বিজ্ঞাপন
default-image

গোলকিপার শহিদুল আলমের আর ভালো লাগছে না এই পরিবেশ। তাঁর মনে হচ্ছে, দোহায় পাঁচ তারকা হোটেলে নয়, আছেন পাঁচ তারকা জেলে! আজ সেটাই বললেন বাফুফেকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায়, ‘দোহা এসেই দেখছি, হোটেল আর মাঠ ছাড়া বেরোতে দিচ্ছে না। পাঁচ দিন ধরে হোটেলে সুইমিংও বন্ধ। মনটা একটু সতেজ করতে কোথাও যেতে পারছি না। মনে হয়, পাঁচ তারকা হোটেলে জেলে আছি।’

দশ বছরের জাতীয় দলের ক্যারিয়ারে কখনো এমন দেখেননি জানিয়ে চট্টগ্রামের ছেলে শহিদুল তাকিয়ে আছেন শেষ ম্যাচটার দিকে। বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশ শেষ ম্যাচ খেলবে ১৫ জুন ওমানের সঙ্গে। হোটেলে বন্দী জীবন নিয়ে হতাশার মধ্যে আবাহনীর গোলকিপার শহিদুল বলেন, ‘আমরা এখন শেষ ম্যাচ খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের সব মনোযোগই এখন ওমান ম্যাচের দিকে।’

default-image

তিনতলা হোটেলের দোতলায় রয়েছে বাংলাদেশ দল। একই হোটেলে ভারত ও আফগানিস্তানও আছে। হোটেলে কাতারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের লোকজন সার্বক্ষণিক ঘোরাফেরা করছেন। করোনাবিধি ভাঙা বা মাস্ক ছাড়া বের হচ্ছেন কি না কেউ, সবই নজরে রাখা হচ্ছে। ফুটবলারদের দেখা হচ্ছে খাবার ঘরে। সেখানে পাঁচ ফুট দূরে দূরে বসতে হচ্ছে। ফুটবলাররা জানান, দুই ঘণ্টা মাঠের অনুশীলন বাদ দিয়ে বাকি ২২ ঘণ্টাই কাটছে হোটেলে। এই ‘বন্দী জীবন’ খেলোয়াড়দের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করছে। তাঁদের নাকি অসুস্থ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা।

করোনার কারণে কাতার সরকারের আদেশে দোহায় বাংলাদেশ দলের হোটেলে সুইমিংপুল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। সুইমিংপুল থেকে করোনা ছড়াতে পারে, এমন বিশ্বাস কর্তৃপক্ষের। তা ছাড়া কর্তৃপক্ষ মনে করে, করোনা ছড়ালে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। ফলে কয়েক দিন ধরে হোটেলে সবার জন্যই সুইমিং পুলের দরজায় তালা।

default-image

আগে কখনো এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েননি ফুটবলাররা। এর আগে গত ডিসেম্বরে ফুটবলাররা যখন কাতারের সঙ্গে ম্যাচ খেলতে দোহায় ছিলেন, এতটা কড়াকড়ি ছিল না তখন। ওই সময় চাইলে হোটেলের মূল ফটকের বাইরে করিডরে একটু হাঁটাহাঁটি করা যেত। কিন্তু এবার সেটাও বন্ধ। এবার করোনার বিধিনিষেধ ও নিরাপত্তা আগের যাবতীয় আয়োজন ছাপিয়ে গেছে বলে দোহা থেকে জানিয়েছেন বাংলাদেশ দলের ফুটবলাররা।

তবে সব এক পাশে রেখে ১৫ জুন ওমান ম্যাচের জন্য নিতে হচ্ছে প্রস্তুতি। কিন্তু চোট ও করোনার কারণে দলের নিয়মিত বেশ কয়েকজন ফুটবলার ছিটকে গেছেন। ফলে নতুনদের ওপর দায়িত্ব বেড়েছে। মিডফিল্ডার আবদুল্লাহ বলছেন, ‘চোট ও করোনায় আমাদের কয়েকজন মিডফিল্ডার নেই। তাই আমরা যারা আছি, তাদের ওপর বড় দায়িত্ব। এটা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জও। এই চ্যালেঞ্জে জিততে পজিটিভ খেলতে চাই। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটা ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করছি। সেই ম্যাচের ভুল–ত্রুটি নিয়ে কোচ কাজ করছেন। ওমান অনেক ভালো দল। তবে আশা করি লড়াই হবে।’

সহকারী কোচ স্টুয়ার্ট ওয়াটকিস মনে করছেন, কাতারে অনেক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। শেষটা আরও কঠিন করে দিচ্ছে ওমান। চোট ও করোনায় ৮–৯ জন খেলোয়াড়ই দলে নেই জানিয়ে ওয়াটকিসের কথা, ‘ওমান অনেক শক্তিশালী দল। তবে আমরা তৈরি হচ্ছি। প্রস্তুতি ভালোই এগোচ্ছে।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন