default-image

কোচ জিনেদিন জিদানের নেতিবাচক দিক কোনটি? পাঁড় রিয়াল ও জিদান ভক্তকে জিজ্ঞেস করলে প্রশ্নটার উত্তর একটাই হতে পারে। সেটা হলো, প্রিয় খেলোয়াড়দের ফর্ম থাকুক বা না থাকুক, সব সময় পরীক্ষিত পুরোনো খেলোয়াড়দের নিয়েই যুদ্ধে নামতে পছন্দ করেন তিনি। এ কারণে রিয়ালকে যে ঝামেলায় পড়তে হয় না, তা কিন্তু নয়। এবার দলে বাড়তে থাকা চোট সমস্যার কারণেই হোক, কিংবা জয়ের ধারায় ফেরত আসার প্রবল ইচ্ছার কারণেই হোক, নিজের পছন্দের খেলোয়াড় ও ছক থেকে একটু সরে এলেন জিদান। সুযোগ দিলেন তরুণদের।

বাজিমাত তাতেই। লা লিগায় হেতাফেকে ২-০ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। গোল করেছেন ফরাসি স্ট্রাইকার করিম বেনজেমা ও লেফটব্যাক ফারলঁদ মেন্দি। এই ম্যাচেই পরীক্ষিত ৪-১-২-১-২, কিংবা ৪-৩-৩ ছক থেকে সরে এসে দলকে ৩-৪-৩ ছকে খেলিয়েছেন জিদান। দানি কারভাহাল, আলভারো ওদ্রিওসোলার মতো ডিফেন্ডার নেই দেখে নেমেছিলেন মারভিন পার্কের মতো তরুণ। ম্যাচের শেষ দিকে খেলেছেন ভিক্তর গার্সিয়া ও সান্তিয়াগো আরিবাসের মতো তরুণেরাও। ফলাফল? তারুণ্যের ঝান্ডা ওড়ানো রিয়াল মাদ্রিদ মাঠ ছেড়েছে জয় নিয়েই।

ম্যাচের শুরুতেই নির্ভরযোগ্য স্প্যানিশ সাংবাদিক সিরো লোপেজের একটি টুইটে ঝড় ওঠে রিয়াল শিবিরে। বর্ষীয়ান এই সাংবাদিক দাবি করেন, রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে অধিনায়ক সের্হিও রামোসের সম্পর্ক একেবারেই তলানিতে ঠেকেছে, জুনেই ক্লাব ছাড়বেন পোড় খাওয়া এই যোদ্ধা। তাঁকে নতুন কোনো চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হবে না। এমন খবর মাথায় নিয়েই মাঠে নামে রিয়াল।

default-image
বিজ্ঞাপন

৩-৪-৩ ছকে লেফটব্যাক মেন্দি খেলেন লেফট সেন্টারব্যাক হিসেবে। তরুণ মিডফিল্ডার মারভিন পার্ককে নামানো হয় রাইট উইংব্যাক হিসেবে, লেফট উইংব্যাকে অভিজ্ঞ মার্সেলো। ওদিকে বেনজেমার দুপাশে ভিনিসিয়ুস আর আসেনসিও। চোটের কারণে ক্রুস ছিলেন না, মাঝমাঠ সামলেছেন লুকা মদরিচ ও কাসেমিরো। কাগজে–কলমে লেফট উইংব্যাক বলা হলেও মার্সেলোকে যেন এদিন ক্রুসের দায়িত্ব পালন করতেই মাঠে নামিয়েছিলেন জিদান। রক্ষণের চিন্তা বাদ দিয়ে পাকা প্লে-মেকারের মতো খেলে গেছেন এই ব্রাজিলিয়ান। ওদিকে মেন্দি বুঝিয়েছেন, তাঁকে লেফটব্যাক হিসেবে ভাবা হলেও সেন্টারব্যাক হওয়ার যথেষ্ট গুণাবলি আছে তাঁর।

হেতাফের বিপক্ষে লিগে সর্বশেষ ১৩ ম্যাচেই অপরাজিত রিয়াল, সে রেকর্ডটা বেড়ে ১৪-তে ঠেকবে, আশা ছিল সেটাই। সে আশা পূরণের লক্ষ্যে প্রথম থেকেই কাজ করে গিয়েছেন বেনজেমারা।

৫ মিনিটে কাসেমিরোর এক শট পোস্টের ওপর দিয়ে যায়, ১৪ মিনিটে আসেনসিওর কর্নার থেকে বেনজেমার হেডকে পড়িমরি করে বাঁচান হেতাফে গোলরক্ষক দাভিদ সোরিয়া। ৩৮ মিনিটে মার্সেলোর ক্রস থেকে মদরিচের জোরালো শট এই সোরিয়াই বাঁচিয়ে দেন। ৪৮ মিনিটে আবারও চীনের প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে যান সোরিয়া। এবার আটকে দেন বেনজেমার শট।

তবে সোরিয়ার প্রতিরোধ ভেঙে যায় ৬০ মিনিটে। ডান প্রান্ত থেকে ভিনিসিয়ুসের এক ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে দলকে এগিয়ে দেন বেনজেমা। ব্যবধান বাড়াতে ছয় মিনিটের বেশি নেয়নি রিয়াল। মার্সেলোর ক্রসে পা ঠেকিয়ে ৬৬ মিনিটেই আদর্শ স্ট্রাইকারের মতো দলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লেফট সেন্টারব্যাক হিসেবে খেলা মেন্দি।

এই জয়ের মাধ্যমে ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে চলে এসেছে রিয়াল। শীর্ষে থাকা আতলেতিকোর পয়েন্ট তাদের চেয়ে ৫ বেশি। সুয়ারেজরা অবশ্য খেলেছেনও দুটি ম্যাচ কম।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন