বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

১৯৭২-৭৩ মৌসুমে উয়েফা কাপের প্রথম দুই ম্যাচ হেরেছিল বার্সেলোনা। এরপর গত ৪৯ বছরে ইউরোপীয় পর্যায়ে কোনো টুর্নামেন্টে বার্সার শুরু এত ভয়াবহ হয়নি। চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনার দুটি ম্যাচ খেলে ১ পয়েন্টও পায়নি—সমর্থকদের কয়েকটা প্রজন্মের এমন কিছু দেখার অভিজ্ঞতা নেই। কোচ রোনাল্ড কোমানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা ওঠাটাই এ পর্যায়ে স্বাভাবিক। যদিও কিছুদিন আগেই বার্সেলোনা সভাপতি হুয়ান লাপোর্তা কোমানকে আশ্বস্ত করেছেন যে এখনই বার্সেলোনা বোর্ড কোনো কড়া সিদ্ধান্ত নেবে না। কিন্তু কাল বেনফিকার বিপক্ষে শোচনীয় হারের পর লাপোর্তা বা বার্সেলোনা বোর্ড যে অন্য চিন্তা করবে না, এ নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না।

কোমান অবশ্য কালও কথা বলেছেন; যদিও নিজের চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলাদা করে কিছু বলতে চাননি তিনি, ‘আমি আগেও বলেছি, আজও বলছি, বার্সেলোনার কোচ হিসেবে চাকরি নিয়ে আমার নতুন করে বলার কিছু নেই।’

default-image

কোমান এর পরপরই দাবি করেছেন, বার্সেলোনার সব খেলোয়াড়ই তাঁর সঙ্গে আছেন, ‘আমি কেবল আমার কাজ নিয়েই কথা বলতে পারি। আমি মনে করি, দলের খেলোয়াড়েরা সবাই আমার সঙ্গে আছে। তারা সবাই জিততে চায়।’

ক্লাবের ব্যাপারে কোমানের মন্তব্য, ‘ক্লাবের ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই তারা কী চিন্তা করছে। আমি এ ব্যাপারে কিছুই বলতে চাই না। এ ব্যাপারে কিছুই আমার হাতে নেই।’

বেনফিকার বিপক্ষে হারটা বার্সার জন্য হজম করা মুশকিল। কোমান অবশ্য এ হারের অজুহাত খুঁজছেন নানাভাবেই, ‘২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার আগপর্যন্ত আমরা ভালোই খেলেছি। আসলে আমরা গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারিনি। ম্যাচের ফলটা আসলে মাঠে যা ঘটেছে, তার প্রতিফলন নয়। তারা (বেনফিকা) তিনটি সুযোগ পেয়ে কাজে লাগিয়েছে, আমরা তেমনটা পারিনি, আসলে এটিই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।’

default-image

মেসির শোক যে কোমান এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি, সেটি কাল আবারও ম্যাচ শেষে বোঝা গেল। তিনি বার্সেলোনার এই মেসিহীন দলের সঙ্গে পূর্ববর্তী মৌসুমের বার্সার সঙ্গে তুলনা না করারই অনুরোধ জানিয়েছেন সবাইকে, ‘আমি আমার দলের মান সম্পর্কে কোনো কথা বলতে চাইছি না। তবে এটা বলতেই হবে, এই দলের সঙ্গে পূর্ববর্তী মৌসুমের বার্সার তুলনা করা খুবই বোকামি। এটা দিবালোকের মতোই সত্য।’

অধিনায়ক সের্হিও বুসকেতস অবশ্য কোমানের মতো এত অজুহাত দাঁড় করাচ্ছেন না। তিনি মনে করেন, গতকালের হার আবারও জানান দিয়েছে যে বার্সেলোনা এ মুহূর্তে খুবই বাজে অবস্থায় আছে, ‘সত্যি কথাটা হলো আমরা খুবই বাজে পরিস্থিতির মধ্যে আছি।’

এর জন্য অবশ্য বুসকেতস নিজেদের ঘাড়েই দায় নিতে চান, ‘অনেকেই এমনভাবে কথা বলছেন যেন কোচ বদলালেই সবকিছু পাল্টে যাবে। ব্যাপারটা তা নয়। বার্সেলোনা যে এ মুহূর্তে মাঠে বাজে খেলছে, এ জন্য আমরা সবাই দায়ী। কোচ কেন একা দায় নেবেন?’

তবে আশা এখনো দেখেন বার্সেলোনা অধিনায়ক, ‘মাত্র দুটি ম্যাচ গেছে। হ্যাঁ, এ দুই ম্যাচ আমরা হেরেছি। কিন্তু আমাদের তো উন্নতি করারও অনেক জায়গা আছে। আমাদের সেটিই করতে হবে।’

‘করতে হবে’, ‘হতে হবে’—মেসিহীন বার্সেলোনার সমর্থকেরা মৌসুমের শুরু থেকেই এসবই শুনে যাচ্ছে তাদের খেলোয়াড় ও কোচের কাছে। কিন্তু যেটি করতে হবে, সেটি করা হবে কবে বা যা হওয়ার দরকার, সেগুলো হবে কবে, বার্সেলোনার সমর্থকেরা কিন্তু সে উত্তর পাচ্ছে না।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন