ভেনলোর জালে আক্ষরিক অর্থেই মিনিটে মিনিটে গোল দিয়েছে আয়াক্স।
ভেনলোর জালে আক্ষরিক অর্থেই মিনিটে মিনিটে গোল দিয়েছে আয়াক্স। ছবি: এএফপি

গোল, গোল আর গোল। ১২, ১৭, ৩২, ৪৪—প্রথমার্ধে তবু একটু বিরতি নিয়েই গোল হয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ভেনলোর খেলোয়াড়েরা নিজেদের জাল থেকে বল কুড়িয়েই কূল পাচ্ছিল না! ৫৪, ৫৪, ৫৫, ৫৭, ৫৯, ৬৫, ৭৪, ৭৬, ৭৮, ৮৭—আক্ষরিক অর্থেই যেন মিনিটে মিনিটে গোল হয়েছে! কী ভাবছেন, এটা স্কুল পর্যায়ের কোনো ম্যাচের গল্প? আসলে তা নয়। পাড়ার কোনো ফুটবল ম্যাচের প্রতিবেদনও নয় এটা। গোলবন্যার ম্যাচটি আসলে হয়েছে নেদারল্যান্ডসের শীর্ষ লিগে। যে ম্যাচে ডাচ লিগে সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড গড়েছে আয়াক্স। ভেনলোর বিপক্ষে ম্যাচটি তারা জিতেছে ১৩-০ গোলে!

default-image

ডাচ লিগে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ডটি এত দিন আয়াক্সেরই অধিকারে ছিল। ষাট ও সত্তরের দশকটা ছিল আয়াক্সের সোনালি যুগ। সেই সময়ে ইয়োহান ক্রুইফদের আয়াক্স ১৯৭২ সালে ডাচ লিগে ভিতেসেকে ১২-১ গোলে হারিয়েছিল। ৪৮ বছরের পুরোনো সেই রেকর্ড ভাঙতে লাসিনা ত্রায়োরে একাই করেছেন পাঁচ গোল। এটাও বড় এক কীর্তি। ১৯৮৫ সালে মার্কো ফন বাস্তেনের পর এই প্রথম আয়াক্সের কোনো ফুটবলার ডাচ লিগের এক ম্যাচে পাঁচ গোল করল।

বিজ্ঞাপন

চলতি মৌসুমে লিগে এই প্রথম গোল পেলেন ১৯ বছর বয়সী ত্রায়োরে। আর এক ম্যাচের গোলেই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন তিনি। শুধু কি গোল করা, গোল করানোতেও এ ম্যাচে তাঁর তুলনা ছিল না। সতীর্থদের করা তিনটি গোলে অবদান রেখেছেন ত্রায়োরে। ম্যাচ শেষে তিনি ভেনলোর জালে আয়াক্সের এমন গোলবন্যার রহস্য জানিয়েছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগে লিভারপুলের কাছে ১-০ গোলে হেরে খুব তেতে ছিল আয়াক্স। সেই আগুনেই আসলে পুড়েছে ভেনলো!

default-image

ত্রায়োরে কথাগুলো বলেছেন এভাবে, ‘তাদের (ভেনলো) প্রতি পুরো শ্রদ্ধা আছে আমাদের। কিন্তু মাঠে নামলে সব সময়ই আমরা নিজেদের উজাড় করে দিয়ে খেলি। কখনো কখনো তো বেশ তেতেও থাকি।’ আয়াক্সের কোচ এরিক টেন হাগের কণ্ঠেও একই সুর, ‘লিগে এমন ধরনের ফল আপনি সচরাচর দেখবেন না। এটা বিশেষ এক ফল। এদিন আমরা মাঠে গোলের জন্য ক্ষুধার্ত ছিলাম। যত বেশি সম্ভব গোল করতে চেয়েছি। সেটা আমরা করেছিও।’

ভেনলোর কোচ আর কী বলবেন। দুঃস্বপ্নের এই ম্যাচটিকে ভুলে যেতে চাওয়াটাই তাঁর জন্য স্বাভাবিক। ম্যাচ শেষে ভেনলো কোচ হান্স ডি কোনিং বলেছেন, ‘এটা এমন একটি ম্যাচ, যেটিকে আমরা মাটির অনেক গভীরে চাপা দিয়ে রাখতে চাইব। এরপর এর ওপরে কংক্রিট বিছিয়ে দেব।’

মন্তব্য পড়ুন 0