বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

কলকাতার হোটেল থেকে আজ মুঠোফোনে নাবিব প্রথম আলোকে সেই গল্পই বলছিলেন, ‘চল্লিশের দশকে আমার দাদা মোহনবাগান, কালীঘাটসহ কলকাতার বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন। তখন তো আর বাংলাদেশ–ভারত ছিল না। সবই ছিল এক। মোহনবাগান তখন উপমহাদেশের বড় ক্লাব। এখনো তারা বড় ক্লাব। সেই মোহনবাগানের নিয়মিত খেলোয়াড় ছিলেন আমার দাদা। মা–বাবার মুখে তাঁর অনেক গল্প শুনেছি।’

বগুড়ার শিবগঞ্জ থানার গাঙনগরের পোড়ানগরে নাবিবের গ্রামের বাড়ি। এলাকায় নাবিবদের পরিবারের বেশ সুনাম আছে। সবাই এই পরিবারকে ‘ফুটবল পরিবার’ হিসেবে জানে। এলাকায় তাঁর দাদার অনেক পরিচিতি ছিল। দাদা তিনবার দেউলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। তরুণ বয়সে তিনি বাড়ির পাশে সোনাতলা রেলস্টেশন থেকে ট্রেনে চেপে বসতেন কলকাতার পথে। সেসব গল্প শুনেই কিশোর নাবিবের মনে ফুটবলার হওয়ায় তীব্র ইচ্ছা জাগে। মোহনবাগান ক্লাবটাও তখন তাঁর মনে আলাদা জায়গা করে নেয়।

সেই ইচ্ছা তিনি পূরণ করেছেন। যদিও মা চাইতেন ছেলে মাদ্রাসায় পড়বে। কিন্তু নাবিব যাননি আরবি শিক্ষায়। ফুটবল ছিল তাঁর প্রথম ভালোবাসা। পেছন ফিরে নাবিব বলেন, ‘ফুটবল না খেললে হয়তো মাদ্রাসার লাইনেই চলে যেতাম।’

default-image

১৯৯৪ সালে যখন দাদা মারা যান, নাবিবের বয়স তখন চার কি পাঁচ বছর। দাদার স্মৃতি তাঁর মনে থাকার কথা নয়। নাবিব এ নিয়ে বলছিলেন, ‘দাদার কথা আমার মনে নেই সেভাবে। কারণ, আমি তখন খুবই ছোট। তবে হালকা হালকা যতটা মনে আছে, তাতে মনে পড়ে, দাদাই আমাকে প্রথম বল কিনে দিয়েছিলেন। সেই বল খেলতাম। বলসহ দাদার সঙ্গে আমার একটা ছবিও ছিল। কিন্তু আনেক আগের ছবি তো, নষ্ট হয়ে গেছে। এটা আমি পরে জেনেছি আমার বাবার কাছে। বাবা ওই ছবি দেখিয়ে বলেছেন, “তোর খুব ছোট বেলায় ওই বলটি তোর দাদা কিনে দিয়েছিলেন।” দাদার কারণেই আসলে আমার ফুটবলার হওয়ার ইচ্ছা জাগে।’

default-image

মোহনবাগানের বিপক্ষে মঙ্গলবারের ম্যাচে আবাহনীকে জেতাতে মরিয়া নাবিব। আজ কলকাতা থেকে ফোনে সেটাই তিনি বলছিলেন, ‘দাদার সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে এর আগেও খেলেছি। ২০১৭ সালে এএফসি কাপে আমরা কলকাতায় এসে মোহনবাগানের কাছে হেরেছিলাম। গোলটা হয়েছিল আমারই পাসে। তবে আগে গোল করেও আমরা ৩–১ গোলে হেরে যাই। এবার আর আমরা হেরে ফিরতে চাই না। এবার জয়ই একমাত্র লক্ষ্য। চাইব, দাদার সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে গোল করতে। যেভাবেই হোক, এবার দাদার ক্লাবকে হারাতে চাই। হারাতে পারলে সেটা হবে ব্যক্তিগতভাবে আমার একটা অর্জনও। মোহনবাগান ক্লাবটার কথা ছোটবেলায় কতবার যে শুনেছি, হিসাব নেই।’

গতকাল দুপুরে কলকাতায় পৌঁছার পর থেকে আরও বেশি শুনছেন। ম্যাচ ঘিরে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে হচ্ছে তাঁকে। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে বলছিলেন, ‘সবাই শুধু জিজ্ঞেস করছে, “আপনার তো মোহনবাগানের অধিনায়ক প্রীতম কোটালের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক। কিন্তু মাঠে কেমন লড়াই হবে?” আমি বলি, মাঠে কেমন লড়াই হবে, সেটা আর বলার কী আছে! মাঠে আমরা ওদের ছেড়ে দেব না। ওরাও ছাড়বে না। লড়াই জমবে।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন