default-image
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পানামাকে ২-১ গোলে হারিয়েছে তিউনিসিয়া। তিউনিসিয়ার পক্ষে একটি করে গোল করেন ফখরেদ্দিন বেন ইউসেফ ও ওয়াহবি খাজরি। পানামার একমাত্র গোলটি ছিল আত্মঘাতী।


গ্রুপ জি থেকে ইংল্যান্ড ও বেলজিয়াম নকআউট নিশ্চিত করেছে আগেই। তিউনিসিয়া-পানামার শেষ ম্যাচটি ছিল স্রেফ নিয়ম রক্ষার। রাশিয়া বিশ্বকাপে দুই দলের কারোরই কোনো অর্জন নেই। স্বাভাবিকভাবেই শেষ ম্যাচে অন্তত একটা জয় নিয়ে বাড়ি ফেরার তাড়া থাকার কথা ছিল দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যেই। কিন্তু হলো কী! পুরো ম্যাচে তিউনিসিয়া একাই জয়ের জন্য খেলল। পানামার প্রথম ৭০ মিনিটের খেলা দেখে মনে হলো, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়াটাই যেন মুখ্য! উত্তর আমেরিকার দেশ পানামা একটি আত্মঘাতী গোল পেয়েছে বটে। কিন্তু ওই একমাত্র গোলে হার এড়াতে পারেননি দারিও গোমেজের শিষ্যরা। ২-১ গোলের জয় দিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বিদায় নিল আফ্রিকান দেশ তিউনিসিয়া।

প্রথমার্ধের খেলা তো ছিল না, ছিল ঘুমপাড়ানি গীত। পানামার খেলোয়াড়েরা বলতে গেলে বলই পেলেন না। তিউনিসিয়ার আক্রমণ সামলাতেই ব্যস্ত থাকে পানামা। প্রথমার্ধের ৭৩ শতাংশ সময় বল তিউনিসিয়ার খেলোয়াড়দের পায়েই ঘোরাফেরা করেছে। তিন মিনিটের মাথায় আক্রমণে ওঠে তিউনিসিয়া। গোলমুখে শটও নেন মিডফিল্ডার ফেরজানি সাসি। পানামার রক্ষণ সেটা আটকে দেয়। মাঝমাঠে দখল নিয়ে ছোট ছোট পাসে খেলতে থাকা তিউনিসিয়ার খেলোয়াড়েরা একটু পরপরই পানামার রক্ষণ চিরে ডি–বক্সে ঢুকে পড়ছিলেন। কিন্তু তাঁদের আক্রমণেও তেমন একটা ধার ছিল না। দশম মিনিটে ফরোয়ার্ড নাইম সিলতি ২০ গজ দূর থেকে যে শট নিলেন, সেটা গোলপোস্টের বেশ বাইরে দিয়ে চলে যায়। এর মিনিট দশেক পর ফের আক্রমণে তিউনিসিয়া। ওয়াহবি খাজরির শট পানামার খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে বাইরে গেলে কর্নার পায় তিউনিসিয়া। দুর্বল কর্নার থেকে বল জালে জড়াতে পারেননি তিউনিসিয়ার কোনো খেলোয়াড়। ২৩তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে ওঠে পানামা। কিন্তু ডি–বক্সে ঢোকার আগেই আনিবাল গোদয়ের পা থেকে বল কেড়ে নেন তিউনিসিয়ার রক্ষণে থাকা খেলোয়াড়।

ম্যাচের ৩৩তম মিনিটে পানামা আবার আক্রমণে উঠে আসে। এবার ভাগ্যদেবী তাদের সহায় ছিল। পানামার ১৯ বছর বয়সী তরুণ মিডফিল্ডার হোসে লুইস রদ্রিগেজের জোরালো শট তিউনিসিয়ার ডিফেন্ডার ইয়াসিন মেরিয়াহর গায়ে লেগে জালে জড়ায়। এতটা সময় পাত্তা না পেয়েও ১-০ গোলে এগিয়ে যায় পানামা।

৪১তম মিনিটে এসে গোল পরিশোধের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি তিউনিসিয়ার খাজরি। এরপরের সময়টুকুতে তিউনিসিয়া আরও কিছু সুযোগ পায়। কিন্তু আক্রমণভাগের ব্যর্থতায় সেগুলো হাতছাড়া হয়। ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধের খেলা শেষ করে তিউনিসিয়া।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই খেলোয়াড় পরিবর্তন করেন দুই দলের কোচ। খেলায় গতিও আসে তখন। তবে পানামার ঘুম ভাঙে খেলার শেষ দিকে এসে। ততক্ষণে দুই গোল দিয়ে ম্যাচে এগিয়ে যায় তিউনিসিয়া। ৫৩তম মিনিটে ফরোয়ার্ড নাইম সিলতি বক্সের ভেতর থাকা সতীর্থ ওয়াহবি খাজরিকে পাস দেন। খাজরি বল বাড়িয়ে দেন বেন ইউসেফের দিকে। দলকে সমতায় ফেরাতে ভুল করেননি ইউসেফ (১-১)। বেন ইউসেফ এই গোলের মাধ্যমে রেকর্ড বইয়ের পাতায় নিজের নামটি লিখিয়ে নিলেন। গোলটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের ২ হাজার ৫০০তম গোল।

৬৬তম মিনিটে তিউনিসিয়ার হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন খাজরি। উসামা হাদ্দাদির কাছ থেকে বল পেয়ে এই বিশ্বকাপে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। তিউনিসিয়ার ফুটবল ইতিহাসে খাজরিই একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি এক বিশ্বকাপে দুই গোল করেন।
গোল হজম করে পানামার ঘুম ভাঙলেও কাজের কাজ হয়নি। বেশ কিছু ভালো আক্রমণ আর দুর্দান্ত শটে তিউনিসিয়ার খেলোয়াড়দের বুকে ধুকপুকানি উঠলেও শেষতক রক্ষা পান তাঁরা। ৭৩তম মিনিটে এসে একটা গোলও পায় পানামা। তবে অফসাইডের ফাঁদে পড়ে সেটা বাতিল হলে হতাশায় মুখ ঢাকে পানামা শিবির। শেষ দিকে এসে তিউনিসিয়ার গোলরক্ষকের কথা না বললেই নয়। পানামার দুর্দান্ত কিছু শট গোলরক্ষক আয়মেন মাতলুতি আটকে না দিলে ভালো খেলেও জয়বঞ্চিত থাকতে হতো তিউনিসিয়াকে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0