বার্সেলোনার এ জার্সিতে আগামী মৌসুমে আর দেখা যাবে না লিওনেল মেসিকে?
বার্সেলোনার এ জার্সিতে আগামী মৌসুমে আর দেখা যাবে না লিওনেল মেসিকে?ছবি: রয়টার্স

চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির বিপক্ষে নিজেদের অস্তিত্বের লড়াইয়ে যখন নামছে বার্সেলোনা, ঠিক তখনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হইচই। একটি টুইট করেছেন আর্জেন্টাইন সাংবাদিক ক্রিস্তিয়ান মার্তিন। যা লিখেছেন, তাতে হইচইই পড়ে গেছে বার্সেলোনা সমর্থকদের মধ্যে। সদ্য নির্বাচিত বার্সেলোনা সভাপতি হুয়ান লাপোর্তাও নাকি চুক্তির মেয়াদ শেষে লিওনেল মেসিকে ধরে রাখতে পারবেন না। মেসি ন্যু ক্যাম্প ছাড়বেনই।

জুনে বার্সেলোনার সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে যাচ্ছে আর্জেন্টাইন তারকার। এরপর থেকেই মুক্ত তিনি। যেতে পারেন যেখানে খুশি। গত আগস্টে হঠাৎ করে ব্যুরোফ্যাক্সের মাধ্যমে মেসি জানিয়েছিলেন তিনি বার্সেলোনা ছাড়তে চান। এ নিয়ে বেশ কয়েক দিন নানামুখী জল্পনাকল্পনাও হয়েছে। কিন্তু বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষ মেসির সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। মেসি বার্সা ছাড়লে তাঁর বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ এনে আদালতে যাওয়া হবে—এমন হুমকিও দেওয়া হয়। পরে আইনি জটিলতা এড়াতে মেসি চুক্তির মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বার্সেলোনায় থেকে যাওয়ার কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

পরে এটি নিয়ে জল্পনাকল্পনা রয়েই গেছে। মেসি কি আসলেই চুক্তির মেয়াদ শেষে বার্সা ছেড়ে দেবেন? নতুন চুক্তি নিয়ে মেসি এখনো বার্সার সঙ্গে কোনো আলোচনাই শুরু করেনি। এটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে মেসি হয়তো নতুন চুক্তি করবেন না। এর মানে একটাই—মেসি আসলে বার্সেলোনায় আর থাকতেই চান না! কিন্তু মেসির যাঁকে নিয়ে সমস্যা ছিল, সেই সাবেক সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ তো পদত্যাগ করেছেন অনেক আগেই।

বার্তোমেউর পদত্যাগের পর বার্সেলোনায় নির্বাচন হয়েছে। মেসিও ভোট দিয়েছেন। নতুন সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন লাপোর্তা। এরপরও কেন মেসি এমন সিদ্ধান্ত নেবেন? ক্রিস্তিয়ান মার্তিন সে ব্যাখ্যা দেননি। হয়তো সেটা তাঁর জানাও নেই। তবে তিনি স্পষ্ট করেই টুইটারে লিখেছেন, ‘আমার সূত্র থেকে যে খবর তা হচ্ছে লিও মেসি বার্সেলোনায় থাকবেন না। এমনকি নতুন নেতৃত্বের অধীনেও নয়।’

default-image

লাপোর্তা সভাপতি হওয়ার আগে যা বলেছেন, সেই কথায়ও ইঙ্গিতটা সে রকমই ছিল। কাতালান ক্লাবটির সমর্থকদের তিনি মিথ্যা আশ্বাস দিতে চান না বলেই উল্লেখ করেছিলেন। লাপোর্তার কথাগুলো ছিল এ রকম, ‘আমি মিথ্যা আশা বিক্রি করতে চাই না। তাকে নতুন চুক্তির যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, সেটা এখনো বহাল আছে। কিন্তু সে নতুন চুক্তি করবে কি না, তা তার ওপরই নির্ভর করছে।’

কেন মেসি নতুন চুক্তির প্রস্তাব এখনো গ্রহণ করছেন না? অর্থকড়ি আর সুযোগ–সুবিধার বিষয়গুলো কি বুনছে না? লাপোর্তার উত্তর, ‘বিষয়টি অর্থকড়ির নয়।’ সমর্থকদের মিথ্যা আশ্বাস দিতে না চাইলেও লাপোর্তা নিজে এখনো আশা ছাড়ছেন না, ‘আমরা বড় একটি পরিবার। বড় খেলোয়াড়েরা বার্সেলোনাকে ভালোবাসে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।’ এরপর লাপোর্তা যোগ করেছেন, ‘আমার আশা মেসির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এ বিষয়টি সাহায্য করবে। আমরা চাই সে বার্সেলোনাতেই থেকে যাক।’

বিজ্ঞাপন

শেষ পর্যন্ত যদি বার্সেলোনায় না–ই থাকেন, মেসি তাহলে যাবেন কোথায়? ক্রিস্তিয়ান মার্তিনের কাছে সেই খবরও আছে বলেই মনে হচ্ছে। তিনি টুইটারে লিখেছেন, ‘ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এমএলএসে যাওয়ার আগে পিএসজি বা ম্যান সিটিতে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।’ আসলে ক্রিস্তিয়ান মার্তিনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগটা বেশ ভালো। এর আগেও মেসিকে নিয়ে এমন অনেক কথা তিনি বলেছেন, যেগুলো ঠিক হয়েছে। এ কারণেই ক্রিস্তিয়ান মার্তিনের টুইটকে পাত্তা না দিয়ে উপায় নেই!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন