হোসে মরিনহো যতই অস্বীকার করুন, কাগজে-কলমে এখনো দুই দলই লড়ছে সেরা চারে জায়গা করে নিতে। আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ম্যাচের গুরুত্ব তাই এমনিতেই বেশি। তাতে বাড়তি মসলা যোগ করেছে ডাগআউটের লড়াইও। আর্সেনালের ডাগআউটে আর্সেন ওয়েঙ্গার তো আছেনই, ইউনাইটেডের ডাগআউটে এবার এসেছেন তাঁর পুরোনো ‘শত্রু’ মরিনহো। কিন্তু সব ছাপিয়ে আর্সেনালের মাঠে আজকের ম্যাচটির আগে মনোযোগের কেন্দ্রে যেন শুধু মরিনহো আজ কোন দল নামাবেন, সেটিই।
চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে দুই দলই একটু পিছিয়ে আছে। ৩৩ ম্যাচে ৬০ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে আর্সেনাল। ইউনাইটেড এক ম্যাচ বেশি খেলে ৬৫ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচে। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগের টিকিট পেতে মরিনহোর একটা বিকল্প রাস্তাও আছে, যেটিকে এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে বেশ মসৃণ—ইউরোপা লিগ। সেমিফাইনালের প্রথম লেগে সেল্টা ভিগোর মাঠে ১-০ গোলে জিতেছে ইউনাইটেড, পরের লেগ আগামী বৃহস্পতিবার।
এই কারণেই কি না, এই ম্যাচে দ্বিতীয় পছন্দের একাদশই নামাতে চাইছেন ইউনাইটেড কোচ। লিগে সেরা চারের লড়াইয়ে আর অতটা আকৃষ্ট নন, সেল্টার মাঠে ম্যাচের পরই বলেছিলেন, ‘সোয়ানসির বিপক্ষে (লিগে) সর্বশেষ ম্যাচেই সেরা চারে থাকার শেষ সুযোগটা হারিয়েছি। আর যে খেলোয়াড়েরা এখানে (সেল্টার বিপক্ষে ম্যাচে) অনেক বেশি মিনিট খেলেছে, তারা আগামী সপ্তাহান্তে (আজ) খেলবে না।’
লোকটা মরিনহো বলেই এই কথায় একটু ঔদ্ধত্য খুঁজে পান অনেকে। বিশেষ করে ওয়েঙ্গারের বিপক্ষে তাঁর রেকর্ডটা যে অবিশ্বাস্য। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে কখনোই মরিনহোর কোনো দলকে হারাতে পারেননি ওয়েঙ্গার! কিন্তু ইউনাইটেড কোচই নিশ্চিত করেছেন, তাঁর দল আজ লড়াইয়ে এতটুকু ছাড় দেবে না, ‘আমরা তো আর আর্সেনালকে গিয়ে বলব না, “আমাদের ৫-০, ৬-০ গোলে হারাও”। আমরা লড়ব।’ কিন্তু তিনি মরিনহো, একটু খোঁচা না মারলে হয়! ঠিকই বলে দিলেন, ‘আমার মনে হয়, আর্সেনালের বিপক্ষে দলে অনেক বদল আনতে যাচ্ছি, এটা শুনলে তিনি (ওয়েঙ্গার) খুশিই হবেন।’
ওয়েঙ্গার খুশি হবেন। তবে সেটি ম্যাচের আগে ইউনাইটেডের দল দেখে যতটা, তার চেয়েও বেশি হবেন ইউনাইটেডের বিপক্ষে জিততে পারলে। জয়টা আর্সেনালের পাশাপাশি তাঁর নিজের জন্যও দরকার। মরিনহো-জুজু কাটাতে হবে না! সূত্র: গার্ডিয়ান।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন