সাতসকালে টিম হোটেলে বিদায়ের সুর। লাগেজ নিয়ে কেউ নিজের ক্লাবে, কেউ-বা গ্রামের বাড়ি যেতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিমান টিকিটের নিশ্চয়তা পাননি বলে আপাতত শেখ জামাল ক্লাবেই গেছেন হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস। এক দিন পর দিনাজপুরে যাওয়ার কথা এই মিডফিল্ডারের। উইঙ্গার জাহিদ হোসেন নাশতার টেবিলে বসা। সামনে খাবার নিয়েও উদাস চোখে চেয়ে ছিলেন আকাশের দিকে।
ফাইনালে শেষ মুহূর্তের হারটা দুঃস্বপ্নের মতো তাড়া করে ফিরছে জাহিদকে, ‘যখন আমি উঠে গেলাম, মনে হচ্ছিল সব শেষ। প্রথমে হেমন্ত ব্যথা পেল। এরপর আমি। দুঃখে-কষ্টে রাতে একটুও ঘুমাতে পারিনি। চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি বলে সারা জীবন আক্ষেপ থাকবে।’ হেমন্তর দুঃখটা যেন একটু বেশিই। কেঁদেছেন তিনিও, ‘ফাইনালে খেলতে পারব না, এটা স্বপ্নেও ভাবিনি। সবাই আমার খেলা দেখার জন্য এসেছিল, কিন্তু আমি তখন মাঠেই ছিলাম না। চ্যাম্পিয়ন হলেও সান্ত্বনা পেতাম। অমন হারের পর অনেক কেঁদেছি।’ আগামী মার্চে এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ টুর্নামেন্টের বাছাই হবে ঢাকায়। ওই টুর্নামেন্টে ভালো করার আশায় আছেন হেমন্ত, ‘এসব ভুলে আমরা এখন সামনের দিকে তাকিয়ে। এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ টুর্নামেন্টে আশা করি এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে।’
শেষ মুহূর্তের গোলে দল হারায় নিজেকে কিছুতেই ক্ষমা করতে পারছেন না গোলকিপার শহীদুল ইসলাম সোহেল, ‘ভীষণ অপরাধবোধে ভুগছি। যে (ফাইজাত) গোলটা দিয়েছে হেডে ওর ফিনিশিংটা ছিল দুর্দান্ত। আমি চেয়েছিলাম ব্লক করতে, কিন্তু পারিনি। কী যে কষ্ট হচ্ছে তা বলে বোঝাতে পারব না। সারা জীবন এই দুঃখটা পোড়াবে।’
অধিনায়ক মামুনুল হতাশার মধ্যেও খুঁজছেন ইতিবাচক দিক, ‘এই টুর্নামেন্ট থেকে অনেক কিছু শিখেছি। আশা করছি লিগ ও ফেডারেশন কাপেও দর্শক হবে। ঢাকার বাইরে থেকে অনেকে কষ্ট করে খেলা দেখতে এসেছেন। এটা ফুটবলেরই জয়। হারের পরও দর্শক উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়েছে। দুঃখ শুধু প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে চ্যাম্পিয়নের ট্রফিটা নিতে পারলাম না।’
অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার এমিলির কাছে এই টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্স বাংলাদেশ দলের জন্য একটা প্রমাণ, ‘আন্তর্জাতিক ফুটবলে যে ভালো করতে পারি তারই প্রমাণ দিয়েছি আমরা। পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়েছি, আমাদের বড় প্রাপ্তি এটাই। এবার আমরা এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের বাছাইয়ের জন্য প্রস্তুত হতে চাই।’

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন