বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রোববার ফাইনালের আগেই কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায় কীভাবে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে মারামারি করে স্টেডিয়ামে উন্মত্ত দর্শকেরা ঢুকে পড়ছিল। এই উগ্র সমর্থকেরা গ্যালারিতে গিয়ে গোলমাল পাকিয়েছিল সেদিন। তাদের আগ্রাসী আচরণের কারণে ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার হ্যারি ম্যাগুয়ারের বাবাও বুকের হাড়ে ব্যথা পান। ম্যাচ দেখতে গিয়ে অনেক শিশু-কিশোরের আতঙ্কিত হয়ে পড়ার খবরও এসেছিল সেদিন।

সেদিন স্টেডিয়াম এলাকাতেই ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আর মধ্য লন্ডনের অন্যান্য এলাকায় এভাবে গোলমাল পাকানোয় আরও ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে লন্ডন পুলিশের এক বিবৃতিতে এমন আচরণকে লজ্জাজনক বলা হয়েছে।

মেট পুলিশের ওয়েবসাইটে দেওয়া সে বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, ‘রোববার ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর ইংল্যান্ড কোনো বড় আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলছে। দিনটি হওয়ার কথা ছিল জাতীয় গর্বের, আনন্দের এবং উৎসবের। মূলত, দিনটা এমনই ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অনিয়ন্ত্রিত ও আগ্রাসী সমর্থকদের ক্ষুদ্র একটা অংশ স্বার্থপরতা থেকে সেই ফাইনালটা নিজেদের করে নিতে চেয়েছিল। সারা দিন ধরে পুলিশ কর্মকর্তারা মধ্য লন্ডন ও ওয়েম্বলিতে লজ্জাকর ঘটনা দেখেছেন। যেখানে বেশ কিছু মানুষ নিরাপত্তাব্যূহ ভেদ করেছে অথবা পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মারামারি করেছে।’

পুলিশের উপসহকারী কমিশনার জেন কনরসের বরাতে আরও বলা হয়েছে, ‘স্টেডিয়ামের গেট খোলার পর থেকেই মাঠের নিরাপত্তা ও অন্যান্য নিরাপত্তাব্যবস্থা অনেক চাপের মুখে পড়ে এবং অনেক সমর্থক নিরাপত্তাবলয় ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করে। পুলিশের অধিনায়ক ও অন্য সাহসী সব অফিসারের প্রশংসা করছি, যাঁরা এমন অনিয়ম ও আগ্রাসী আচরণ থামানোর চেষ্টা করেছেন। আমার মনে কোনো সন্দেহ নেই, তাঁরা দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত। দুঃখজনকভাবে এসব উচ্ছৃঙ্খল দর্শকের মোকাবিলা করতে গিয়ে আমাদের ১৯ জন অফিসার আহত হয়েছেন।’

বিবৃতিতে সেদিনের ফাইনাল যে পরিত্যক্ত হতে পারত, সেটাও জানানো হয়েছে, ‘পুলিশ তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে, এ কথা আমি কোনোভাবেই মানব না। পুলিশ অফিসার ও মেটের অধিনায়কেরা যেসব কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেগুলোর সঙ্গে আমি একমত। তাদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ ছাড়া এ ম্যাচ পরিত্যক্ত হতে পারত। রোববার ওয়েম্বলির এই নোংরা দৃশ্যগুলো ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও পুলিশ খতিয়ে দেখবে। ভবিষ্যতে যেন মদ্যপ গুন্ডারা ম্যাচে ঝামেলা না করতে পারে, এ ব্যাপারে কিছু শেখার থাকলে সেটাও শিখে নেব এ থেকে।’

এরই মধ্যে পুলিশ জানিয়ে দিয়েছে তদন্তে ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে গ্রেপ্তার কার্যক্রম চালিয়ে যাবে তারা। এদিকে ওয়েম্বলির এ ঘটনায় ইংল্যান্ডের ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজনের আশা একটু হলেও ধাক্কা খেয়েছে।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন