ওকে ম্যাচে পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।’

আবাহনী অবশ্য বিকল্প হিসেবে স্বাধীনতা ক্রীড়া সংঘের স্ট্রাইকার নেদোকে দলে নিয়েছে। নেদো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে ভালোই খেলেছেন প্রথম পর্বে। ফলে তাঁর কাছে একটু বেশিই প্রত্যাশা আকাশি–নীলের। অনুশীলন শেষে নেদোও বললেন, ‘আবাহনী আমাকে অনেক আশা নিয়ে এএফসি কাপে দলভুক্ত করেছে। তাদের সেই আস্থার প্রতিদান দিতে চেষ্টা করব।’

দলে নতুন অতিথির মুখে যখন ভালো কিছু করার প্রতিশ্রুতি, পুরোনো সৈনিকেরা উজ্জ্বীবিত হয়ে জানপ্রাণ লড়াই করতে প্রস্তুত। কোচিং স্টাফের সদস্য প্রাণতোষ কুমার যেমন বললেন, ‘মোহনবাগানেরর সঙ্গে মর্যাদার ম্যাচ আমাদের। এই ম্যাচে আমরা জয় ছাড়া আর কিছুই ভাবছি না।’

default-image

জয়ের বিকল্প আসলে নেই। এই ম্যাচের জয়ী দল এএফসি কাপের গ্রুপ পর্বে সুযোগ পাবে। ফলে দুই দলের জন্যই এটি টিকে থাকার ম্যাচ। তবে ঘরের মাঠে বাড়তি সুবিধা পাবে স্বাগতিক মোহনবাগানই। সেটা জেনেই আবাহনী এই ম্যাচকে প্রতিরোধের ম্যাচ হিসেবেও দেখছে।

দুই দলের সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল পাঁচ বছর আগে। ২০১৭ সালের ৪ এপ্রিল এএফসি কাপের অ্যাওয়ে ম্যাচে আগে গোল করেও মোহনবাগানের কাছে ৩-১ গোলে হেরে আসে আবাহনী। কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে ম্যাচের ২১ মিনিটে ওয়েলশ ফুটবলার জোনাথন ব্রাউনের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল আবাহনী। গোলে সহায়তা করেছিলেন আবাহনীর বর্তমান অধিনায়ক নাবিব নেওয়াজ।

কিন্তু অগ্রগামিতা তারা ধরে রাখতে পারেনি। ৪৫ মিনিটে জেজে লালপেখলুয়ার গোলে ১-১। ৪৮ মিনিটে বালাওয়াত সিং এবং ৮৭ মিনিটে সনি নর্দে গোল করে মোহনবাগানকে জেতান। কিন্তু ঢাকায় হোম ম্যাচে মোহনবাগানকে হারাতে পারেনি আকাশি–নীলেরা। ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল সেই ম্যাচ।

default-image

তাই এবারের ম্যাচটা জিততে একটু বেশিই মুখিয়ে আছে আবাহনী। দলের ম্যানেজার ও সাবেক ফুটবলার সত্যজিৎ দাশ আজ ক্লাব মাঠে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘আমাদের সময় আমরা তিনবার মোহনবাগানকে হারেয়েছিলাম। কিন্তু সর্বশেষ ম্যাচটা হেরেছি। এবার আমরা জিততে মরিয়া। জয় ছাড়া আর কিছুই ভাবছি না।’

আবাহনীর অনুশীলন শেষে ক্লাবেই আজ ইফতার পার্টির আয়োজন করেছিল আবাহনী সমর্থকগোষ্ঠী। সেই ইফতারে এসে আবাহনীর সাবেক অধিনায়ক শেখ আশরাফ আলী মোহনবাগান-আবাহনী মুখোমুখি লড়াইয়ের স্মৃতি হাতড়ালেন। ১৯৭৭ সালে আবাহনী প্রথমবার অপরাজিত লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তাঁর নেতৃত্বেই। ফিরে গেলেন তিনি অতীতে, ‘১৯৭৪ সালে আইএফএ শিল্ডের প্রথম রাউন্ডে আমরা দুর্গাপুরে খেলেছিলাম। সেখানে কলকাতার টালিগঞ্জ অগ্রগামী এবং কেরালার দল প্রিমিয়ার টায়ারকে হারিয়ে চূড়ান্ত পর্ব উঠি। এরপর আইএফএ শিল্ডের চূড়ান্ত পর্বে মোহনবাগানের কাছে হেরে বিদায় নিই। সেদিন সালাউদ্দিন, অমলেশসহ আমাদের তিন–চারজন ফুটবলার খেলেনি। ফলে আমরা সুবিধা করতে পারিনি। ম্যাচটা হয়েছিল মোহনবাগানের বৃষ্টিভেজা মাঠে।’

শেখ আশরাফ আলী যখন ৪৮ বছর আগের স্মৃতিচারণা করছিলেন, তাঁর পাশে তখন আবাহনীর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ। তিনিও আগামীকাল দলের সঙ্গে যাচ্ছেন দলনেতা হিসেবে। মোহনবাগানের সঙ্গে খেলার স্মৃতিচারণা করে হারুনুর বলছিলেন, ‘দুই বাংলার ম্যাচ বলে একটু বাড়তি উত্তেজনা থাকে আমাদের মধ্যে। এই ম্যাচকে একটু আলাদাই মনে হয়। কারণ, দুই বাংলার লড়াই।’

দুই বাংলার এই লড়াইয়ে জিততে মরিয়া মোহনবাগানও। আজ কলকাতায় বাংলা নববর্ষে বার পূজা করেছে মোহনবাগান। আগামী দিনগুলো যাতে ভালো কাটে, গোল খেতে না হয়, সেই প্রত্যাশায় কলকাতার ফুটবলে বাংলা নববর্ষে বার পূজা হয়। বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলে আলাদাভাবে নববর্ষ উদ্‌যাপিত হয় না। তবে নববর্ষে প্রত্যাশা একই—জয়।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন