২০১৮ সালের শেষ দিকে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান সোহেল রানার স্ত্রী ও শিশুসন্তান। সেই থেকে অনেক দিন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন সোহেল। আজ মোহামেডানের বিপক্ষে দলকে জেতানোর পর তাঁর মুখে হাসি দেখা গেল।

ম্যাচ শেষে প্রথম আলোকে বলেন, ‘যেহেতু ঢাকার দুই পরাশক্তির লড়াই, তাই আশা করেছিলাম ভালো কিছু করব। সেটা যে এভাবে বাস্তবে ফলে যাব, এমনটা ভাবিনি। ফাঁকা জায়গা পেয়েই আসলে শটটা নিয়েছিলাম। শটে গোল হলো। আমি ভীষণ আপ্লুত।’

default-image

এই বড় ম্যাচে আবাহনীর দানিয়েল কলিনদ্রেস গোল না পেলেও পায়ের সূক্ষ্ম কারুকাজ দিয়ে মুগ্ধ করেছেন দর্শকদের। ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার রাফায়েলের সঙ্গে দেওয়া–নেওয়া বলে দু–তিনবার বিপজ্জনকভাবে ঢোকেন মোহামেডান বক্সে। একবার বক্সে ঢুকে নাবিবকে বল দেন। কিন্তু বলের গতি বেশি থাকায় নাবিব বল পাননি।

আবাহনীর ৩ পয়েন্ট পাওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন গোলকিপার শহীদুল আলম সোহেল ও রক্ষণভাগ। শহীদুল বাঁচিয়েছেন মোহামেডানের ওকে মোনাকেরার ফ্রিকিক। ফলে এটি হয়ে যায় আসলে দুই সোহেলের ম্যাচ।

ওদিকে ইরানি স্টপার মিলাদ শেখ গোটা দুয়েক নিশ্চিত গোল বাঁচিয়েছেন। একবার মোহামেডান স্ট্রাইকার সোলেমান দিয়াবাতে বক্সে ঢুকে পড়েন। সামনে অহসায় শহীদুল আলম। এ সময় দারুণভাবে বলটা ক্লিয়ার করেন মিলাদ। আরেকবার গোলমুখে দিয়াবাতের কাছে বল যাওয়ার আগেই বিপদ মুক্ত করেন মিলাদ। ম্যাচ শেষে তাঁর প্রশংসা করেছেন আবাহনী কোচ মারিও লেমোস।

চোটের কারণে এদিন ছিলেন না আবাহনীর স্ট্রাইকার দরিয়েলতন গোমেজ। তাঁর জায়গায় এদিন স্ট্রাইকার হিসেবে খেলেছেন নাবিব নেওয়াজকে। নিজে গোল না পেলেও নাবিব একটি গোল করিয়েছেন। চোট কাটিয়ে আজ মাঠে ফেরা আবাহনীর ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার রাফায়েল আগস্তো চেষ্টা করছেন কলিনদ্রেসকে কিছু বল তৈরি করে দিতে। সফলও হয়েছেন বেশ কয়েকবার। তবে এই দুজনের যুগলবন্দীতে কোনো গোল আসেনি।

default-image

পেশাদার লিগে ঢাকার বাইরে এটি তৃতীয় আবাহনী–মোহামেডান ম্যাচ। ২০১৬ সালে প্রথম ম্যাচ গোপালগঞ্জে ২–১ গোলে জিতেছিল আবাহনী। গোল করেছিলেন সানডে ও লি টাক। গত বছর কুমিল্লায় ছিল ২–২।

এরপর আজ সিলেট ঢাকা ডার্বি জিতে নিল আবাহনী। মোহামেডান নিচ থেকে খেলাটা তৈরি না করে সেটপিসের দিকেই বেশি নজর দিয়েছিল। লম্বা থ্রো হয়েছে বেশ কয়েকটি। সেগুলো আবাহনী ভালোভাবেই সামলে নিয়েছে। তবে মোহামেডানের মাঝমাঠে ছিল না কোনো নিয়ন্ত্রণ। যে কারণে খুব পরিকল্পিত আক্রমণ তারা করতে পারেনি।

রেফারি আলমগীর সরকার শুরু থেকেই ম্যাচটা কড়া হাতে পরিচালনা করেছেন। প্রথম ৮ মিনিটেই দেখান ৫টি কার্ড। যার মধ্য দ্বিতীয় মিনিটেই তিনটি। আবাহনীর বক্সে দুই দলের খেলোয়াড়দের ধাক্কাধাক্কির জেরে মোহামেডানের দুজন ও আবাহনীর ডিফেন্ডার মিলাদ শেখকে কার্ড দেখান।

ম্যাচ যত গড়িয়েছে, ততই অবশ্য কার্ডের পরিমাণ কমে এসেছে। শেষ পর্যন্ত ভালোভাবেই শেষ হয়েছে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী দুই দলের লড়াই।
তবে গ্যালারির দিকে তাকিয়ে মনেই হয়নি এটি আবাহনী–মোহামেডান ম্যাচ।

গ্যালারিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে হাজারখানেক দর্শক ছিলেন। করোনাকালে গ্যালারিতে দর্শক আনার কোনো ঘোষণা নেই বাফুফের। কিন্তু স্থানীয় আয়োজকেরা স্টেডিয়ামের ফটক খুলে দিয়েছিলেন। তাই কিছু দর্শক ম্যাচ দেখার সুযোগ পেয়েছেন। করোনার দোহাই দিয়ে এই ম্যাচ নিয়ে স্থানীয়ভাবে ছিল না কোনো প্রচারও। ফলে গ্যালারির উত্তাপটা পাওয়া গেল না।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন