default-image

প্রিমিয়ার লিগের প্রথম পর্ব শেষে হঠাৎ এই পালাবদল হলো শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবে। অথচ সাদামাটা দল গড়েও এবারের প্রিমিয়ার লিগে দারুণ ফল করেছে শেখ জামাল। প্রথম পর্বে তারাই একমাত্র দল, যারা হারেনি। দল ১১ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে। যেখানে ২২ পয়েন্ট নিয়ে আবাহনী দুইয়ে এবং ২৬ পয়েন্ট পাওয়া বসুন্ধরা কিংস শীর্ষে।

এই সময়ে কোচ বদলের বড় কোনো কারণ ঘটেনি শেখ জামালে। তবে মার্তিনেজকে শেখ জামাল কৃর্তপক্ষ পছন্দ করছিল না। ক্লাবের ম্যানেজার আনোয়ারুল করিম বলছিলেন, ‘মার্তিনেজ আসলে একাডেমি পর্যায়ের কোচ। ওর কোচিং ভালো লাগছিল না আমাদের খেলোয়াড়দের। এ কারণেই ওকে বাদ দেওয়া।’

বাদ পড়ে মনটা খারাপ ছিল মার্তিনেজের। যিনি এর আগে বাংলাদেশে এসে নেত্রকোনায় সামাজিক কাজ করে যান একটি স্প্যানিশ উন্নয়ন সংস্থার হয়ে। এবার কোচ হয়ে এসে প্রিমিয়ার লিগে ভালো ফল করেও বিদায় নিতে হচ্ছে। মাঠে দাঁড়িয়েই ব্যথিত কণ্ঠে প্রথম আলোকে বললেন, ‘আমাকে এভাবে বাদ দেওয়ায় অবাক হয়েছি। কারণ, আমার অধীনে দল ভালো ফল করেছে। এখন সেই কৃতিত্ব আমাকে না দিলে আমার কী বলার আছে। তবে আমি হতাশ এবং ব্যথিত।’

default-image

বিদায়ী কোচকে নিয়ে মাঠে টিম মিটিংয়ে নিয়ে যান আপুসি। এর কিছুক্ষণ পর নীরবে মার্তিনেজ মাঠ ছেড়ে যান। অনুশীলনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন আপুসি। শেখ জামালের কোচিং স্টাফের এক সদস্য বললেন, ‘এমন অনুশীলনই আমরা চাইছিলাম। প্রথম দিনেই জমিয়ে দিয়েছেন আপুসি। মার্তিনেজ এটা পারতেন না।’ কিন্তু প্রশ্ন আসে বারবার বরখাস্ত করেও কেন আপুসিকে নিয়ে আসে শেখ জামাল। এর আগে চারবার বরখাস্ত হয়েছেন। এবার নিয়ে এলেন পঞ্চমবার।

কেউ কেউ বলেন, শেখ জামালের শীর্ষ এক কর্মকর্তার পছন্দের কোচ আপুসি। ফলে তাঁকে বাদ দিয়ে আবার তাঁকেই নিয়ে আসে ক্লাবটি। কিন্তু আপুসি নিজে কেন বারবার আসেন? প্রশ্ন করলে বলেন, ‘শেখ জামাল আমার দ্বিতীয় বাড়ি। এখানে সবকিছু্ই আমার পরিচিত। শেখ জামাল ক্লাব কর্তৃপক্ষ লিগের দ্বিতীয় পর্বে আমার সহায়তা চেয়েছে। বলছে, আমাকে তাদের দরকার। আমি দ্বিতীয়বার না ভেবে সম্মতি দিয়েছি। এখানে আমি খেলোয়াড় হিসেবে এসে কয়েকবার কোচ হয়েছি। তাই সাগ্রহেই চলে এসেছি।’

সাজানো একটা দলই হাতে পেলেন আপুসি। কিন্তু কাজটা চ্যালেঞ্জিং জানিয়ে আপুসি বললেন, ‘লিগের দ্বিতীয় পর্বে ভালো কিছু করা কঠিন জানি। তবে শেখ জামালের ৮০ ভাগ খেলোয়াড়ই আমার চেনা। আমি দেখব কোন জায়গায় উন্নতি করা দরকার। সেখানে উন্নতি করব।’

লক্ষ্য পূরণে নতুন দুজন নাইজেরিয়ান ফুটবলার এনেছেন আপুসি। দুজনই খেলেছেন নাইজেরিয়ার প্রিমিয়ার লিগে। একজন নাইজেরিয়ার জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন বলে জানালেন কোচ। বাদ দেওয়া হচ্ছে সোলেমান সিল্লাহ ও নাইজেরিয়া চিনেদু ম্যাথুকে। কোচ ও বিদেশি পাল্টে শেখ জামাল চায় আরও ভালো কিছু করতে। ভয় একটাই, এই বদল না বুমেরাং হয়ে যায়!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন